ঢাকা, রবিবার, ৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ অক্টোবর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

আ.লীগে কঠোর বার্তা

এসকে রেজা পারভেজ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-০৮ ১২:৩৬:৪৫ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-০৮ ৯:০১:০৮ পিএম

আওয়ামী লীগের ভেতরে ‘শুদ্ধি অভিযান’ শুরুর পর সব মহলে একটি প্রশ্ন আলোচনায় ছিলো যে, দলের শীর্ষ পর্যায়ের যাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে কি না? ক্যাসিনো ব্যবসায় সম্পৃক্ততার দায়ে যুবলীগের প্রভাবশালী নেতা ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট আটক হওয়ার পর সেই প্রশ্নের উত্তরও মিলেছে। এর মাধ্যমে সমালোচক মহলে আওয়ামী লীগ সেই বার্তা দিতে পেরেছে যে, অন্যায়কারী যে-ই হোক ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযোগ প্রমান হলে তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।  

একই সঙ্গে দলের মধ্যেও একটা বার্তা গেলো, ‘দল ও পদের নাম’ বেঁচে খাওয়ার দিন শেষ। এর মাধ্যমে ভবিষ্যতে যারা নেতৃত্বে আসবেন, তাদের জন্যও বিষয়টি টনিক হিসেবে কাজ করবে। সম্রাটকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে কার্যত কঠোর বার্তা এলো-এমনটি মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

আওয়ামী লীগ ও সরকার প্রধান শেখ হাসিনার এই দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন দলটির সর্বস্তরের নেতাকর্মীরা। তারা বিশ্বাস করেন, এর মাধ্যমে দলের যেসব স্বচ্ছ ভাবমুর্তির নেতারা কোনঠাসা ছিলেন, তারা সামনের সারিতে আসবেন আগামীতে। সহযোগী সংগঠনগুলোর আগামী সম্মেলনগুলোতে তারাই শীর্ষ পদগুলোতে জায়গা পাবেন।   

দলটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। সম্রাটের গ্রেপ্তার হওয়া এর জ্বলন্ত উদাহরণ। বলেছিলাম, তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেলে, গ্রেপ্তারের মতো অবস্থা হলে অপরাধে জড়িত সে যেই হোক তাকে গ্রেপ্তার করা হবে।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে দুর্নীতির অভিযোগে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব বদলের সিদ্ধান্তের পাশাপাশি যুবলীগের কয়েকজন নেতার কর্মকান্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এর দু’দিন পর ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে ঢাকায় ক্যাসিনোর ব্যবসার বিরুদ্ধে অভিযানে নামে র্যাব। সেই অভিযানের সর্বশেষ গ্রেপ্তার হলে যুবলীগ ঢাকা মহানগর দক্ষিনের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাট।

নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বলছে, স্বল্প সময়ে মধ্যে গ্রেপ্তার হতে পারেন আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠনের আরো কয়েকজন নেতা, যাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। সেই তথ্য-উপাত্ত ও গোয়েন্দা প্রতিবেদন দলীয় প্রধানের হাতে রয়েছে। এ নিয়ে সহযোগী সংগঠনগুলোর নেতাদের মধ্যে একপ্রকার আতঙ্ক বিরাজ করছে। আতঙ্কে অনেকেই এরই মধ্যে গা ঢাকা দিয়েছেন। কেউ কেউ ফোনও বন্ধ করে দিয়েছেন। যোগাযোগ আর চলাচলও সীমিত করে দিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আর আগের মতো কর্মকান্ড নেই। রোববার সম্রাট ও আরমান গ্রেপ্তার হওয়ার এসব নেতারা গ্রেপ্তার আশঙ্কায় রয়েছেন। এরপর কে আটক হচ্ছেন-সেটিই নিয়েই দলে এখন বেশি আলোচনা। অভিযোগের তালিকায় আছেন কি না, কেউ কেউ  সেটিও আপাতত বোঝার চেষ্টা করছেন। শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। কিন্তু এ সম্পর্কে দায়িত্বশীল কেউ সঠিক তথ্য দিতে পারছে না তাদের।   

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্যত তারা নিজেরাও আঁচ করতে পারছে না, আসলে কি ঘটতে যাচ্ছে। কারন দুর্নীতি বিরোধী অভিযান সম্পর্কে নেতারা কিছুটা ইঙ্গিত পেলেও সেটি কেমন হবে, সে সম্পর্কে কোনো তথ্য নেই তাদের কাছে। সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ার পর যখন তার প্রশ্রয়দাতাদের খোঁজখবর নেয়ার কথা গণমাধ্যমে আসছে তখন তারা কৌতুহলী হয়ে উঠছেন। মুলত পুরো অভিযান নিয়ে দলের শীর্ষ নেতারাও একপ্রকার অন্ধকারে রয়েছেন। দুর্নীতির অভিযোগে সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার নাম আলোচনা ওঠার কারনে বিষয়টি নিয়ে তারা এতোটাই বিব্রত যে, এই বিষয়ে গণমাধ্যমে সামনে কোনো কথাই বলতে চাচ্ছেন না।

আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সম্রাট গ্রেপ্তার হওয়ায় নেতাকর্মীদের কাছে বিষয়টি ‘সারপ্রাইজ’ বার্তা হিসেবে এসেছে। কারন অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছিলেন শেষ পর্যন্ত সম্রাট হয়তো গ্রেপ্তার নাও হতে পারে। তবে রোববার তাদের সেই ধারনা ভেঙেছে। তবে দলের সভাপতি শেখ হাসিনা যে শুদ্ধি অভিযান শুরু করেছেন, তাতে সর্বাত্মক সমর্থন আছে নেতাকর্মীদের। তারা বলছেন, দুর্নীতি বিরোধী এই অভিযান সঠিক সময়ে শুরু হয়েছে। ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন এবং এর আগে চারটি সহযোগী সংগঠনের সম্মেলনও রয়েছে। সম্মেলনের আগে দুর্নীতিবাজ চিহ্নিত হলে পরিচ্ছন্ন ভাবমুর্তির নেতাদের জন্য ভালো হবে। তারা আশা করছেন, দলীয় প্রধান শেখ হাসিনার হাত ধরেই নতুন এক আওয়ামী লীগের দেখা পাবেন।

এ সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, দূর্নীতির চক্র বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই অভিযান চলবে। গ্রেফতার অভিযান চলছে, চলবে। এটা কোনো দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযান না। যারা দূর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত, তাদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। যারা দুর্নীতি ও দূর্বৃত্তায়নের সঙ্গে জড়িত সবার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এটা সরকারের ইচ্ছা, এতে সরকার সংকল্পবদ্ধ  ‘

“এই লক্ষকে সামনে রেখে শুদ্ধি অভিযান শুরু হয়েছে। সরকারের অভিযান শুরু হয়েছে যতক্ষণ পর্যন্ত দুর্নীতির চক্র ভেঙ্গে দিতে না পারবো ততক্ষণ অভিযান চলবে। এ অভিযান কোনো দল, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নয়, এ অভিযানে যে অপরাধী তাকেই আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।”

 

ঢাকা/পারভেজ/নাসিম

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন