Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     বুধবার   ১৬ জুন ২০২১ ||  আষাঢ় ২ ১৪২৮ ||  ০৩ জিলক্বদ ১৪৪২

করোনা জয়ের পর হার্টের সমস্যা

এস এম ইকবাল || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৪৪, ১০ জুন ২০২১   আপডেট: ১১:৪৬, ১০ জুন ২০২১
করোনা জয়ের পর হার্টের সমস্যা

করোনাভাইরাস দ্বারা সৃষ্ট সংক্রমণ কোভিড-১৯ হার্টের মাংসপেশির ক্ষতি করতে পারে এবং হার্টের কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এর কিছু কারণ রয়েছে। হার্টের কোষে এসিই-২ রিসেপ্টর রয়েছে, যেখানে করোনাভাইরাস কোষে প্রবেশের আগে সংযুক্ত হয়। এতে হার্টের ক্ষতি হয়। করোনার সংক্রমণে শরীরে উচ্চ মাত্রার প্রদাহও হার্টের ক্ষতি করে। শরীরের ইমিউন সিস্টেম যখন ভাইরাসের সঙ্গে লড়াই করে, তখন প্রদাহমূলক প্রক্রিয়ায় কিছু সুস্থ টিস্যুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এমনকি হার্টেরও।

করোনার সংক্রমণ শিরা ও ধমনীর ভেতরের পৃষ্ঠকেও প্রভাবিত করে। এর ফলে রক্তনালীতে প্রদাহ, রক্ত জমাটবদ্ধতা ও অন্যান্য ক্ষতি হতে পারে। এসবকিছু হার্টে বা শরীরের অন্যাংশে রক্ত চলাচল বিঘ্নিত করতে পারে।

হার্ট রেট ও কোভিড-১৯

করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থতার পর দ্রুত হৃদস্পন্দন বা বুক ধড়ফড় করলে চিকিৎসককে জানানো উচিত। বিভিন্ন কারণে সংক্রমণকালে কোভিড রোগীর হৃদস্পন্দনের হার (হার্ট রেট) সাময়িক বৃদ্ধি পেতে পারে, যেমন- শরীরে পানির অভাব। তাই করোনায় সংক্রমিত হলে প্রচুর পানি পান করতে হবে, বিশেষ করে জ্বর থাকলে। কোভিড-১৯ থেকে নিরাময়ের পরও দ্রুত হৃদস্পন্দন হতে পারে। দ্রুত বা অস্বাভাবিক হৃদস্পন্দনের উপসর্গ হলো- বুকের ধড়ফড়ানি বেড়ে যাওয়া, মাথাঘোরানো বা জ্ঞান হারাতে পারে মনে হওয়া ও বুকে অস্বস্তি।

কোভিড-১৯ নিরাময়ের পর হার্টে সমস্যা হলে বুঝবেন যেভাবে

জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ও হৃদযন্ত্র বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি সুসান বলেন, ‘কোভিড-১৯ থেকে সুস্থতার পর অনেকেই অনেক উপসর্গে ভুগছেন বলে জানান। এসব উপসর্গের বহুবিধ কারণ থাকতে পারে। করোনার সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়ার পর তীব্র দুর্বলতা একটি প্রচলিত উপসর্গ হয়ে গেছে। কেবল কোভিড-১৯ নয়,  এটা যেকোনো গুরুতর রোগের নিরাময় পরবর্তী উপসর্গ হতে পারে। এছাড়াও করোনা জয়ী অনেকেই শ্বাসকষ্ট, বুক ব্যথা বা বুক ধড়ফড়ের অভিযোগ করেছেন। আগে থেকেই হার্টের সমস্যা থাকলে এসব উপসর্গে ভুগতে পারেন, কারণ করোনার সংক্রমণে হার্টের অবস্থা আরো খারাপ হয়েছে। কিন্তু কোভিড-১৯ এর মতো গুরুতর সংক্রমণের নিরাময় পরবর্তী প্রতিক্রিয়া হিসেবে দীর্ঘসময় নিষ্ক্রিয়তায় কাটালে এবং সপ্তাহের পর সপ্তাহ বিছানায় বিশ্রাম নিতে হলেও উপসর্গগুলো দেখা দিতে পারে।’

