RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৫ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১০ ১৪২৭ ||  ০৮ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

ফুট ওভারব্রিজ-জেব্রা ক্রসিংয়ের তোয়াক্কা নেই, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

হাসিবুল ইসলাম মিথুন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১১:৫৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১২:৩৬, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০
ফুট ওভারব্রিজ-জেব্রা ক্রসিংয়ের তোয়াক্কা নেই, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপার হচ্ছেন পথচারীরা। অনেক স্থানে ফুট ওভারব্রিজ থাকলেও সে পথে চলাচলে আগ্রহ নেই অনেকেরই। আবার অনেক স্থানে ফুট ওভারব্রিজ ও জেব্রা ক্রসিং না থাকায় ঝুঁকি নিয়েই ব্যস্ত সড়ক পার হয় মানুষ।

ঢাকা মহানগরীর ব্যস্ততম এলাকা পুরানা পল্টন, বিজয় সরণী, মৎস্য ভবন, খামারবাড়ি মোড়, কাওরান বাজার, ফার্মগেট। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে রাস্তা পার হতে হয় চতুর্মুখী এ সড়কগুেলোর ওপর দিয়ে। কিন্তু এ এলাকায় নেই কোনো ওভারব্রিজ।

আবার রাজধানীর বিজয় সরণী, শাহাবাগ, কাকড়াইল মোড়সহ অন্যান্য ব্যস্ততম এলাকার রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং থাকলেও সেখানে যথাযথ নিয়ম মেনে রাস্তা পারাপার করছেন না মানুষজন। যে যেভাবে পারছেন, রাস্তা পার হচ্ছেন। এর ফলে প্রায়ই দুর্ঘটনার মুখে পড়তে হচ্ছে সাধারণ মানুষজনকে।

হাফসা রহমান রাজধানীর মিরপুর-১ নম্বরে রাস্তা পার হওয়ার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। কিন্তু মোড়ের ঠিক ১০ মিটারের মতো রাস্তা পার হওয়ার জন্য ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে। কিন্তু তিনি সেটা ব্যবহার না করে রাস্তা দিয়েই ঝুঁকি নিয়ে পার হচ্ছিলেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ফুটওভার ব্রিজ দিয়েই সব সময় আমি রাস্তা পার হই। কিন্তু প্রচণ্ড গরম বাইরে। আর এতোগুলো সিঁড়ি বেয়ে ওঠাও কষ্টসাধ্য। তাই রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছি। তাছাড়া আমাদের দেশে আবার এতো কিছু মেনে চলা হয় না। ফুটওভার ব্রিজ থাকার পরও অনেকেই রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন। 

এমন আরও কয়েকটি সিগন্যালে পথচারীদের সঙ্গে জেব্রা ক্রসিংয়ের বিষয়ে কথা বলে জানা যায়, এ ক্রসিং নিয়ে তাদের তেমন কোনো ধারণাও নেই। আবার কারো কারো ধারণা থাকলেও সেই নিয়ম ইচ্ছে করেই মানছে না। যে যেভাবে পারছেন, সুযোগ পেলেই দৌড় দিয়ে বা হাত উঁচু করে বাস বা গাড়ি থামিয়ে রাস্তা পার হচ্ছেন।

এ বিষয়ে রাজধানীর কাওরান বাজার সিগন্যাল পয়েন্টে স্বাধীন পরিবহনের চালক মোহাম্মদ মোসলেম হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, আমাদের দেশের মানুষ একেবারেই অসচেতন। এদের জীবনের কোনো মায়া নেই। ঢাকা শহরে অনেক ফুটওভার ব্রিজ রয়েছে, কিন্তু সেগুলো অনেকেই ব্যবহার করছে না। সামান্য কষ্টের ভয়ে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা দিয়েই পার হচ্ছেন। আবার কিছু কিছু স্থানে পারাপারের জন্য জেব্রা ক্রসিং দেওয়া আছে, সেগুলোও যথাযথভাবে মেনে চলা হয় না। মানুষজন হঠাৎ হঠাৎ বাসের সামনে থেকে দৌড়ে রাস্তা পার হয়। আর যদি তখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলেই দোষ পড়ে বাস চালকদের ওপর। আমরাতো ইচ্ছে করে এক্সিডেন্ট করি না।

ডিএমপির পক্ষ থেকে পথচারীদের সচেতনতা সৃষ্টি এবং ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের জন্য বহুবার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে কোনো কোনো ফুট ওভারব্রিজে ফুলসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া বনানী ও হযরত শাহজালাল (রা.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনের রাস্তায় ফুট ওভারব্রিজ চলন্ত সিঁড়িও স্থাপন করা হয়েছে। এর আগে পথচারীদের ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহার না করে সড়ক পারাপারে শাস্তির বিধান করা হয়েছিল। বসানো হয়েছিল ভ্রাম্যমাণ আদালত। এত সব উদ্যোগের পরও রাজধানীবাসীর ফুট ওভারব্রিজ ব্যবহারে কোনো আগ্রহ নেই। এতে করে প্রায়শই ঘটছে দুর্ঘটনা। রাস্তা পারাপারের সময় দুর্ঘটনা এড়াতে গাড়িগুলো থামতে বা ধীর গতিতে চলতে বাধ্য হচ্ছে। সৃষ্টি হচ্ছে যানজটের। বাড়ছে ভোগান্তি।

এ প্রসঙ্গে শাহাবাগ এলাকায় কর্তব্যরত ট্রাফিক পুলিশ সিদ্দিকুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, যানবাহনের ভিড়ের মধ্যেই দলে দলে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়ে। সে কারণে মানুষের দিকে নজর রাখতে হয়। তা না হলে কখন যে দুর্ঘটনা ঘটবে তা কেউ জানে না।

তিনি বলেন, শুধুমাত্র এখান থেকে না, রাজধানীর বিভিন্ন পয়েন্টে ওভারব্রিজ থাকা সত্ত্বেও সেই ব্রিজের নিচ দিয়েই অনেকে ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হয়। এখন এর কারণে যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটে তাহলে কে দায়ী হবে বলেন?।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী এ বিষয়ে বলেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় সিগন্যাল কাজ করছে না। আর জেব্রা ক্রসিং সেখানে কীভাবে কাজ করবে। তাই আগে আমাদের ট্রাফিক ব্যবস্থা ঠিক করতে হবে। এর সঙ্গে মানুষের সচেতনতাও প্রয়োজন। ঢাকার মানুষ পদচারী-সেতুর চেয়ে সড়কের ওপর দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে পার হয়। এর জন্য শিক্ষা এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ করা দরকার।

ঢাকা/ হাসিবুল/এসএম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়