ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২০ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

মাঝপথে থেমে গেলো প্রকল্প

হাসিবুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪১, ২৬ জুলাই ২০২০  
মাঝপথে থেমে গেলো প্রকল্প

দেশে উন্নয়ন প্রকল্প বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আইএমইডির সক্ষমতা বাড়াতে ‘স্ট্রেংদেনিং মনিটরিং অ্যান্ড ইভালুয়েশন ক্যাপাবিলিটিজ অব আইএমইডি (এসএমইসিআই) (তৃতীয় সংশোধিত)’ প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি)।  এর মেয়াদ জানুয়ারি ২০১৩ থেকে জুন ২০২০ পর্যন্ত।  প্রকল্পের মোট ব্যয় ৬৮ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।

কিন্তু গত সাত বছরে বিভাগটির কর্মকর্তাদের বিভিন্ন ট্রেনিংসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা বাড়ার মাঝপথে এসে প্রকল্পটি শেষ করে দিয়েছেন আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ।  আইএমইডির কর্মকর্তারা বলেন, করোনার জন্য প্রায় তিন মাসের বেশি সময় কেউ কাজ করতে পারেনি।  এ কারণে এ প্রকল্পের মাধ্যমে এখনও ৫০০টি ট্রেনিং বাকি আছে।  প্রকল্পটি এ পর্যায়ে এসে শেষ না করে সংশোধন করলে প্রকল্পের লক্ষ্য উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করা সম্ভব হতো না।

এ প্রকল্পটির মাধ্যমে আইএমইডিকে শক্তিশালী করতে প্রধানমন্ত্রী সব প্রকল্পের তথ্য অনলাইনে নিতে একটি সফটওয়্যার তৈরির নির্দেশনা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতেই ৭ কোটি টাকা খরচ করে পিএমআইএস নামে একটি সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল।  বর্তমানে এ সফটওয়ারের মাধ্যমে প্রায় ৮০০ প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করা হয়।  সফটওয়ারের মাধ্যমে এডিপি বাস্তবায়নের সঠিক তথ্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, একনেক, এনইসি ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ করা হয়।  এছাড়া প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা খরচ করে প্রকল্পটির মাধ্যমে আউট সোর্সিং উন্নয়ন করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।

কর্মকর্তারা বলেন, এখন এ পর্যায়ে এসে প্রকল্প বন্ধ করে দিলে প্রকল্পে ভিজিটে কর্মকর্তাদের গাড়ির সুবিধা, সফটওয়ারসহ আরও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থেকে আইএমইডির কর্মকর্তারা বঞ্চিত হবে।  মূল কথা সরকারি টাকা খরচ হলেও এখন থেকে প্রকল্পটির কোন সুফল পাওয়া যাবে না।  পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন কাজে গতিশীলতা আনতে  আইএমইডিকে শক্তিশালী করাই প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য ছিল।

প্রকল্পের উদ্দেশ্য হচ্ছে- বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের সঠিক তথ্য সংগ্রহপূর্বক নির্দিষ্ট সময়ে প্রতিবেদন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়/এনইসি/একনেক/পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করার জন্য ই-পিএমআইএস তৈরি করা।  আইএমইডির কর্মকর্তাদের পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ম্যানুয়েল প্রণয়ন।  প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনের জন্য নিজস্ব যানবাহন সুবিধা সৃষ্টি এবং প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ বিভাগের জনবলের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।

প্রকল্পের মূল কার্যক্রম-ই-পিএমআইএস তৈরিকরণ ও ডাটা সেন্টার স্থাপন, ৬টি পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন ম্যানুয়েল প্রণয়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিষয়ে এ বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের প্রায় ২০০ জন কর্মকর্তার স্বল্প মেয়াদে স্থানীয়/বৈদেশিক, প্রশিক্ষণ/স্টাডি ট্যুরে অংশগ্রহণ, স্থানীয় পর্যায়ে ৩০ জন্য কর্মকর্তা ও দেশের বাইরে ৬ জন কর্মকর্তার প্রকল্প ব্যবস্থাপনা বিষয়ে মাস্টার্স কোর্সে অংশ নেওয়া।   দাপ্তরিক কাজে সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্ক্যানার, আসবাবপত্রসহ প্রয়োজনীয় দ্রব্য ক্রয় এবং পরিবীক্ষণ কাজে গতিশীলতা আনতে ৬টি জিপ কেনা এবং পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন পলিসি প্রণয়ন করা।

প্রকল্পটির উপ-প্রকল্প পরিচালক মো. মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, পিএমআইএসের মাধ্যমে উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য সংগ্রহ করা হুয়।  এ সফটওয়ার তৈরির আগে প্রকল্পগুলোর তথ্য ম্যানুয়েলি নেওয়া হত, যেটা দীর্ঘমেয়াদী প্রসেস ছিল।  বর্তমানে প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়েছে।  তাই এ সফটওয়ার সিপিটিইউ এর এক প্রকল্পের মাধ্যমে দেখভাল করা হতে পারে।

এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক হাবিবুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।


হাসিবুল/সাইফ

রাইজিং বিডি

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়