ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

৭ কোম্পানির লভ্যাংশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় বিনিয়োগকারীরা

|| রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৬:২১, ১৫ জুলাই ২০২০  

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ৭ কোম্পানির লভ্যাংশ পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। আগের অর্থবছরে (২০১৮-১৯) মুনাফা হওয়া সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো বিনিয়োগকারীদের লভ্যাংশ দেয়নি। আর ২০১৯-২০ অর্থবছরে করোনার প্রভাবে তিন মাস (এপ্রিল-জুন) ব্যবসা করতে পারেনি কোম্পানিগুলো। ফলে নতুন ‘অজুহাতে’ কোম্পানিগুলোর লভ্যাংশ দেওয়া নিয়ে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংশয় তৈরি হয়েছে।

বিনিয়োগকারীরা বলছেন, লোকসান হওয়া সত্ত্বেও বেশ কিছু কোম্পানি লভ্যাংশ দিয়েছে। আর ওই ৭ কোম্পানি মুনাফায় থেকেও লভ্যাংশ দেয়নি। বিষয়টি বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে প্রতারণার সামিল। লভ্যাংশ না দেওয়ায় বর্তমানে কোম্পানিগুলো ‘জেড’ ক্যাটাগরিতে অবস্থান করছে। ফলে গত এক বছরে কোম্পানিগুলোর শেয়ার দর প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে।

তাই গতবারের মতো ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোম্পানিগুলো লভ্যাংশ না দিয়ে যেন বিনিয়োগকারীদের ঠকাতে না পারে সেজন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) হস্তক্ষেপ কামনা করছেন বিনিয়োগকারীরা।

কোম্পানিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য চারটি হলো- বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, সালভো কেমিক্যাল, জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশন, খান ব্রাদার্স পিপি।  এছাড়া একই অভিযোগ রয়েছে আরও তিনটি কোম্পানির বিরুদ্ধে।

তথ্য মতে, সালভো কেমিক্যালের ইপিএস হয়েছে ৬১ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১০ টাকা ১০ পয়সা। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ১৫ টাকা ৬০ পয়সা।

খান ব্রাদার্স পিপির ইপিএস হয়েছে ২৫ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ৬ টাকা ১০ পয়সা। ২০১৯ সালের ২৮ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ১১ টাকা ৪০ পয়সা।

জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের ইপিএস হয়েছে ৪৩ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ২ টাকা ২০ পয়সা। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ৫ টাকা ১০ পয়সা।

বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের ইপিএস হয়েছে ৫৬ পয়সা। কোম্পানিটির শেয়ারের সর্বশেষ লেনদেন হয়েছে ১০ টাকায়। ২০১৯ সালের ২২ আগস্ট শেয়ারটির দর ছিল ১৬ টাকা ১০ পয়সা।

সালভো কেমিক্যালের কোম্পানি সচিব অমল কৃষ্ণা রায় রাইজিংবিডিকে বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যবসা-বাণিজ্য একেবারেই ভালো চলছে না। সার্বিক দিক বিবেচনায় এ পরিস্থিতিতে শেয়ারহোল্ডারদের লভ্যাংশ দেওয়া যাবে কি-না তা কোম্পানি কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে।

খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগের সচিব তপন কুমার সরকার রাইজিংবিডিকে বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোম্পানির ব্যবসা মোটেও ভালো যাচ্ছে না। বেশ কয়েক মাস ধরে কোম্পানির পণ্য বিক্রি নেই বললেই চলে। তাই সারা বছরের আয়-ব্যয় হিসাব-নিকাশ করে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ লভ্যাংশ দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

জেনারেশন নেক্সট ফ্যাশনের কোম্পানি সচিব মোহাম্মদ শাহজাহান রাইজিংবিডিকে বলেন, ব্যবসা ভালো যাচ্ছে না। তা ই লভ্যাংশ দেওয়া যাবে কি, যাবে না তা আগাম বলা যাচ্ছে না।

বিডি থাই অ্যালুমিনিয়ামের কোম্পানি সচিব অসিম কুমার বড়ুয়া এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ পুঁজিবাজার বিনিয়োগকারী ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক কাজী আব্দুর রাজ্জাক রাইজিংবিডিকে বলেন, স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে মুনাফায় থাকা সত্ত্বেও যেসব কোম্পানি লভ্যাংশ দেয়নি, তারা করোনা পরিস্থিতিতে লভ্যাংশ দেবে কি-না তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। তবে মুনাফায় থাকা সত্ত্বেও কোম্পানিগুলো কেন লভ্যাংশ দেয়নি তা খতিয়ে দেখা উচিত।

জানতে চাইলে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক মো. সাইফুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে খতিয়ে দেখা হবে।

 

 

ঢাকা/এনটি/জেডআর

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়