ঢাকা, শুক্রবার, ১৮ আষাঢ় ১৪২৭, ০৩ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

গণপরিবহন মানছে না স্বাস্থ্যবিধি, আছে বাড়তি ভাড়ার অভিযোগও

হাসিবুল ইসলাম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৬ ৮:৪৪:০৯ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-২৭ ৯:১৮:০৬ এএম

করোনার কারণে রাজধানীর গণপরিবহন থেকে শুরু করে দূরপাল্লার বাসেও যাত্রীসংকট দেখা দিয়েছে। এই ভাইরাস সংক্রমণ রোধে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি অর্ধেক যাত্রী নিয়ে গণপরিবহন চলাচলের অনুমতি দেয় সরকার। কিন্তু গণপরিবহনগুলোয় সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি না মানাসহ বাড়তি ভাড়া কাটারও অভিযোগ উঠেছে।  

বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ও শুক্রবার সরেজমিনে দেখা গেছে, অধিকাংশ বাসেই স্যানিটাইজার বা জীবাণুমুক্ত করার কোনো উপকরণ নেই। এছাড়া, যেখান-সেখান থেকে যাত্রী তোলা হচ্ছে। যাত্রী ওঠানামার সময় ৩ ফুট দূরত্বও রক্ষা করা হচ্ছে না। প্রতি যাত্রার আগে বাস জীবাণুমুক্ত করার শর্ত মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন যাত্রীরা।

এদিকে, একাধিক যাত্রীর অভিযোগ, সরকারের বেঁধে দেওয়া ভাড়ার চেয়ে বেশি ভাড়া নিচ্ছে গণপরিবহনগুলো।

এসব অভিযোগ নিয়ে কথা হয় রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে যাত্রাবাড়ী রুটের রজনীগন্ধা পরিবহনের চালক মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেনের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘বাস চলাচলের দিন থেকেই সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার চেষ্টা করছি। বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজারও রেখেছিলাম। এখন স্যানিটাইজার রাখা হচ্ছে না।  যাত্রী কম। যে কারণে ঘন ঘন স্যানিটাইজার কেনা সম্ভব হচ্ছে না। আবার বাস মালিকও স্যানিটাইজার কিনে দিচ্ছেন না।’

স্বাস্থ্যবিধি না মানা প্রসঙ্গে রাজা সিটি বাসের সুপারভাইজার মোহাম্মদ মাসুদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যাত্রীদের সবসময় সচেতন করি। কিন্তু কেউ মানতে চান না।’

এক প্রশ্নের জবাবে মাসুদ বলেন, ‘আমরা সরকারি নির্দেশ মেনেই বাস চালাই।  ৬০ শতাংশ বেশি হিসাব করেই ভাড়া নিচ্ছি। মাঝে মধ্যে টাকা ভাংতি না থাকলে দুই টাকা/পাঁচ টাকা বেশি নেওয়া হচ্ছে।’

স্বাস্থ্যবিধি না মানা প্রসঙ্গে একই পরিবহনের চালক জুবায়ের হোসেন বলেন, ‘যাত্রী ওঠানোর সময় হ্যান্ডস্যানিটাইজার দিয়ে ভালো করে জিবাণুমুক্ত করেছি এতদিন।  কিন্তু এখন যাত্রী কম। ভাড়া কম উঠছে। অর্থ সংকটে থাকায় হ্যান্ডস্যানিটাইজার কেনা সম্ভব হচ্ছে না।’

এই চালক আরও বলেন, ‘আগে ৪০ আসনের বাসে অন্তত ৫৫ জন যাত্রী নিতাম। তখন ভাড়া একটু কম নিলেও সমস্যা ছিল না। কিন্তু এখন যাত্রী পাছি না।’

রাজধানীর সিটি কলেজ এলাকায় দেখা গেছে, বিকাশ পরিবহনের বাসে অর্ধেক সিট খালি রেখে সামাজিক দূরত্ব রক্ষা করা হয়েছে। আর স্যানিটাইজার থাকলেও যাত্রী ওঠানোর সময় দূরত্ব বজায় রাখছে না। যাত্রীদের ধরে ধরে বাসে তুলছেন হেলপার।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে হেলপার মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন বলেন, ‘সতর্কতার সঙ্গেই যাত্রী তুলছি। তারপরও অনেকেই স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না। নামার সময় তিন-চার জন একসঙ্গে এসে দরজার মুখে দাঁড়িয়ে থাকেন। নিষেধ করলে উল্টো ধমক দেন।’

দূরপাল্লার বাস এনা পরিবহনের গাবতলীর ম্যানেজার মিজানুর রহমান বলেন, ‘প্রত্যেক বাসে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দেওয়া হচ্ছে। বাসে ওঠার আগে যাত্রীদের জীবাণুমুক্ত করা হচ্ছে। কিন্তু যাত্রীর  সংকট প্রকট। যে বাসে ২০ জন যাত্রী পরিবহনের অনুমতি রয়েছে, সেখানে ৮ থেকে ১২ জন হচ্ছে। এই যাত্রী নিয়ে প্রতিদিনই লসের মুখে পড়তে হচ্ছে। ’

বাংলাদেশ বাস মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলেন, ‘দূরপাল্লার বাসে এখন পর্যন্ত সামাজিক দূরত্ব ভঙ্গের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। আর সরকার যা নির্ধারণ করে দিয়েছে, সেই ভাড়াই নিচ্ছেন মালিকরা। তবে, রাজধানীর গণপরিবহনে কিছুটা অনিয়মের তথ্য পেয়েছি। নগরীর বাস মালিকদের  স্বাস্থ্যবিধি মেনে বাস চালাতে বলে দিয়েছি।’

এনায়েত উল্যাহ আরও বলেন, ‘করোনার কারণে এখন যাত্রী সংকট দেখা দিয়েছে। এই সমস্যা কবে ঠিক হবে, তা জানা নেই। এরই মধ্য দিয়ে বাস চালাতে হবে। একেবারে  বন্ধ করার চেয়ে কিছু কিছু চললে মালিক বাঁচবেন।’ সঙ্গে শ্রমিকরাও বাঁচবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।


ঢাকা/ হাসিবুল/এনই