ঢাকা, মঙ্গলবার, ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ১৯ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

উপসাগরীয় শ্রমবাজারে ফের নজর দিচ্ছে সরকার

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১১-০৮ ৮:২১:২৯ এএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১১-০৮ ৭:৫৮:৪০ পিএম
ফাইল ফটো

একসময় বাংলাদেশ থেকে জনশক্তি রপ্তানিতে আস্থার জায়গা ছিল উপসাগরীয় ছয় দেশ।  কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভিসা জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণে ক্রমেই সংকুচিত হয়ে এসেছে এ শ্রমবাজার।  এসব শ্রমবাজার পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।  তৈরি করা হচ্ছে কর্মপরিকল্পনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা ‌গেছে, শ্রমবাজারের দুর্দিন কাটিয়ে উঠতে সরকারের পক্ষ থেকে নানা উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।  এ বিষয়ে গুরুত্ব দিতে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন দূতাবাসকে অবহিত করা হয়েছে।  দূতাবাসের লেবার উইংগুলোকে আরো বেশি তৎপর হওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ কাজে সমন্বয় করা হচ্ছে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়কেও।  কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কাজ করা হচ্ছে বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গতি হা‌‌রিয়ে ফেলা বিভিন্ন শ্রমবাজার পুনরায় চালুর বিষয়ে।  এক্ষেত্রে জোর দেয়া হচ্ছে উপসাগরীয় দেশগুলোর শ্রমবাজারের প্রতি।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মনিটরিং ও এনফোর্সমেন্ট) সাবিহা পারভীন বলেন, প্রবাসীদের উপার্জিত আয় তথা রেমিট্যান্স আমাদের জাতীয় আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই সরকারের পক্ষ থেকে, শ্রমবাজার সৃষ্টির পাশাপাশি নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করা হয়।

তিনি বলেন, সরকার সবসময় নতুন নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে আন্তরিক। পাশাপাশি পুরনো শ্রমবাজার আরো বিস্তৃত করার লক্ষ্যেও আমরা কাজ করছি। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো আমাদের অন্যতম শ্রমবাজার। এই অঞ্চলের বন্ধ এবং গতিহারানো শ্রমবাজারকে প্রাধান্য দিয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কাজ করা হচ্ছে।

উপসাগরীয় অঞ্চলের শ্রমবাজারের মধ্যে অন্যতম হচ্ছে- সৌদি আরব, আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, বাহরাইন, কুয়েত ও কাতার। কূটনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে নতুন শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে কাজ করা হচ্ছে।  পাশাপাশি জোর দেয়া হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যের বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং গতি হারানো শ্রমবাজার নিয়ে।

এরই মধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ওইসব দেশের হাইকমিশনারকে নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে।  দূতাবাসগুলো থেকে, শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রণালয়কে অবহিতও করা হয়েছে।  এছাড়া কিছু দূতাবাস চলমান শ্রমবাজার অব্যাহত রাখা এবং সুনাম বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন সুপারিশ দিয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, বন্ধ শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সরকারের উদ্যোগের ক্ষেত্রে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে সৌদি আরবে প্রবাসীদের জন্য কঠোর নিয়ম করায়।  মন্ত্রণালয়ের হেল্প ডেস্কের তথ্য মতে, গত ১০ মাসে দেশটি থেকে ২০ হাজারের বেশি প্রবাসী বাংলাদেশে ফিরেছে।

সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় শ্রমবাজার।  গত বছরের মাঝামাঝি থেকে দেশটিতে জনশক্তি প্রেরণের গতি থমকে যায়। এরপর থেকে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নিয়মিত যোগাযোগও করা হয়। জানা গেছে, ২০১৮ সালে অনিবন্ধিত প্রবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর নিয়ম চালু হওয়ায় বিদেশি শ্রমিকদের চাকরি থেকে বাদ দিতে থাকে সৌদি আরবের স্থানীয়রা। এর সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়ে বাংলাদেশিদের ওপর।

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এখন নিবন্ধিত শ্রমিক নিয়ে কাজ করতে চায়।  সৌদি আরব শ্রমিক নিবন্ধন করবে।  তখন আবার দেশটির বাজার বাংলাদেশের জন্য স্বাভাবিক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণব্যুরো (বিএমইটি) সূত্রে জানা যায়, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত ২৫ লাখ ৫৮ হাজার ৪৬৩ জন বাংলাদেশি সৌদি আরবে যান।  কিন্তু ২০০৮ সাল থেকেই নতুন করে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব।  ফলে ২০০৭ সালে যেখানে দুই লাখ চার হাজার ১১২ জন এবং ২০০৮ সালে এক লাখ ৩২ হাজার কর্মী সৌদি আরবে যায়।  সেখানে ২০০৯ সালে মাত্র ১৪ হাজার ৬৬৬ জন কর্মী যায় দেশটিতে।  ২০১৪ সাল পর্যন্ত একই পরিস্থিতি অব্যাহত ছিল।  ২০১৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে দেশটি।  ফলে আবারো দেশটিতে গমনের হার বাড়তে থাকে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম আরেকটি বড় শ্রমবাজার কাতার বাংলাদেশীদের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও গতি নেই।  গত কয়েক মাস থেকেই দেশটির শ্রমবাজারে গতি আনার বিষয়ে কাজ করছে সরকার।  অন্যান্য শ্রমবাজারের জন্য কাতারেও জনশক্তি প্রেরণের অন্যতম চ্যালেঞ্জ দালালদের উৎপাত।  দেশটির শ্রমবাজারে গতি আনার লক্ষ্যে সেপ্টেম্বর মাসে কাতারে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে এ বিষয়ে করণীয়, বিভিন্ন পরামর্শ এবং সতর্কতা সম্বলিত সুপারিশ প্রবাসী, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।

এরই মধ্যে কাতারে যাওয়ার সরকারি খরচ এক লাখ ৭৮০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।  সরকারের নির্ধারিত রিক্রটিং এজেন্সি ছাড়া কোনো ভাবে দেশটিতে শ্রমিক না প্রেরণের বিষয়টি মনিটরের কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

চলতি মাসে নতুন করে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার চালুর বিষয়ে সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।  এ মাসেই সে দেশের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকে অভিবাসন খরচ নির্ধারণসহ বিভিন্ন নীতিমালা ও করণীয় নির্ধারণ শেষে দেশটিতে আবার শ্রমিক প্রেরণ শুরু হতে পারে।

এছাড়া বাহরাইন ও কুয়েতের বাজার প্রায় থমকে আছে প্রতিকূল পরিস্থিতিতে।  এক্ষেত্রে কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় সূত্র জানা গেছে।

 

ঢাকা/হাসান/এনএ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন