ঢাকা, মঙ্গলবার, ২৭ কার্তিক ১৪২৬, ১২ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

ডিজিটাল লিঙ্কেজে আসছে বাজেট সম্পর্কিত সব সংস্থা

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-০৭-০৯ ৮:০৯:৪২ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-০৭-১৪ ৮:২১:৩৪ পিএম

হাসান মাহামুদ : দেশের অর্থনীতির আকার বাড়ছে, এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বাজেটের আকার। তাই বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালী এবং ডিজিটাল করছে সরকার। তৈরি করা হচ্ছে একটি ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম। এ সিস্টেমের মাধ্যমে বাজেট সংক্রান্ত সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থাকে ডিজিটাল লিঙ্কেজের মাধ্যমে একই প্লাটফর্মে আনা হবে। সিস্টেম পরিচালনার জন্য প্রস্তুত করা হবে পর্যাপ্ত ম্যানুয়াল ও প্রটোকল।

এরই মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সম্পন্ন হয়েছে ডিজাইন ও ডেভেলপমেন্ট। সফটওয়্যার পরীক্ষামূলকভাবে চলার জন্য শিগগিরই হাতে নেওয়া হবে একটি পাইলটিং কর্মসূচি। এ লক্ষ্যে ডাটাবেজ প্রণয়নের কাজও প্রায় শেষ পর্যায়ে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য ও জ্যেষ্ঠ সচিব ড. শামসুল আলম বলেন, আমাদের প্রবৃদ্ধি বাড়ছে। নতুন নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রয়োজন হচ্ছে। এ অবস্থায় বাজেট ব্যবস্থাপনা হালনাগাদ করা প্রয়োজন। যেমন: অধিকাংশ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ মধ্যমেয়াদি বাজেট কাঠামোর (এমটিবিএফ) সীমা অতিক্রম করে প্রকল্প নিচ্ছে। এতে অনেক প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় অর্থ মিলছে না। এ কারণে আর্থিক শৃঙ্খলা ও বাজেট ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এমটিবিএফ সীমার মধ্যে থেকে প্রকল্প নেয়া প্রয়োজন। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন বা এডিপি বাস্তবায়ন এবং সংশোধিত এডিপি নিয়ে কাজ করার ক্ষেত্রেও আমাদের এখন সময় ব্যয় কমিয়ে আনা প্রয়োজন। এসব বিষয় বিবেচনায় হালনাগাদ বাজেট ব্যবস্থাপনার বিকল্প নেই।

তিনি বলেন, যদিও আমরা শক্তিশালী একটি পদ্ধতির মধ্য দিয়ে কাজ করছি। কিন্তু প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতার তো কোনো বিকল্প নেই। এসব বিবেচনায় ‘নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন বাজেট ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজ চলছে।

কমিশন সূত্রে জানা গেছে, সরকারের ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ স্লোগান এবং বর্তমান তথ্যপ্রযুক্তির যুগের সাথে সামঞ্জস্য রেখে ডিজিটাল প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিকল্পনা কমিশনকে কাগজমুক্ত করতে চায় সরকার। অর্থাৎ পেপারলেস পরিকল্পনা কমিশন প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি।

প্রকল্পের পটভূমি থেকে জানা যায়, প্রকল্পটির মাধ্যমে এডিপি ও সংশোধিত এডিপি প্রণয়ন প্রক্রিয়ায় আধুনিক এমআইএস সহায়তা দেয়া হবে। এজন্য একটি নতুন ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (ডিবিএমএস) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এছাড়া, বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি), অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) ও অর্থ বিভাগের বিদ্যমান ডাটাবেজের সঙ্গে ডিজিটাল লিংকেজ স্থাপন করা হবে। এ কাজে সম্পৃক্ত অন্যান্য সংস্থাগুলোও থাকবে একই অনলাইন মাধ্যমে স্থাপিত প্রটোকলের আওতায়।

একটি কার্যকর নলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (কেএমএস) স্থাপনসহ ডাটাবেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত ম্যানুয়াল ও প্রটোকল প্রস্তুত করা হবে। উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও শিক্ষা কর্মসূচির মাধ্যমে বাজেট ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা হবে।

প্রকল্প পরিচালক ও পরিকল্পনা কমিশনের যুগ্ম প্রধান মো. ছায়েদুজ্জামান এ বিষয়ে রাইজিংবিডিকে বলেন, অর্থবছরের এডিপিভুক্ত প্রকল্পসমূহের বরাদ্দ বাড়ানো বা কমানোর কাজটি এখন থেকে প্রতি বছর ১৫ জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার সরকরি সিদ্ধান্ত রয়েছে। সেক্ষেত্রে শেষদিকে এসে প্রকল্প সংক্রান্ত কাজ জমে যায়। এ সংক্রান্ত সকল সংস্থা ডিজিটালভাবে সংযুক্ত থেকে কাজ করলে প্রচুর সময়ের অপচয় রোধ হবে, পাশাপাশি কাজে স্বচ্ছতাও আসবে।

তিনি বলেন, প্রকল্পটির প্রধান প্রধান অংশগুলো হচ্ছে- নতুন ডিজিটাল ডাটাবেজ ও এমআইএস স্থাপন, দক্ষতা উন্নয়ন ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নলেজ ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম প্রতিষ্ঠা করা।

জানা গেছে, ডাটাবেজ প্রণয়নের জন্য আইবিসিএস-প্রাইম্যাক্স নামক প্রতিষ্ঠানকে গত বছরের ১৪ আগস্ট নিয়োগ করা হয়। আগামী ১৩ আগস্টের মধ্যে কার্যক্রম শেষ করার কথা।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন বিভাগ। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে (জিওবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৯ কোটি ৮ লাখ টাকা। প্রাথমিক পর্যায়ে এর ব্যয় ধরা হয়েছিল ৩৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। পরবর্তীতে কিছুটা ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পটি অনুমোদন দেয়া হয়। এর বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০১৭ সালের এপ্রিল থেকে ২০২০ সালের মার্চ পর্যন্ত।

 

রাইজিংবিডি/ঢাকা/৮ জুলাই ২০১৯/হাসান/রফিক

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন