ঢাকা     শুক্রবার   ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০ ||  আশ্বিন ১০ ১৪২৭ ||  ০৭ সফর ১৪৪২

বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে দোটানায় ডিএসসিসি

আসাদ আল মাহমুদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৬:৩৫, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০
বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ে দোটানায় ডিএসসিসি

ঢাকার রাস্তায় বেওয়ারিশ কুকুর (ফাইল ফটো)

রাজধানী থেকে ৩০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর ধাপে ধাপে বাইরে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছিল ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। নগরবাসীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এর বিরোধিতা করছে কয়েকটি পশুপ্রেমী সংগঠন। তারা বলছে, কুকুর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত বেআইনি। অন‌্যদিকে, কয়েকটি সংগঠন বলছে, বেওয়ারিশ কুকুরের কারণে অতিষ্ঠ নগরবাসী। তাই দ্রুত এগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।

এ অবস্থায় বেওয়ারিশ কুকুর সরানো নিয়ে দোটানায় পড়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। তাই করণীয় ঠিক করতে খুব দ্রুত বৈঠকে বসবে ডিএসসিসি।

নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, ঢাকার রাস্তাসহ অলি-গলিতে বেওয়ারিশ কুকুরের উপস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। কুকুর ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ডিএসসিসির। তাই তারা পশুপ্রেমী সংগঠনসহ সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে আলোচনা করে এ সমস্যার সমাধান করতে পারে।

সূত্র জানায়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকায় প্রায় ৬০ হাজার বেওয়ারিশ কুকুর আছে। এর মধ্য ৩০ হাজার কুকুর শহরের বাইরে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয় ডিএএসসিসি। ইতোমধ্যে ১৫টি কুকুর মাতুয়াইল এলাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। সম্প্রতি ঢাকা শহরের বেশকিছু এলাকার বাসিন্দাদের কাছ থেকে কুকুর সম্পর্কিত বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়ার পর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে পশুপ্রেমী সংগঠনের বিরোধিতার কারণে এ কার্যক্রম বন্ধ আছে। গত ২ আগস্ট কুকুর স্থানান্তরের পক্ষে ও বিপক্ষে যারা আবেদন ও মানববন্ধন করেছেন তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় ঠিক করতে দ্রুত বৈঠকে বসবে ডিএসসিসি।

গত ৫ আগস্ট বংশালের বাসিন্দা সোহানুর রহমান ডিএসসিসিতে আবেদন করেন। আবেদনপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, ‘এ এলাকায় কয়েকজনকে কুকুর কামড় দিয়েছে। কুকুরের ভয়ে অনেকেই বাসা থেকে বের হতে পারছেন না। বাচ্চারা ভয় পাচ্ছে।’

সিক্কাটুলীর বাসিন্দা মোসা. নিলু বলেন, ‘এর আগে নাজিরাবাজার এলাকায় ভাড়া থাকতাম। কুকুরের কামড়ের ভয়ে বাসা পরিবর্তন করে সিক্কাটুলীতে এসেছি। এখানেও একই অবস্থা।’

শুক্রবার পুরান ঢাকার ফুলবাড়িয়া, আলুবাজার, বংশাল, সিক্কাটুলিসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, রাস্তায় কুকুরের আনাগোনা রয়েছে। আবাসিক এলাকার গলিতে ও যেখানে ময়লা জমে থাকে সেখানে একাধিক কুকুর দেখা গেছে।

রাজধানী বকিশবাজার এলাকার বাসিন্দা মো. তালেব হোসেন বলেন, ‘আমার বাসার গলিতে ৮-৯টি  কুকুর সারাক্ষণই থাকে। হাতে ব্যাগ থাকলে কুকুর পিছু নেয়। কিছু না দিলে বাজারের ব্যাগ নিয়ে টানাটানি করে। রাতে বাসায় আসা কষ্টকর। অনেক সময় রিকশায় খাবারের জন্য লাফিয়ে ওঠে। বাড়ির দাড়োয়ান শখ করে মুরগি পালন করে। তার দুটি মুরগি কুকুরে খেয়ে ফেলেছে।’

ডিএসসিসির ভেটেরিনারি কর্মকর্তা এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকটি বেওয়ারিশ কুকুর স্থানীয়দের কামড় দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রাথমিকভাবে কিছু কুকুর সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কুকুর বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হত পারে।’

পশু অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন পিপল ফর অ‌্যানিমেল ওয়েলফেয়ার (পিএডব্লিউ) ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান স্থপতি রাকিবুল হক এমিল বলেন, ‘কুকুর অপসারণ না করে বন্ধ্যাত্বকরণ কর্মসূচি চালু করতে হবে। বন্ধ্যাত্বকরণ টিকা দিলে কুকুরগুলো আর বেশি লাফালাফি করবে না, নগরবাসীকেও বিরক্ত করবে না।’

ঢাকা দক্ষিণ সিটি নগরবাসী সংগঠনের সদস্য ফোরকান হোসেন বলেন, ‘ঢাকা শহরজুড়ে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাতে অতিষ্ঠ আমরা। বেওয়ারিশ কুকুর নিধন বা স্থানান্তর করতে হবে।‘

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. ফিরোজ জামান বলেন, ‘কুকুরের বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে সবার জন্য মঙ্গল হবে।’ 

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবু নাছের বলেন, ‘কুকুর স্থানান্তরের বিষয়ে নগরবাসী পক্ষে ও বিপক্ষে আবেদন করায় দ্রুত বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’

ঢাকা/ আসাদ/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়