ঢাকা, শনিবার, ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৬ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

টিউশন ফি মওকুফে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের অনীহা

আবু বকর ইয়ামিন : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৮ ৫:৩২:২১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৮ ৫:৩২:২১ পিএম

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৮ মার্চ থেকে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। জানা গেছে ঈদুল ফিতরের আগে আর খোলা যাচ্ছে না শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

এ অবস্থায় বন্ধের দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফ করার দাবি জানিয়ে আসছে অভিভাবকরা। তবে প্রতিষ্ঠানগুলোর পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে কোনো চিন্তা নেই বলে জানা গেছে। রাজধানীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি জানা গেছে।

অভিভাবকরা বলছেন, চলমান করোনা পরিস্থিতিতে দেশজুড়ে লকডাউন অবস্থা। এ সময়ের মধ্যে সকলকে নিজ বাড়ি থেকে বের না হওয়ার নিদের্শনা দেয়া হয়েছে। এতে করে মানুষের জীবন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে। এর ফলে অনেকে মানবেতরভাবে জীবন-যাপন করে দিন পার করছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খুললে সন্তানের টিউশন দেওয়ার মতো অনেকের সামর্থ নেই।

তারা জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে পরিবার নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছেন। কবে এ পরিস্থিতিতে থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে, তা কেউ বলতে পারছে না। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে সন্তানের স্কুলে মাসিক বেতন দেওয়ার সামর্থও নেই অনেকের। তাই পরিস্থিতির ওপর বিবেচনা করে মানবিকভাবে সংকটময় পরিস্থিতির দিনগুলোতে শিক্ষার্থীদের টিউশন মাফ করা উচিত।

বুধবার এ বিষয়ে জানতে চাইলে রাজধানীর উদয়ন উচ্চ মাধ্যমিক স্কুল ড. উম্মে সালেমা বলেন, ‘শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে ঠিক আছে, তবে এখন পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি বা বেতন কোন কিছুর মওকুফের কোন সিদ্ধান্ত হয়নি, এ সংক্রান্ত কোন নির্দেশনা আমাদের কাছে কোনো আসেনি। টিউশন ফি মওকুফ করার সিদ্ধান্ত হলে তা মেনে নেওয়া হবে বলে জানান।’

ভিকারুননিসা নুন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ফৌজিয়া বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়ে আমাদের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন হয়ে থাকে। এ বাবদ প্রতিমাসে প্রায় সোয়া ৩ কোটি টাকার প্রায়োজন হয়। সংকটময় পরিস্থিতিতে টিউশন ফি ছাড় দেয়ার বিষয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নেইনি। তবে মানবিকভাবে এমন পরিস্থিতিতে দুই বা একমাসের বেতন মাফ করা যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে আমাদের চিন্তা-ভাবনার মধ্যে রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলার পর গভর্নিং বডির সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

তবে শিক্ষার্থী-অভিভাবদের সমস্যাগুলো অবশ্যই বিবেচনা করা হবে। কেউ সমস্যায় থাকলে তার কাছে মাসিক বেতন দিতে চাপ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শাহান আরা বলেন, শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে, তাই এটি মাফ করলে প্রতিষ্ঠান চালাতে অসুবিধা হয়ে যাবে। মানবিকভাবে কোন ছাড় দেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। গভর্ণিং বডি যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।

ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চলে মূলত টিউশন ফি বেতন বা অন্যান্য বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেহেতু এটি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এবং স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, সুতরাং প্রত্যেক মাসে কোটি টাকার উপর খরচ আছে। সবকিছু মিলিয়ে টিউশন ফি বেতন মওকুফের সিদ্ধান্ত এখন পর্যন্ত হয়নি এবং কোনো নির্দেশনাও আসেনি।

টি অ্যান্ড টি আদর্শ উচ্চ বালিকা বিদ্যালযয়ের প্রধান শিক্ষিকা সুলতানা ফেরদৌসী খান বলেন, ‘আমাদের এখন পর্যন্ত এ জাতীয় কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। আর এখন হচ্ছে এমন একটি সময় এখন সবাই আল্লাহ আল্লাহ করেন। আগে মানুষ বাঁচুক, তারপর বাকি সব সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে। আমাদের কারো সাথে কোন যোগাযোগ নেই, সিদ্ধান্ত নেব কীভাবে?’

নীলক্ষেত হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘যেহেতু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে, সুতরাং সিদ্ধান্ত নেওয়া যাচ্ছেনা। আর এখন পর্যন্ত টিউশন বেতন মওকুফের কোনো সিদ্ধান্ত আমাদের হয়নি।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা এখনো নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আমাদের সররারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। দুই ধরনের প্রতিষ্ঠান টিউশন ফি’র বড় পার্থক্য রয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি বেশি দিন বন্ধ রাখতে হয়, তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।’

পরিস্থিতি বিবেচনা করে এ সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।


ঢাকা/ইয়ামিন/সাজেদ