ঢাকা     শুক্রবার   ১৪ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ৩০ ১৪২৭ ||  ২৩ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বাইরে বের হতে মরিয়া ওয়ারীবাসী

মামুন খান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৯:৩০, ৭ জুলাই ২০২০  
বাইরে বের হতে মরিয়া ওয়ারীবাসী

দিন যত যাচ্ছে, ততই ঘর থেকে বের হওয়ার প্রবণতা বাড়ছে লকডাউনে থাকা ওয়ারীর বাসিন্দাদের। কেউ কেউ বের হতে পারছেন, অনেকে পারছেন না। তবে প্রায় সবাই নানা অজুহাতে বাসা থেকে বের হতে চাচ্ছেন। যেন তারা ঘর থেকে বের হতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। তাই লকডাউন কার্যকর করতে গিয়ে সমস‌্যায় পড়ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ওই এলাকায় থেকে দেখা যায়, সকাল থেকে অনেকে বের হওয়ার জন্য হট কেক গলি এবং ওয়ারী থানার পাশের র‌্যানকিন স্ট্রিট গেটে ভিড় করছেন। গেটের সামনে অনেকেই সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। স্বেচ্ছাসেবীরা চিকিৎসক, নার্স, রোগী বাদে অযথা কাউকে বাইরে ভিড় না করার ও সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার অনুরোধ করছেন। কিন্তু অনেকেই তাদের অনুরোধ শুনছেন না।

সকাল থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত ২৩০ জন স্বেচ্ছাসেবকদের খাতায় নাম লিখিয়ে হট কেকের গেট দিয়ে বের হয়েছেন। অনেককে বের হতে বাধা দেওয়া হলে তারা তার তোয়াক্কা না করে বাইরে চলে যান। কিছু লোককে বিভিন্ন গেট দিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিয়ে যেতে দেখা গেছে। এক্ষেত্রে এলাকার লোকজন বিভিন্ন অলনাইন সেবা প্রতিষ্ঠানে বা আত্মীয়-স্বজনদের কাছে ফোন দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিস নিয়ে আসতে বলেন। পরে প্রবেশপথ থেকে তারা পণ্যটি বুঝে নেন।

উল্লেখ্য, হট কেক গলির গেট দিয়ে শুধু বের হওয়া যায় এবং র‌্যানকিন স্ট্রিট গেট দিয়ে ভেতরে ঢোকা যায়।

এদিকে, সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ স্বেচ্ছাসেবীদের কঠোর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। আর লকডাউনে ঘরে থেকে বিরক্ত হওয়া এলাকাবাসী কিছুটা আগ্রাসী হয়ে উঠেছেন। তারা বের হতে না পেরে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়ছেন।

মঙ্গলবার বিশ্বজিত সরকার নামের এক ব্যবসায়ীকে স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে তর্কে জড়াতে দেখাতে যায়। তিনি বলেন, ‘আমি ২৫ জন স্টাফ চালাই। আমাকে আমার প্রতিষ্ঠানে যেতে হবে। কিন্তু আমি যেতে পারছি না। না গেলে প্রতিষ্ঠান টিকবে কেমনে? পরে যে আমাকে পথে বসতে হবে। সরকার কি এর দায়িত্ব নিবে?’

নুরুল ইসলাম নামের এক ব‌্যক্তি বলেন, ‘ব্যাংক থেকে টাকা তুলতে হবে। বাজার করতে হবে। টাকা না তুললে বাজার করব কীভাবে?’

স্বেচ্ছাসেবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা কি আমার বাজার করে দেবেন।’

ওয়ারী লকডাউন থাকায় এখানকার অনেক বাসিন্দা কিছু দিনের জন‌্য রাজধানীর অন্য এলাকায় চলে যাচ্ছেন। অনেকে গ্রামের বাড়িতে চলে গেছেন।

এম মনিরুল ইসলাম ও তার স্ত্রীকে নিয়মিত হাঁটতে হয়। কিন্তু লকডাউনের কারণে এখন তারা বাইরে বের হতে পারছেন না। তাই বাধ্য হয়ে ওয়ারী ছেড়ে গ্রামের বাড়ি কুমিল্লায় চলে গেছেন তারা।

ব্যবসায়ী মাহবুব আলীও ব্যবসার কারণে ওয়ারী ছেড়ে স্ত্রী, মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি নারিন্দায় চলে যাবেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘১২ বছর ধরে এ এলাকায় বাস করছি। এলাকার প্রতি আমার আবেগটা একটু বেশি। কিন্তু ব্যবসার কারণে আর থাকতে পারছি না। তাই এ এলাকা ছেড়ে শ্বশুরবাড়ি চলে যাচ্ছি। এ ধরনের লকডাউনে বিরক্ত আমি।’

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির স্বেচ্ছাসেবী খন্দকার অভি জানান, এলাকাবাসী নানা প্রয়োজনে বের হতে চাচ্ছেন। বের হতে না পেরে তারা আমাদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন।

ওয়ারীতে দায়িত্বরত ওয়ারী থানার এসআই মিজানুর রহমান জানান, যাদের অতি প্রয়োজন তাদের বের হতে দেওয়া হচ্ছে। বিনা কারণে কেউ বের হতে পারছেন না, কেউ জোর করে ঢুকতেও পারছেন না।

গত ৪ জুলাই ২১ দিনের জন‌্য লকডাউন করা হয় ওয়ারী এলাকা। টিপু সুলতান রোড, যোগীনগর রোড ও জয়কালী মন্দির থেকে বলধা গার্ডেন (আউটার রোড) এবং লারমিনি স্ট্রিট, হেয়ার স্ট্রিট, ওয়্যার স্ট্রিট, র‌্যানকিন স্ট্রিট ও নবাব স্ট্রিট (ইনার রোড) লকডাউনের আওতায় আছে।

 

ঢাকা/মামুন/নূর/রফিক

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়