ঢাকা, শুক্রবার, ২৬ আষাঢ় ১৪২৭, ১০ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ফ্লোর প্রাইস-ব্যাংকিং সীমা অনুযায়ী লেনদেন চালু হচ্ছে

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৮ ৮:৫৯:০৩ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৮ ১:৫৩:৪০ পিএম

করোনা পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীসহ সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার্থে পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। এ লক্ষে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউজ ও মার্চেন্ট ব্যাংকগুলোও প্রস্তুতি রয়েছে। করানো পরিস্থিতি পূর্বনির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস বহাল রাখা এবং ব্যাংকিং কার্যক্রম অনুযায়ী পুঁজিবাজারে লেনদেনের সময়সীমা নির্ধারণ হবে বলে বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে আগামী ৩১ মে থেকে লেনদেন চালুর বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়েছে উভয় স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে এ বিষয়টি বিএসইসিকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে। বিএসইসি’র নির্দেশনা অনুযায়ী ওই তারিখ থেকেই লেনদেন চালু করার প্রস্তুতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডাররা।

বিএসইসি সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিএসইসি’র নতুন চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল ইসলামের নেতৃত্বের প্রথম কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই সভায় ৩১ মে থেকে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু করা বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এছাড়া সভায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হতে পারে। এ বিষয়ে বিএসইসি বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে। এ লক্ষ্যে বুধবার (২৭ মে) সকাল থেকেই নবনিযুক্তসহ সব কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত। একইসঙ্গে বিএসইসি’র বিভিন্ন বিভাগীয় প্রধানদের সঙ্গেও তার আলোচনা হয়েছে।

জানা গেছে, করোনার প্রভাব মোকাবিলায় গত ২৬ মার্চ থেকে সাধারণ ছুটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেয় ঢাকা ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। তবে দীর্ঘ দিন লেনদেন বন্ধ থাকায় বিনিয়োগকারীরাসহ পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন লেনদেন বন্ধ থাকার কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। সে জন্য এসব বিষয় উল্লেখ করে লেনদেন চালুর বিষয়ে বিএসইসিকে অনুরোধ জানিয়েছে ডিএসই। একইসঙ্গে এ বিষয়ে সম্মতি জানিয়েছে সিএসই কর্তৃপক্ষ।

তবে করোনা পরিস্থিতিতে পুঁজিবাজারের লেনদেনের সময়সীমা ব্যাংকিং কার্যক্রম অনুযায়ী করার জন্য পরামর্শ দেবে বিএসইসি। এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে স্টক এক্সচেঞ্জ কর্তৃপক্ষ। এছাড়া করোনা পরিস্থিতিতে ধারাবাহিক পতনরোধে কোম্পানিগুলোর শেয়ার ও ইউনিট দরের সার্কিট ব্রেকারে ফ্লোর প্রাইসের (যে দরের নিচে নামতে পারবে না) যে সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে তা বহাল রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে বিএসইসি কর্তৃপক্ষ।

এ বিষয়ে বিএসইসি’র চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত উল ইসলাম রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় লেনদেন চালুর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব। তবে লেনদেনের সময় নির্ধারণ করা হবে ব্যাংকিং আওয়ার অনুযায়ী। সেটা স্টক এক্সচেঞ্জে কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ করবে। আর পুঁজিবাজার স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত শেয়ার ও ইউনিট দরে যে ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করা হয়েছে তা বহাল থাকবে। ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের প্রধান্য দিয়েই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

এদিকে ডিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক কাজী সানাউল হক ও সিএসই’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মামুন-উর-রশিদ রাইজিংবিডিকে জানান, বিএসইসি’র অনুমতি সাপেক্ষে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু করা হবে। এ জন্য কীভাবে লেনদেন চালু করা যায় সে বিষয়ে ডিএসই প্রস্তুতি নিয়েছে। ব্যাংকের লেনদেনের ওপর ভিত্তি করে পুঁজিবাজারের লেনদেন চালু রাখা চেষ্টা করা হবে।

এছাড়া ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন ও বাংলাদেশ মার্চেন্ট ব্যাংকার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমবিএ) সহ-সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান রাইজিংবিডিকে জানান, লেনদেন চালু করার বিষয়ে আমরা প্রস্তুত। বিএসইসি’র অনুমতি পেলে সে অনুযায়ী আমরা লেনদেন চালু করতে পারবো। মূলত ডিএসই’র সার্ভার চালুর পর তা ব্রোকারদের সিস্টেমের সঙ্গে সংযুক্ত হলেই লেনদেন চালু করা যাবে।


এনটি/এসএম