ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ আষাঢ় ১৪২৭, ০৭ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ক্রেস্ট-সিডিবিএলের যোগসাজসেই বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ!

নুরুজ্জামান তানিম : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৬-২৮ ৮:০২:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৬-২৮ ১:২২:৩৭ পিএম

বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকে বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এবার ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ ও সিডিবিএল কর্মকর্তাদের যোগসাজসের অভিযোগ উঠেছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহসহ সংশ্লিষ্ট মালিকপক্ষ বিনিয়োগকারীদের বিও হিসাব থেকে বিনা অনুমতিতে শেয়ার বিক্রি ও নগদ অর্থ আত্মসাতের যে ঘটনা ঘটিয়েছে, তাতে সিডিবিএল কর্মকর্তাদের অবশ্যই যোগসাজস রয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা মনে করছেন, যোগসাজস থাকার কারণেই সেন্ট্রাল ডিপোজিটারি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিডিবিএল) থেকে এমন কাণ্ডের পর কোন এসএমএস দেয়া হয়নি। 

বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ, ব্যাংক থেকে টাকা উঠালেই গ্রাহকরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যাংক থেকে মোবাইলে বার্তা পেয়ে থাকেন। ঠিক তেমনই বিও হিসাব থেকে শেয়ার বিক্রি করলেই বিনিয়োগকারীদের বার্তা দিয়ে থাকে সিডিবিএল। অথচ ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ কর্তৃপক্ষের শেয়ার আত্মসাতের ঘটনায় বিনিয়োগকারীদের সিডিবিএল কোন বার্তাই দেয়নি।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, অনুমতি ছাড়াই শেয়ার বিক্রি করল ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ, কিন্তু সিডিবিএল থেকে এসএমএস দেয়া হলো না- এ বিষয়টি অবশ্যই সন্দেহজনক এবং খুবই উদ্বেগজনক। সিডিবিএল থেকে এসএমএস না পাওয়ার কারণেই গ্রাহকরা তাদের শেয়ার হারিয়েছেন। এর দায়ভার কোনভাবেই সিডিবিএল এড়াতে পারে না।

তাই শেয়ারবাজারের ইতিহাসে প্রথম ঘটে যাওয়া এ ধরণের অনৈতিক ঘটনা তদন্তে সিডিবিএলের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা।

জানা গেছে, হঠাৎ লাপাত্তা হয়ে যাওয়া ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের সকল পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব জব্দ করার জন্য বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। পাশাপাশি ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ এবং তার স্ত্রীর নামে থাকা ব্যাংক হিসাবও জব্দ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আর এদিকে শেয়ার ও অর্থ খুঁইয়ে বিপাকে পড়েছেন সিকিউরিটিজ হাউজটির বিনিয়োগকারীরা। এ অবস্থায় পাওনা অর্থ বকেয়া রেখে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এ পরিস্থিতিতে বিনিয়োগকারীরা গত ২৫ জুন পল্টন থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। এছাড়া সিকিউরিটিজ হাউজটির পরিচালকেরা যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে সেজন্য বিষয়টি ইমিগ্রেশনকে জানিয়েছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্ত ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শহীদ উল্লাহ এবং তার পরিবার গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) ভোর ৫টার দিকে বাসা থেকে পালিয়েছেন।

অন্যদিকে শেয়ার বিক্রি করে অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জে কমিশন (বিএসইসি) ও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) কর্মকর্তারা দফায় আলোচনা চালাচ্ছেন। বিএসইসি ও ডিএসই কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, শিগগিরই এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে ক্রেস্ট সিকিউরিটিজের বিও হিসাবধারী বিনিয়োগকারী হাজী মোহাম্মদ নিশাত রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত তদন্ত হওয়া জরুরি। তদন্তে সিডিবিএলের কর্মকাণ্ড খতিয়ে দেখতে হবে। সিডিবিএলকে তদন্তের বাইরে রাখার কোন সুযোগ নেই। সিডিবিএল থেকে এসএমএস দেয়া হলে এভাবে অর্থ আত্মসাৎ সম্ভব হতো না। প্রয়োজনে সিডিবিএলের বিরুদ্ধে মামলা করা হবে।'

জানতে চাইলে ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) কাজী সানাউল হক রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ ঘটনা তদন্তে ডিএসই’র পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। সিডিবিএল’র বিষয়টিও খতিয়ে দেখা হবে।'

এ বিষয়ে পল্টন থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ও তদন্ত কর্মকর্তা (আইও) রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘এ বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ কার্যক্রম চলছে। তদন্তের স্বার্থে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা যাচ্ছে না। তবে ধারণা করছি অভিযুক্তরা দেশের বাইরে পালিয়ে যেতে পারেননি। এ বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শকের (আইজি) বিশেষ নির্দেশনা রয়েছে।'

 

ঢাকা/এনটি/টিপু