ঢাকা, শুক্রবার, ১৫ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সরকারের ভর্তুকি ব্যয় কমেছে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-১৮ ৮:০০:১৯ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-১৮ ৩:০৯:৩০ পিএম

এক বছরের ব্যবধানে সরকারের ভর্তুকি খাতে ব্যয় অর্ধেকেরও বেশি কমেছে। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি বাবদ সরকারের ব্যয় হয়েছে ৬৩ হাজার ১০১ কোটি টাকা। সেখানে গত অর্থবছরে এ ব্যয় ৫৯ ভাগ কমে হয়েছে ২৫ হাজার ৭২৭ কোটি টাকা।

অর্থ বিভাগের এক সূত্র জানায়, মূলত জ্বালানি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দেয়ায় ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় বেড়েছিল। বিশেষ করে, সে সময় বেশি দামে জ্বালানি তেল কিনে দেশের বাজারে কম দামে তা বিক্রি করতে হতো। এ কারণে এ খাতে ভর্তুকি ব্যয় অনেক বেড়েছিল। সে সময় জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দিতে হতো প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। একই সঙ্গে সে সময় বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকির পরিমাণ বেড়েছিল। কিন্তু পরবর্তী অর্থবছরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমায় গত বছর এ খাতে সরকারকে ভর্তুকি দিতে হয়নি। তবে চলতি অর্থবছরে ভর্তুকি খাতে ব্যয় বাড়ায় এ খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪২ হাজার ১০০ কোটি টাকা। এ বছর শুধু ‘এলএনজি’ খাতে ভর্তুকি দিতে হবে ১০ হাজার কোটি টাকা।

পাশাপাশি এক বছরের ব্যবধানে দেশে বিদেশি অনুদানের পরিমাণ কমেছে ২৮ ভাগ। ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে যেখানে অনুদানের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৫২০ কোটি টাকা। সেখানে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে এ অনুদান কমে হয়েছে ১ হাজার ৯৪ কোটি টাকা। অনুদান কমার পরিমাণ ২৮ ভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক অর্থনীতি বিভাগ থেকে সম্প্রতি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘ফিসক্যাল ম্যাক্রো পজিশন’ নিয়ে মাসিক প্রতিবেদনে অ্যাকচুয়াল বা আক্ষরিক তথ্য সন্নিবেশ করা হয়ে থাকে। তথ্যপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এ রিপোর্ট প্রকাশ করতে ৬-৭ মাস দেরি হয়। কিন্তু এই প্রতিবেদনে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের চূড়ান্ত উপাত্তই প্রকাশ করা হয়ে থাকে।

এদিকে, গত বছর বিদেশিদের কাছ থেকে অনুদান কমলেও বিদেশে ঋণের সুদ পরিশোধ প্রায় দ্বিগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যেমন: ২০১৭-২০১৮ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হয়েছিল ২ হাজার ৪৭৩ কোটি টাকা। সেখানে গত ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বিদেশি সুদে ব্যয় ৩৯ দশমিক ২৪ ভাগ বেড়ে হয়েছে ৩ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকা। একই সময়ে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ ব্যয় বেড়েছে ১৪ দশমিক ২৬ ভাগ। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ খাতে সুদ খাতে ব্যয় করা হয়েছিল ৩৯ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা। গত অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয় ৪৪ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা।

সরকার বড় বড় কয়েকটি মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাইরে থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ করেছে। এই ঋণের সুদ ব্যয়ও অনেক বেড়ে গেছে। অভ্যন্তরীণ খাতে সুদ ব্যয় বাড়ার মূল কারণ হচ্ছে সঞ্চয়পত্রের জন্য সুদ বেশি দিতে হয়েছে।



ঢাকা/হাসনাত/রফিক

     
 
রাইজিংবিডি স্পেশাল ভিডিও