ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৫ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

শিগগিরই ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটি

আরিফ সাওন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৩ ৯:২৬:৩৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১০ ৪:৪১:৩০ পিএম

আরিফ সাওন : অস্থির পরিস্থিতির পর স্বস্তির খবর। বিএনপির শীর্ষ নেতাদের মধ্যস্থতায় ছাত্রদলের সংকট নিরসনের পথে। ছাত্রদলের যেসব নেতাকর্মী আন্দোলন করছিলেন, তারাই সংবাদ সম্মেলন করে জানিয়েছেন, তারা দলীয় সিদ্ধান্তের প্রতি অনুগত থাকবেন এবং লন্ডনে থাকা দলের শীর্ষ নেতা তারেক রহমানের নির্দেশনা মেনে চলবেন। 

তবে আন্দোলনকারীদের কিছু দাবি আছে। দল থেকে সে দাবিগুলো বিবেচনার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি অনুযায়ী, স্বল্পমেয়াদী আহ্বায়ক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে। শিগগিরই কমিটি গঠন হতে পারে।

গত ৩ জুন সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ছাত্রদলের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি ভেঙে কাউন্সিলের মাধ্যমে নতুন কমিটি গঠনের কার্যক্রম শুরু করার কথা জানায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে এ কার্যক্রমে মূল প্রতিবন্ধকতা পদপ্রত্যাশীদের বয়স। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়, কাউন্সিলে প্রার্থী হতে হলে ২০০০ সালের পরে এসএসসি পাস হতে হবে।

বিএনপির এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ছাত্রদলের সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতারা বয়সসীমা অনুসরণ না করে নিয়মিত কমিটি গঠনের দাবিতে গত ১১ জুন থেকে আন্দোলন শুরু করেন। এ সময় বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীকে লাঞ্চিত করা, কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া, ছাত্রদলের ১২ নেতাকে বহিষ্কার করার ঘটনা ঘটে।

বিএনপির পক্ষ থেকেও বিক্ষুব্ধ ছাত্রদল নেতাদের প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগর বিএনপি, যুবদল, স্বেচ্ছাসেবক দল এবং নতুন কমিটির প্দপ্রত্যাশীদের দিয়ে বিএনপি কার্যালয়ে পাহারা বসানোর সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়। দুই পক্ষই মারমুখি অবস্থানে চলে যায়।

সংগঠনের এমন সংকটে লন্ডনে থাকা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিএনপির তিন শীর্ষ নেতাকে আলোচনার মাধ্যমে সংকট সমাধানের দায়িত্ব দেন। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল এ দায়িত্ব পেয়ে আন্দোলনকারীসহ ছাত্রদলের কমিটি গঠনের জন্য গঠিত সার্চ কমিটির নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেন। এতে আন্দোলনকারী নেতারা এই তিন নেতার প্রতি আস্থা প্রকাশ করেন। ফলে সামনের দিকে এগোয় সমাধানের আলোচনা।

সেই আলোচনার সুফল বুধবারের সংবাদ সম্মেলন। নয়পল্টনে আন্দোলনকারী নেতাদের অন্যতম ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ছাত্রদলের সভাপতি এ এ জহির উদ্দিন তুহিন লিখিত বক্তব্যে বলেন, কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা আমাদেরকে ব্যথিত ও মর্মাহত করেছে। এ ধরনের ঘটনায় দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। এটা অনাকাঙ্ক্ষিত, কারো জন্য কাম্য নয়।

তিনি বলেন, দলের অনুগত এবং বিশ্বস্ত কেউ এ ঘটনা ঘটাতে পারে বলেও মনে হচ্ছে না। এলোমেলো পরিস্থিতির কারণে সংঘটিত বিষয়ে জন্য আমরা দুঃখ প্রকাশ করছি। একই সাথে দলীয় সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অনুগত থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশনাবলী পালনে অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি। আমরা নিম্ন স্বাক্ষরকারীগণ সংগঠিত বিষয়ে জড়িত নই।

লিখিত বিবৃতিতে বহিষ্কৃত ১২ নেতাসহ ২৬ জন সাবেক ছাত্রনেতার স্বাক্ষর রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদলের সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি সদ্য বহিস্কৃত এজমল হোসেন পাইলট, ইখতিয়ার রহমান কবির, মামুন বিল্লাহ, জয়দেব জয়, যুগ্ম সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ, বায়েজিদ আরেফিন, শামসুল আলম রানা, কাজী মোখতার হোসেন, সহ সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আজম সৈকত, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক বাশার সিদ্দিকীসহ শতাধিক নেতা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনের পরপরই বিলুপ্ত কমিটির নেতারা গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের কার্যালয়ে যান। সেখান থেকে তারা মির্জা আব্বাসের বাসায় গিয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে অবহিত করেন। সিনিয়র নেতারাও বিগত দিনের আন্দোলনে তাদের সক্রিয় ভূমিকার জন্য তাদেরকে মূল্যায়নের আশ্বাস দেন। অল্প সময়ের ব্যবধানে ১২ নেতার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার এবং তাদেরকে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি গঠনের বিষয়েও ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

বিলুপ্ত কমিটির নেতারা জানান, দলের স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলালের আন্তরিকতা ও প্রচেষ্টায় সংকট সমাধান সম্ভব হচ্ছে। তাদের মতো করে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা এ বিষয়ে আরো আগে সক্রিয় হতে পারলে সমস্যাটা এতদূর গড়াতো না।


রাইজিংবিডি/ঢাকা/৩ জুলাই ২০১৯/সাওন/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন