ঢাকা, রবিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৭ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনা মোকাবিলায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টদের সিএসআর’র প্রস্তুতি

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-৩১ ১০:২৫:২৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-৩১ ১১:০০:২৫ পিএম

বিশ্বব্যাপী মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়েছে করোনাভাইরাস। আতঙ্কের শীর্ষ থাকা ভাইরাসটির থাবা থেকে রেহাই পায়নি বাংলাদেশও। সংকটময় এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামাজিক দায়বদ্ধতা কার্যক্রমের (সিএসআর) ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো।

তবে এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি দেশের বিত্তশালীদের সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টরা।

প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই), চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ (সিএসই), ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ডিবিএ) ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএমবিএ)।

সিএসআর’র অংশ হিসেবে খেটে খাওয়া শ্রমজীবী মানুষ ও গরিব-দুস্থদের সহায়তা দেওয়া, প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পারসোনাল প্রোটেকটিভ ইক্যুইপমেন্ট (পিপিই), হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লাভস, মাস্ক, স্যু কভার, হেড ক্যাপ, প্রোটেকটিভ শিল্ডসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার প্রয়োজনীয় উপকরণ সরবরাহ করা হবে।

তবে সাধারণ ছুটি অব্যাহত থাকায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো কোনো পক্ষেপ নিতে পারছে না।  এছাড়া বর্তমান বাজারে পিপিইসহ অন্যান্য স্বাস্থ্য সুরক্ষার উপকরণ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে না। তাই সিএসআর কার্যক্রমের উপকরণ পুরোপুরি জোগাড় করেই ছুটি শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম শুরু করবে প্রতিষ্ঠানগুলো।

জানা গেছে, করোনার পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে। তবে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় এ ছুটি ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে সরকার। সার্বিক পরিস্থিতি অনুযায়ী সরকারে এ সিদ্ধান্ত সর্বস্তরে সময়োপযোগী বলে বিবেচিত হলেও দেশের খেটে খাওয়া শ্রমজীবী ও দুস্থ মানুষগুলো পড়েছেন বিপাকে।

এদিকে বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলো অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হবে। করোনা দরিদ্র করবে এই অঞ্চলের প্রায় দুই কোটি ৪০ লাখ মানুষকে। বিশ্বব্যাংক বলেছে, করোনাভাইরাসের মহামারির কারণে তাৎপর্য‌্যপূর্ণ অর্থনৈতিক মন্দার শিকার হবে প্রায় সব দেশই। বিশেষ করে যাদের জীবিকা শিল্পকারখানার ওপর নির্ভরশীল, তারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।

তাই সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ের পাশাপাশি করোনার বিপক্ষে লড়াই ও সিএসআর’র অংশ হিসেবে পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিজ নিজ অবস্থান থেকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিচ্ছে।

ইতোমধ্যে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বেশ কয়েকটি কোম্পানি যেমন- সাইফ পাওয়ার টেক, ইউসিবি ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মা, দি ওয়েস্টিন হোটেল, সামিট পাওয়ার, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, বসুন্ধরা গ্রুপ, ওরিয়ন গ্রুপ, নাভানা গ্রুপ প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে অনুদান দেওয়াসহ বেশ কিছু সিএসআর উদ্যোগ নিয়েছে।

এছাড়া পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে যাওয়া বাংলাদেশি মাল্টিন্যাশনাল ব্র্যান্ড ওয়ালটনও করোনাভাইরাস মোকাবিলায় ব্যাপক কার্যক্রম চালাচ্ছে। ইতোমধ্যে কোম্পানিটি প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ও কল্যাণ তহবিলে ৩ কোটি টাকা দিয়েছে। এছাড়া স্বাস্থ্যকর্মীদের ৬৫ হাজার ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক সরঞ্জাম পিপিই দিয়েছে কোম্পানিটি।

এ বিষয়ে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান ড. এম খায়রুল হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সাধারণ ছুটি শেষ হওয়া মাত্রই আমরা করোনার প্রভাব মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। বিষয়টি নিয়ে কমিশনে ইতোমধ্যেই আলোচনা করেছি। ছুটি শেষ হলেই বিএসইসি’র পক্ষ থেকে সামাজিক দায়বদ্ধতার জন্য সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।’

ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী ছানাউল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক কর্মসূচির বিষয়ে আমরা ডিএসই’র পরিচালনা পর্ষদে আলোচনা করেছি। অবশ্যই আমরা সামাজিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকে প্রযোজনীয় ব্যবস্থা নেবো। এছাড়া ডিএসই’র কৌশলগত বিনিয়োগকারী চীনের শেনজেং স্টক এক্সচেঞ্জকে আমরা এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে মাস্ক, স‌্যানিটাইজারসহ বিভিন্ন উপকরণ পাঠাবে।’

সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন‐উর‐রশিদ রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সিএসই ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। আমরা আমাদের দায়িত্ব সম্পর্কে খুবই সচেতন। এ দুর্যোগ মুহূর্তে সরকারকে সহায়তা করা এবং দেশবাসীর প্রতি দায়বদ্ধতা বিবেচনা করে সিএসই যথাযথ পদক্ষেপ নেবে।’

ডিবিএ’র সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আমাদের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করেছি। এখন যেহেতু সাধারণ ছুটি চলছে, সেহেতু সবার সঙ্গেই ফোনেই কথা হচ্ছে। বলা যায় এটা প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তবে আমরা যেসব পণ‌্য বিতরণ করবো, তা সহজলভ্য নয়। ফলে ওই পণ‌্যগুলো হাতে পেতে সময় লাগবে। সেগুলো হাতে পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

বিএমবিএ’র সভাপতি মো. ছায়েদুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘সামাজিক দায়বদ্ধতা সম্পর্কে বিএমবিএ অবগত রয়েছে। যেহেতু এখন সাধারণ ছুটি চলছে, সেহেতু ছুটি শেষ হলেই আমাদের সামর্থ‌্য অনুযায়ী এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো। আমরা এ বিষয়ে সদস্যদের সঙ্গে কথা বলছি। তবে এখনও ভিজিবল কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।’


ঢাকা/এনটি/জেডআর