ঢাকা, মঙ্গলবার, ৩০ আষাঢ় ১৪২৭, ১৪ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ব্রোকার-মার্চেন্ট ব্যাংকারদের ঈদ কেটেছে নিরানন্দে

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ৫:৪৭:৫২ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ৭:২৪:৫৯ পিএম

সারা দেশে করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির সাথে সঙ্গতি রেখে পুঁজিবাজার বন্ধ রয়েছে। ফলে গত দুই মাস ধরে ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোতে কোনো ব্যবসা নেই।

তারপরেও হাউজগুলো কর্মচারীদের বেতন, অফিস ভাড়া ও অন্যান্য খরচ বহন করছে। ব্যবসা না থাকায় ব্রোকারেজ হাউজের ব্যবসায়ীদের অর্থনৈতিক ও মনস্তাত্বিক চাপ বেড়েছে। ফলে তাদের এবারের পবিত্র ঈদুল ফিতর কেটেছে নিরানন্দে।

পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিন ধরে ধারাবাহিক মন্দা অব্যাহত রয়েছে। বিগত বছরগুলোতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও পুঁজিবাজার স্বাভাবিক পর্যায়ে আসেনি। ফলে অধিকাংশ কার্যদিবসে হাউজগুলোর লোকসান গুনতে হয়েছে।

এদিকে গত বছরের তুলনায় এ বছর উল্লেখযোগ্যহারে বিও হিসাব খোলার প্রবণতা কমেছে। নতুন করে হিসাব না খোলায় বাড়ছে না বিনিয়োগকারীর সংখ্যা। অন্যদিকে পোর্টফলিওর ইক্যুইটি মাইনাসে চলে আসায় যেসব বিনিয়োগকারীরা লেনদেন করতে পারছে না। ফলে ব্রোকারেজ হাউজগুলো কমিশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনার প্রভাব।

পুঁজিবাজার বন্ধ থাকায় ব্রোকারেজ হাউজগুলোর ব্যবসা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে ঈদের মাসে অধিকাংশ হাউজের কর্মকর্তা কর্মচারীরা বেতন দিলেও বোনাস পাননি। এতে ব্রোকারেজ হাউজগুলোর মালিকদের মনস্তাত্বিক চাপ বেড়েছে।

এছাড়া ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে লেনদেনের ওপর প্রাপ্ত কমিশনই তাদের আয়ের মূল অংশ। বর্তমানে লেনদেন অনেক কমে যাওয়ায় এ প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় ব্যাপকভাবে কমে গেছে। ব্রোকারেজ হাউজের লেনদেন থেকে যে কমিশন পাওয়া যাচ্ছে, তাতে খরচের এক-তৃতীয়াংশের মতো উঠে আসে। ফলে তাদের মাসে প্রায় ৭০ শতাংশের মতো ভর্তুকি দিতে হচ্ছে বা লোকসান গুনতে হচ্ছে। এর ফলে ব্রোকারেজ হাউজের মালিকদের অর্থনৈতিক চাপ বেড়েছে।

এ বিষয়ে ডিএসই’র সাবেক পরিচালক এবং মডার্ন সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) খুজিস্তা নূর-ই-নাহারিন (মুন্নি) রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এবারের ঈদ আনান্যবারের চেয়ে খারাপ কেটেছে। সারাদিন বাসায় কাটিয়েছি। গত দুই মাস ধরে কোনো ব্যবসা নেই। এ জন্য সার্বিকভাবে নেতিবাচক প্রভাব তো রয়েছেই। মূলত করোনার কারণে দুই ধরনের মনস্তাত্বিক চাপ বেড়েছে। একদিকে বাঁচে থাকার চাপ, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ। তারপরেও ব্যক্তিগত তহবিল থেকে অফিস স্টাফদের এপ্রিল মাসের বেতন দিতে পেরেছি। তবে তাদের বোনাস দেয়া সম্ভব হয়নি। এটা আমার জন্য বড় মনস্তাত্বিক চাপ ছিল। তাই সব মিলিয়ে ঈদে কেটেছে নিরানন্দে।’

বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) মহাসচিব ও বিএমএসএল ইনভেস্টমেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. রিয়াদ মতিন রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘লক ডাউনের মধ্যে কোনো মতে যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে ব্যবসা বাণিজ্য নেই। মনস্তাত্বিক চাপ যাচ্ছে। আমরা মে পর্যন্ত বেতন দিতে পেরেছি। তবে কর্মকর্তা কর্মচারীদের বোনাস দিতে পারিনি। তাদের বলেছি, যদি ব্যাংক থেকে ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল ঋণ পাওয়া যায় তখন বোনাস দিতে পারব। এছাড়া করোনার কারণে জীবনের ঝুঁকি তো রয়েছেই। ফলে সব মিলিয়ে এবারের ঈদ আনন্দহীনভাবে কেটেছে।’


ঢাকা/সনি