ঢাকা, সোমবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৬ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

গার্মেন্টস কর্মীদের দোটানার ঈদ

হাসান মাহামুদ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৫ ৯:৩০:৪৭ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৫ ১০:৩৬:৪৫ পিএম
ছবি: শাহীন ভুঁইয়া

নাড়ির টানে ঈদে-উৎসবে বাড়ি যাওয়া বাঙালীদের চিরায়ত অভ্যাস। কিন্তু এবার চাকরি হারানোর ভয়ে গার্মেন্টস কর্মীদের কেউই বাড়ি যেতে পারেননি। মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঈদে বাড়ি গেলে আর ফিরে এসে চাকরিতে যোগ দেওয়া যাবে না।

ফলে অধিকাংশ একদিকে করোনার ভয়, অন্যদিকে স্বজনদের ছাড়া চাপা দুঃখ নিয়ে দোটানায় ঈদের দিন কাটাচ্ছেন।

জানা গেছে, রাজধানীর কিছু গার্মেন্টসে ঈদের আগে বেতন দেওয়া হয়নি। তাদের ঈদ কাটছে নিদারুন নিরানন্দে। বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের তথ্য মতে, এখনও প্রায় ৩০ শতাংশ শ্রমিক বেতন-বোনাস পাননি। শ্রমিকরা এখনও রাস্তায় রয়েছেন।

বেতন-বোনাসের জন্য তারা এখনও আন্দোলন করছেন। এর মধ্যে রয়েছে কমলাপুর, পোস্তগোলা, মিরপুর ১০ নম্বর প্রভৃতি এলাকা। এসব এলাকায় বকেয়া বেতন ও শতভাগ উৎসব ভাতার দাবিতে কয়েক দিন ধরেই আন্দোলন করে আসছেন বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা।

কমলাপুরে অবস্থিত বিন্নি গার্মেন্টসের তিনজন শ্রমিক তাদের নাম প্রকাশ না করে জানান, গত বুধবার ঈদকে সামনে রেখে করোনা সংক্রমণের ঝুঁকি উপেক্ষা করে বকেয়া বেতন ও বোনাসের দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন তারা। এরপর কিছু বেতন পরিশোধ করা হলেও সবাই বেতন পায়নি। এমনকি কোনো রকম বোনাস দেওয়া হয়নি।

এর মধ্যে সোনারগাঁয় বাড়ি একজন শ্রমিক বলেন, ‘আমার পরিবারে চার জন মানুষ। পোলার (বাচ্চা) বাপে আয়-রোজগার করে না। আমি পোলাডারে একখান শার্টও কিনা দিতে পারিনাই।’

তৈরি পোশাক মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএ’র পক্ষ থেকে সম্প্রতি ঘোষণা দেয়া হয়, কর্মস্থল এলাকা ছেড়ে চলে না যাওয়ার জন্য সব শ্রমিককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের বলা হয়েছে, ঈদের ছুটিতে যেন কেউ বাড়িতে চলে না যান। এ ব্যাপারে সরকারেরও নির্দেশনা আছে। কাজেই যারা এই নির্দেশ মানবে না, তারা আর আগের কর্মস্থলে যোগ দিতে পারবেন না। তারা চাকরি হারাবেন।

এ প্রসঙ্গে সংগঠনটির প্রথম সহ-সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম গণমাধ্যমে বলেন, ‘যেসব শ্রমিক ইতোমধ্যে বাড়ি চলে গেছেন, বা যাচ্ছেন, তারা আর এই সেক্টরে চাকরি পাবেন না। ঈদের পর চালু থাকা অধিকাংশ কারখানা ৫ থেকে ১০ শতাংশ, বা কোনও কোনও কারখানা ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত শ্রমিক ছাঁটাই করবে। আর যেসব কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে, সেসব কারখানার শ্রমিকরা ইতোমধ্যে চাকরি হারিয়েছেন।’

এদিকে একই ধরনের নির্দেশনা দিয়েছে মালিকদের অপর সংগঠন বিজিএমইএ। কোন কোন শ্রমিক ঈদে কর্মস্থল এলাকায় থাকছে সংগঠনের পক্ষ থেকে ডাটাবেজ তৈরি হচ্ছে বলেও জানা গেছে। এসব কারণে এক ধরনের আতঙ্কের মধ্যে গার্মেন্টস কর্মীরা। এছাড়া অনেক জায়গায় শ্রমিকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। এছাড়া, স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় বেশ কিছু কারখানার ঘাটতি আছে। ফলে করোনার কারণে এবারের গার্মেন্টস কর্মীদের ঈদ কাটছে আনন্দহীন।

গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মোশরেফা মিশু বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের শুরু থেকেই মালিকপক্ষ শ্রমিকদের অমানবিক আচরণ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে ঈদের শতভাগ বেতন-ভাতা পরিশোধ যারা করেননি, তারা এক প্রকার নিষ্ঠুর আচরণই করেছেন। দরিদ্র মানুষগুলোর জীবনে তাই এবার ঈদ-ই আসেনি।’

 

ঢাকা/সনি