ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সক্ষমতা বাড়ছে মোংলা বন্দরের: যুক্ত হচ্ছে তিনটি ক্রেন

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-১৮ ৭:০৯:৫৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-১৮ ৭:০৯:৫৮ পিএম

মোংলা বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়। এরই অংশ হিসেবে বন্দরটির জন্য ১৪ সারির কন্টেইনারবাহী গিয়ারলেস জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য ৩টি মোবাইল হারবার ক্রেন ও এর আনুষঙ্গিক মালামাল সংগ্রহ করা হবে বলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। আর এ জন্য ব্যয় হবে ১২৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার টাকা।

সূত্র জানায়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সংস্থা মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ ‘মোংলা বন্দরের জন্য অত্যাবশ্যকীয় যন্ত্রপাতি/সরঞ্জাম সংগ্রহ’ শীর্ষক প্রকল্পটি জিওবি অর্থায়নে মোট ৪৩৩ কোটি ৫২ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গত বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি একনেক বৈঠকে অনুমোদিত হয়। বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছিল ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২১ সাল নাগাদ।

অনুমোদিত ডিপিপিতে ‘১৪ সারির কন্টেইনারবাহী গিয়ারলেস জাহাজ হ্যান্ডেলিংয়ের জন্য তিনটি মোবাইল হারবার ক্রেন ও আনুষঙ্গিক মালামাল সংগ্রহ’ কাজটি উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি (ওটিএম) অনুসরণ করে সম্পাদনের জন্য নির্ধারিত ছিল। তবে পরবর্তীতে অনুমোদনকপপিএ-২০০৬ এর ধারা-৩২ অনুযায়ী ক্রয়কারী কার্যালয়ের প্রধানের অনুমোদনক্রমে একধাপ দুই খাম দরপত্র পদ্ধতি (আন্তর্জাতিক) অনুসরণ করা হয়েছে। অনুমোদিত ডিপিপিতে বর্ণিত ক্রয় পরিকল্পনা অনুযায়ী উক্ত ক্রয় কার্য সম্পন্ন হচ্ছে। উক্ত ক্রয় কাজের জন্য ডিপিপিতে মোট ১২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার সংস্থান রয়েছে।

সূত্র জানায়, ক্রয় কাজটি সম্পন্নের জন পিপিআর-২০০৮ অনুযায়ী একধাপ দুই কাম আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়। এ বিষয়ে বেশ কয়েকবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার পাশাপাশি সিপিটিইউ এর ওয়েব সাইটে প্রকাশ করা হয়। দরপত্র দলিল ক্রয়ের নির্ধারিত তারিখের মধ্যে মোট তিনটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দলিল ক্রয় করলেও দু’টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র দাখিল করে।

সূত্র জানায়, দরপত্র মূল্যায়নের জন্য ২০১৯ সালের ২৭ আগস্ট পিপিআর ২০০৮ এর বিধি-৮ অনুযায়ী  সদস্য বিশিষ্ট দরপত্র মূল্যায়ন কমিটি (টিইসি) গঠন করা হয়। পাশাপাশি মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষ কর্তৃক তিন জন কর্মকর্তার সমন্বয়ে দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটি গঠন করা হয়। গত ২০১৯ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর উক্ত কমিটি কর্তৃক কারিগরি প্রস্তাব উন্মুক্ত করা হয়। দরপত্র উন্মুক্তকরণ কমিটির কার্যবিরণী অনুযায়ী দরপত্রে অংশগ্রহনকারী ২টি প্রতিষ্ঠান হচ্ছে, জার্মানীর কোন ক্রেনস জিএমবিএইচ ফস্টার এবং লিবহার –ম্যাকটেক রোস্টক জিএমবিএইচ এর স্থানীয় প্রতিনিধি ম্যাক্সন পাওয়ার লিমিটেড। দরপত্র পর্যালোচনা শেষে কারিগরি মূল্যায়ন কমিটি দুটি প্রতিষ্ঠানকেই কৃতকার্য হিসেবে গন্য করে। দরপত্রে কারিগরি মূল্যায়নে দেখা যায় মোবাইল হারবার ক্রেনের হুইল লোড ৮-৯ মেট্রিক টনের অধিক গ্রহনযোগ্য নয় মর্মে টেন্ডার শর্ত থাকলেও কোন ক্রেনস জিএমবিএইচ ফস্টার কোম্পানির অপারকৃত হুইল লোড ছিল ১৬ মেট্রিক টন। তাছাড়া তাদের প্রস্তাবিত ক্রেনের সব টায়ারের ৩৬০ ডিগ্রি ঘূর্ণায়মান যোগ্যতা না থাকায় কমিটি কর্তৃক উক্ত কোম্পানিকে অকৃতকার্য হিসেবে গণ্য করা হয়। অপদিকে কমিটি ম্যাক্সন পাওয়ার লিমিটেডকে কারিগরীভাবে কৃতকার্য ঘোষণা করে।

প্রকল্পটির জন্য দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছিল ১২৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা। আর দরপত্রে অংশগ্রহনকারী ম্যাক্সন পাওয়ার লিমিটেডের অপারকৃত দর ১২৫ কোটি ৪৪ লাখ ৫৩ হাজার ৩১৫ টাকা। অর্থাৎ দাপ্তরিক প্রাক্কলিত দরের চেয়ে দুইকোটি ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৬৮৫ টাকা কম উল্লেখ করে। সরবরাহকারী প্রস্তাবিত দরপত্রের মালামাল সরবরাহ করার পর কাস্টমস বিভাগ পরবর্তীতে সিডিভ্যাট নির্ধারন করবে। এ সংক্রান্ত একটি ক্রয় প্রস্তাব আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপিত হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।


ঢাকা/হাসনাত/সাজেদ