ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

যে চার কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেতে পারবেন

দেহঘড়ি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:০৪, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০  
যে চার কারণে ডায়াবেটিস রোগীরা ফল খেতে পারবেন

যাদের ডায়াবেটিস শনাক্ত হয়েছে তারা এটা ভেবে কূল পান না যে ফল খাওয়া উচিত হবে কিনা। গবেষণা বলছে, ডায়াবেটিস রোগীরাও ফল খেতে পারবেন। এটা নিয়ে দুশ্চিন্তা করার কিছু নেই।

গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যান্ডি ও মিষ্টি পানীয়ের মতো ফল রক্ত শর্করার ওপর ততটা প্রভাব ফেলে না। এর কারণ হলো, শাকসবজির মতো ফলেও পানির পরিমাণ সবচেয়ে বেশি। পানির পাশাপাশি প্রচুর আঁশ থাকে। এসব আঁশ ফলের চিনিকে রক্ত শর্করায় রূপান্তরের প্রক্রিয়া ধীর করে। এর ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত না বেড়ে ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।

দ্য অল-ন্যাচারাল ডায়াবেটিস কুকবুকের লেখক জ্যাকি নিউজেন্ট বলেন, 'ফলে চিনি রয়েছে বলে অনেক ডায়াবেটিস রোগী দ্রুত সিদ্ধান্তে আসেন যে তাদের জন্য এটা স্বাস্থ্যকর নয়। কিন্তু এই রোগে খাদ্যতালিকায় গোটা ফল রাখা উচিত।'

বিশেষজ্ঞদের মতে, ফল ডায়াবেটিসের জন্য খারাপ কিছু নয়, বরং সহায়ক হতে পারে। রোগটি শনাক্ত হলে দুশ্চিন্তা ছাড়াই ফল খাওয়া যাবে। এর স্বপক্ষে কিছু বৈজ্ঞানিক কারণ খুঁজে পাওয়া গেছে।

প্রদাহ কমায়: কিছু ফলে ফেনলিক কম্পাউন্ড নামে বিশেষ পুষ্টি থাকে, যেখানে প্রদাহনাশক উপাদান রয়েছে। তেমন একটি ফল হলো নাশপাতি। গবেষণায় দেখা গেছে, এসব উপাদান রক্তপ্রবাহের মাধ্যমে চর্বি কোষে পৌঁছে বিভিন্ন জিন ও প্রোটিনকে প্রভাবিত করে। এটা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ভালো। ব্রিটিশ জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত ২০১৬ সালের গবেষণা অনুসারে, লাল আঙুর ও বেরির ফেনল প্রদাহ কমিয়ে দেয়।

ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়ায়: অনেক ফলে ফ্লেভানয়েড নামক পুষ্টি থাকে। ২০১৮ সালে মেডিসিন জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার রিভিউ বলছে, এসব পুষ্টি ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বৃদ্ধি করতে পারে। ইনসুলিন সেনসিটিভিটি বাড়িয়ে টাইপ ২ ডায়াবেটিসকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া যারা নিয়মিত ফল খান তাদের এই ধরনের ডায়াবেটিস বিকাশের ঝুঁকিও কম থাকে।

ওজন কমায়: যারা স্লিম হতে চান তাদের জন্য একটি কার্যকরি পরামর্শ হচ্ছে, প্রতিদিন প্লেটে পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি রাখতে হবে। পিএলওএস মেডিসিনে প্রকাশিত গবেষণায় জানা গেছে, দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শাকসবজির চাইতে ফল খাওয়ার গুরুত্ব সবচেয়ে বেশি। স্লিম হতে চাইলে খাদ্যতালিকায় বেরি, আপেল ও নাশপাতি রাখতে পারেন।অতিরিক্ত ওজনে ইনসুলিন সেনসিটিভিটি কমে যায়, ফলে রক্তে শর্করার পরিমাণ বেড়ে যায়। তাই ডায়াবেটিসকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওজন কমাতে হবে। 

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমায়: ডায়াবেটিস রোগীদের অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যার ঝুঁকিও বেশি, যেমন- স্ট্রোক ও হৃদরোগ। ডায়াবেটিস রক্তনালীর বিভিন্ন স্থানে প্যাথলজিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। সেরিব্রাল রক্তনালী সরাসরি প্রভাবিত হলে স্ট্রোক হতে পারে।গবেষণার উপাত্তে দেখা গেছে, যারা রক্ত শর্করাকে নিয়ন্ত্রণ রাখেননি তাদের গ্রুপে মৃত্যুহার বেশি ছিল। এমনকি স্ট্রোকের জটিলতাও বেশি লক্ষ্য করা গেছে। কিন্তু নিয়মিত শাকসবজি ও ফল খেলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, পাকস্থলির ক্যানসার ও বৃহদান্ত্রের ক্যানসারের ঝুঁকি কমে যায়।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়