যারা কোভিড-১৯ থেকে সুস্থ হয়েছেন তাদের কারো কারো পোস্টুরাল অর্থোস্ট্যাটিক ট্যাকিকার্ডিয়া সিন্ড্রোমের (পিওটিএস) উপসর্গ দেখা গেছে। চিকিৎসকেরা কোভিড-১৯ ও পিওটিএসের মধ্যে যোগসূত্র আছে কিনা খুঁজে দেখছেন। পিওটিএস সরাসরি হার্টের সমস্যা নয়, কিছু স্নায়ুতাত্ত্বিক সমস্যাকে বোঝাতে টার্মটি ব্যবহার করা হয়। এটি অনৈচ্ছিক স্নায়ুতন্ত্রের কার্যক্রমকে প্রভাবিত করতে পারে, যেমন- হৃদস্পন্দন হার ও রক্তচাপ। পিওটিএস নিয়ে বসা থেকে দাঁড়ালে খুবই দুর্বল লাগতে পারে অথবা মাথাঘোরাতে পারে। এই সিন্ড্রোমের আরো কিছু লক্ষণ হলো- দাঁড়ালে দ্রুত হৃদস্পন্দন হওয়া, বুক ধড়ফড় করা, চিন্তাভাবনা অস্পষ্ট হওয়া ও চেতনা হারাতে পারে মনে হওয়া।

করোনা জয়ের পর হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বেশি?

এটা নির্ভর করছে হার্ট অ্যাটাকের ধরনের ওপর। হার্টের ধমনীতে রক্ত জমাট বেধে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হলে টাইপ ১ হার্ট অ্যাটাক হয়। কোভিড-১৯ থেকে সুস্থতার পর এরকম হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বিরল। ডা. সুসান জানান, ‘কোভিড-১৯ থেকে সুস্থতার পর টাইপ ২ হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি টাইপ ১ এর চেয়ে বেশি। হার্টের ওপর বাড়তি চাপ পড়লে টাইপ ২ হার্ট অ্যাটাক হয়ে থাকে। দ্রুত হৃদস্পন্দন হলে ও অক্সিজেন কমে গেলে হার্টের ওপর চাপ বাড়তে পারে। তবে করোনাকে জয়ের পর এই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিও বেশি নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘কোভিড রোগীর রক্ত পরীক্ষায় ট্রপোনিনের উচ্চমাত্রা দেখা গেছে। হার্টের টিস্যুর ক্ষতি হয়েছে কিনা তা বোঝার অন্যতম লক্ষণ হলো উচ্চমাত্রার ট্রপোনিন। কখনো কখনো হার্ট অ্যাটাক হলেও ট্রপোনিন বেড়ে যায়। যারা কোভিড-১৯ থেকে সেরে ওঠেছেন তাদের রক্ত পরীক্ষায় ট্রপোনিনের উচ্চমাত্রা তেমন লক্ষ্য করা যায়নি।’

হার্টের উপসর্গে কখন জরুরি বিভাগে যাওয়া উচিত?

করোনার সংক্রমণ নিরাময়ের পর নিজেকে সম্পূর্ণ শতাংশে ঝুঁকিমুক্ত মনে না করে সচেতন থাকা উচিত, কারণ কোভিড পরবর্তী জটিলতার কেসও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পাওয়া গেছে। বিশেষ করে হার্টের উপসর্গকে মোটেই অবহেলা করা যাবে না। হঠাৎ শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, অক্সিজেন স্যাচুরেশন ৯২ শতাংশের নিচে হলে এবং ঠোঁট বা মুখমণ্ডল নীল হলে জরুরি নম্বরে কল করতে হবে। ডা. সুসান বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট সবসময় মারাত্মক সমস্যার লক্ষণ নয়, কিন্তু অক্সিজেন কমে ৯২ শতাংশের নিচে নামলে জরুরি সেবা পাওয়ার কথা ভাবতে হবে।’

বুকে তীব্র ব্যথা হলে এবং এর সঙ্গে বমিভাব, শ্বাসকষ্ট, জ্ঞান হারানোর অনুভূতি ও ঘাম ঝরলেও জরুরি বিভাগের চিকিৎসা প্রয়োজন হবে। এ প্রসঙ্গ ডা. সুসান জানান, ‘বুকের ব্যথাও সবসময় উদ্বেগজনক হয় না, কিন্তু তীব্র বুকব্যথার সঙ্গে বমিভাব, শ্বাসকষ্ট বা চেতনা হরাতে পারে মনে হলে জরুরি বিভাগে যেতে হবে। এগুলো হার্ট অ্যাটাকের উপসর্গ হতে পারে।’

শোয়াতে বা পরিশ্রমে শ্বাসকষ্ট হলে, শ্বাসকষ্টের পাশাপাশি দুর্বল লাগলে বা পা/গোড়ালি ফুলে গেলে এবং রাতে ঘনঘন প্রস্রাব করলে চিকিৎসককে জানাতে হবে।এগুলো হার্ট ফেইলিউরের লক্ষণ হতে পারে। বুকে প্রতিনিয়ত মৃদু ব্যথা করলে বা সময় পরিক্রমায় ব্যথা বাড়তে থাকলে এবং পরিশ্রমে অনুভূত বুকের ব্যথা বিশ্রামাবস্থায় দূর হয়ে গেলেও চিকিৎসককে জানানো উচিত।

ঢাকা/ফিরোজ

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়