ঢাকা, শুক্রবার, ১৯ আষাঢ় ১৪২৭, ০৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

সঞ্চয় স্কিম: নতুন বিধি-নিষেধ বিনিয়োগকারীদের উৎসাহিত করবে

কেএমএ হাসনাত : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-৩১ ৮:৩৬:৫২ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-৩১ ৮:৪৮:৪৫ এএম

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগে সদ্য আরোপিত বিধি-নিষেধকে স্বাগত জানিয়েছেন দেশের অর্থনীতিবিদ ও স্বল্প বিনিয়োগকারীরা।

তারা বলেছেন, ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে বিনিয়োগে আরোপিত বিধি-নিষেধ আরো বেশিসংখ্যক সাধারণ মানুষকে বিনিয়োগে উৎসাহিত করবে।  পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ কমবে।

বৃহস্পতিবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের বিনিয়োগ সীমা তিন ভাগের দুই ভাগ কমানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, এখন থেকে ডাকঘর সঞ্চয় কর্মসূচিতে একক নামে বিনিয়োগ করা যাবে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত, যা আগে ছিল ৩০ লাখ টাকা পর্যন্ত। আর যুগ্ম-নামে বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা আগে ছিল ৬০ লাখ টাকা।  এখন সেটি কমিয়ে ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য ও অর্থনীতিবিদ ড. শামসুল ইসলাম বলেন, ডাকঘর সঞ্চয় স্কিম মূলত স্বল্প আয়ের এবং অবসরে যাওয়া মানুষের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছিল।  কিন্তু কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যত্যয় ঘটেছে।  সঞ্চয় স্কিমের সুযোগ যাতে উচ্চবিত্তের কাছে আটকে না পড়ে এবং অধিকসংখ্যক মানুষ যাতে এ সুবিধা নিতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্যই হয়তো সরকার এ পদক্ষেপ নিয়েছে। 

গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্ট্রিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট (আরএ পিআইডি) এর নির্বাহী পরিচালক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিস বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এম আবু ইউসুফ বলেন, প্রতি বছর সরকারের ঋণের সুদ পরিশোধে প্রায় ১১ শতাংশ ব্যয় করতে হচ্ছে।  এটা সরকারের জন্য বোঝা।  ঋণের সুদের হার কমিয়ে আনার পাশাপাশি এ স্কিমের সুযোগ যাতে কিছু মানুষের হাতে আটকে না পড়ে সেজন্যও নতুন নিয়ম করে থাকতে পারে।

তিনি বলেন, সরকারের নেওয়া এ সিদ্ধান্ত সময়োপযোগী।  কারণ, সঞ্চয়পত্রে অনলাইন পদ্ধতি চালু করায় অনেক বিত্তশালী এ স্কিমে বিনিয়োগ বাড়িয়ে দিয়েছে।  ভালো দিক যে সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে এই স্কিমে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ সীমা রাখা হয়েছে। 

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান ও আইআরডি সচিব আবু হেনা মো. রহমাতুল বলেন, স্কিমটি মূলত নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক নিরাপত্তার জন্য শুরু করা হয়েছিল।  অন্য সঞ্চয় স্কিমের সুদ হার কমে যাওয়ায় সবাই অনেকে এ স্কিমে বিনিয়োগে আগ্রহী হয়ে উঠেন।  এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠানও এখানে অর্থ জমা করছে।  ফলে ব্যাংকগুলোতে অর্থপ্রবাহ কমে গেছে।  এ অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য নতুন নিয়ম চালু করা হয়েছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অবসরপ্রাপ্ত একজন সরকারি কর্মকর্তা বলেন, আমার পেনশনের বড় একটা অংশ ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমে রেখেছি।  এ থেকে যে অর্থ পাই তা দিয়েই জীবনযাপন করছি।  এর আগে একবার সুদের হার কমানো হয়েছিল তখন খুব সমস্যায় পড়ে গিয়েছিলাম।  পরে দাবির মুখে সরকার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে।  নতুন নিয়মে বিনিয়োগের সীমা কমানো হয়েছে।  এটা একটা ভালো পদক্ষেপ।

জানা গেছে, স্কিমের আওতায় ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (সাধারণ হিসাব), ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (মেয়াদি হিসাব) এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (বোনাস হিসাব) এ তিন ধরনের হিসাব ছিল।  ১৯৯২ সাল থেকে বোনাস হিসাবটি বন্ধ রয়েছে।  বাকি দুটি চালু।

ডাকঘর সঞ্চয় স্কিমের মুনাফার হার প্রায় অর্ধেক কমিয়ে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি প্রজ্ঞাপন জারি করেছিল আইআরডি।  এ নিয়ে প্রায় সব মহলে সমালোচনা হলে তা জাতীয় সংসদ পর্যন্ত গড়ায়। পরে মুনাফার হার না বদলিয়ে আগেরটাই বহাল রাখে সরকার।  নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে তা কার্যকর করা হয় গত ১৭ মার্চ থেকে।  গত বৃহস্পতিবার নতুন প্রজ্ঞাপন জারি করে বিনিয়োগের সীমা কমানো হয়।

 

হাসনাত/সাইফ