ঢাকা     বুধবার   ০৫ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২১ ১৪২৭ ||  ১৫ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

দাম ও সরবরাহ নিশ্চিতে এলপিজির ব্যবহার বাড়াবে সরকার

হাসান মাহামুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৬, ১৯ জুলাই ২০২০  

দাম ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব‌্যবহার সীমিত করার কথা ভাবছে সরকার। বিকল্প হিসেবে এলপিজির (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসে)ব্যবহার নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে এলপি গ্যাসের দাম নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। এ সংক্রান্ত নীতি চূড়ান্ত হচ্ছে। রেগুলেটরি কমিটির মাধ্যমে এ খাত নিয়ন্ত্রণ হবে। তখন দেশের বাজার আর আন্তর্জাতিক বাজারে এলপিজির দামে তারতম্য থাকবে না।

দেশের অর্থনীতির আকার ক্রমশ বড় হচ্ছে। বাড়ছে গ্যাস ও বিদ্যুতের চাহিদাও। তাই কলকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছাড়া অন্যসব খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের ব্যবহার কমিয়ে এলপিজির ব্যবহার বাড়ানো হবে। এখনই বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে পাইপের গ্যাস ব্যবহারকারীদের নিরুৎসাহিত করছে সরকার। এছাড়া বেসরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানাতে এলপিজি উৎপাদনে দেশীয় কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার কথাও ভাবছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, এলপিজির ব্যবহার বাড়াতে জনসচেনতা জরুরি। বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে ব্যবহার করা গ্যাসের ২০ শতাংশ নষ্ট হচ্ছে।  এক্ষেত্রে আমরা যদি এলপিজি ব্যবহার করি, তাহলে ২০ শতাংশ সাশ্রয় হবে। বাসাবাড়ি ও পরিবহন খাতে এলপিজিকে প্রাধান্য দেওয়ার পরিকল্পনা নিয়েছি।

নসরুল হামিদ বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এলপিজির দাম কমানো হচ্ছে। এলপিজি সিলিন্ডারের ব্যবহার নিরাপদ করতে বিস্ফোরক অধিদপ্তরকেও ঢেলে সাজানো হচ্ছে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) তথ্য বলছে, দেশে প্রায় ৩ কোটি ৫০ লাখ হাউসহোল্ড (পরিবার) রয়েছে। এর মধ্যে এলপিজি ব্যবহৃত হয় প্রায় এক কোটি পরিবারে।

দেশে এখন এলপিজির চাহিদা প্রায় পাঁচ লাখ টন। আগামী চার বছরে এ চাহিদা ১০ লাখ টন ছাড়াবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের। ভবিষ্যৎ বাজার বিবেচনায় আসছেন দেশ-বিদেশের নতুন উদ্যোক্তাও।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক সময় রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান এলপিজির নিয়ন্ত্রণ করত। তবে দেশের সাধারণ মানুষকে জ্বালানির আওতায় নিয়ে আসতে ২০০০ সালের দিকে সরকার বেসরকারি উদ্যোক্তাদের আহ্বান করে এবং তখন থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বাজারে আসতে শুরু করে। এলপিজির বাজার বড় হতে থাকে। আমদানিতে এখন অনেক বড় বড় কোম্পানি এগিয়ে আসছে। একই সঙ্গে চূড়ান্ত নীতিমালা ঘোষণা হলে রেগুলেটরি কমিটির মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে।

এদিকে, আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম কমায় সরকারি এলপি গ্যাসের দাম প্রতি বোতল (১২ কোজি) ৬০০ টাকা করেছে বিপিসি। সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. সামছুর রহমান বলেন, সরকারি এলপিজির দাম বোতল প্রতি একশ টাকা কমানো হয়েছে।

গত ১৪ জুলাই করপোরেশন কার্যালয়ে এলপিজির দাম কমানো সংক্রান্ত বৈঠক হয়। সেখানে আগে থেকেই কমিটির করা সুপারিশ বাস্তবায়নে সম্মত হন সবাই। বিপিসির উপ-মহাব্যবস্থাপক (বন্টন ও বিপণন) মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেন, এখনো এই সিদ্ধান্তের বিষয়ে চূড়ান্ত হয়নি। চূড়ান্ত হলে সোম বা মঙ্গলবার প্রজ্ঞাপন আকারে জারি হবে।

 

হাসান/সাইফ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়