ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ০৯ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সানি জানে না, মা আর ফিরবে না

মামুন খান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২০ ৮:০৪:৫৬ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২০ ১১:৪৩:৩৭ এএম

স্ত্রী আর দুই মেয়েকে নিয়ে ছিল জহিরুল ইসলাম সুমনের সুখের সংসার। রাজধানীর চকবাজারের চুড়িহাট্টার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড এলোমেলো করে দিয়েছে তার জীবন।

গত বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে সুমনের স্ত্রী বিবি হালিমা শিলা তাদের ছোট মেয়ের জন্য ওষুধ আনতে গিয়েছিলেন ফার্মেসিতে। সেই যে গেছেন, আর ফিরে আসেননি শিলা। চুড়িহাট্টার সেই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড তার প্রাণ কেড়ে নেয়। ওই দুর্ঘটনার পর এক বছর পেরিয়ে গেছে। বড় মেয়ে ছয় বছর বয়সী বিবি মরিয়ম সানি জানে না যে, তার মা আর নেই। এখনো মায়ের সঙ্গে মাদ্রাসায় যাওয়ার আবদার করে সানি।

জহিরুল ইসলাম সুমন বলেন, মাকে ছাড়া এক মুহূর্ত থাকতে চাইতো না সানি। মা ছিল তার সবচেয়ে ভালো বন্ধু। মা-ই ছিল তার খেলার সাথী। ছোট মেয়ে বিবি ফাতেমার বয়স দেড় বছর। সে তো আর তেমন কিছু বোঝে না। ও ওর ছোট খালার কাছে বড় হচ্ছে। কিন্তু সানি মাঝেমধ্যে ঘুমের ঘোরে ‘মার কাছে যাব’, ‘মা কই’ বলে কান্না করতে থাকে। মাঝেমধ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায় মাকে খুঁজতে। কীভাবে বোঝাব, ওর মা বেঁচে নেই। ও জানে, ওর আম্মু পায়ে ব্যথা পেয়েছে। ঢাকা মেডিক্যালে ভর্তি আছে। তাই মাঝেমধ্যে বলে, চলো আব্বু, আম্মুকে দেখে আসি, তাকে নিয়ে আসি। ঈদ বা কোনো অনুষ্ঠানের আগে বলে, চলো না আব্বু, আম্মুকে নিয়ে আসি, আবার পরে দিয়ে আসব। তখন মেয়েকে কী বলব, বুঝে উঠতে পারি না।

তিনি বলেন, মেয়েকে মাদ্রাসায় ভর্তি করিয়েছি। আমি তাকে নিয়ে যাই, নিয়ে আসি। সানি তার মায়ের সাথে মাদ্রাসায় যাওয়ার আবদার করে। বলে, আম্মুর সাথে মাদ্রাসায় যাব।

মামলার বিষয়ে সুমন বলেন, যাদের কারণে আমার বাচ্চারা তাদের মাকে হারিয়েছে, তাদের দৃষ্টান্তমূলক সাজা চাই। মামলার বিচার দ্রুত শেষ হবে, এ আশা করি।

সুমনের মামা বলেন, ছোট বাচ্চাটা মাকে হারানোর বিষয়ে তেমন কিছু না বুঝলেও বড় মেয়েটা পাগলামি করে। সব সময় মাকে খোঁজে। মায়ের কাছে যেতে চায়। মায়ের সাথে মাদ্রাসায় যেতে চায়।

তিনি বলেন, এখন আর কেউ খোঁজ-খবর নেয় না। বিচারও পেলাম না, ক্ষতিপূরণও পেলাম না।



ঢাকা/মামুন খান/রফিক