RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৪ রবিউস সানি ১৪৪২

টাকার বিনিময়ে অ্যাসাইনমেন্ট, হার্ড লাইনে যাচ্ছে মাউশি

আবু বকর ইয়ামিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:০৪, ১৯ নভেম্বর ২০২০  
টাকার বিনিময়ে অ্যাসাইনমেন্ট, হার্ড লাইনে যাচ্ছে মাউশি

মাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের সাপ্তাহিক অ‌্যাসাইনমেন্টের ভিত্তিতে পরবর্তী শ্রেণিতে উত্তীর্ণ করার নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। স্বাস্থ্যবিধি মেনে সপ্তাহের একদিন শিক্ষা-প্রতিষ্ঠান থেকে অ্যাসাইনমেন্ট সংগ্রহ করে জমা দেওয়ার কথা বলা বলা হয়েছে। কিন্তু এই অ‌্যাসাইনমেন্ট দেওয়া-নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিষয়টিকে পুঁজি করে অবৈধভাবে অর্থ আয় করছেন কিছু শিক্ষক। মাউশি বলছে, এই বিষয়ে খুব হার্ড লাইনে সরকার। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সঙ্গে সঙ্গে অ্যাকশান নেওয়া হবে।  

অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের প্রাইভেট মাস্টার লিখে দিয়েছেন। আমি সেগুলো দেখে দেখে পুনরায় লিখে জমা দিচ্ছি।’

এক অভিভাবক রহমতুল্লাহ বলেন, ‘গ্রামের এক ভাতিজা আছে। সে লিখে দিয়েছে। অ্যাসাইনমেন্টের জন‌্য তাকে কিছু অর্থ দিলেই হয়। এক্ষেত্রে ক্লাসভেদে  ১০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত দিতে হয়।’ 

অ‌্যাসাইনমেন্ট প্রস্তুত করে বিক্রি করেন মাস্টার্সের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘অ্যাসাইনমেন্ট তৈরি করে দিলে মোটামুটি কিছু পাওয়া যায়। অনেকে অ্যাসাইনমেন্ট প্রতি ১০ টাকাও দেয়। আবার কেউ কেউ ৫০ থেকে ১০০টাকাও দেয়।’

একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক মারুফ হাসান বলেন, ‘শিক্ষার্থীকে নিজ হাতে লিখে অ্যাসাইমেন্ট দিতে বলা হয়েছে। এখন শুনছি কম্পিউটার দোকান, প্রাইভেট মাস্টার, স্থানীয় শিক্ষিত লোকদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট পাওয়া যাচ্ছে। আবার কিছু কিছু শিক্ষকও নাকি এতে জড়িত।’  

শিক্ষাবিদরা বলছেন, এজন্য তদারকি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি অভিভাবকদেরও সচেতনতা দরকার। কারণ, একজন শিক্ষার্থী যদি নকল অ্যাসাইনমেন্ট জমা দেয়, তাহলে সে নিজেই নিজের ক্ষতি করলো।  

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. একরামুল কবির বলেন, ‘একজন শিক্ষার্থীর মূল্যায়ন করার জন্য এই অ্যাসাইনমেন্ট-প্রক্রিয়া। যদি সেখানে নকল অ‌্যাসাইনমেন্ট সরবরাহ করা হয়, তাহলে শিক্ষার্থীরাই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই এই বিষয়ে তদারকি দরকার।’

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক বলেন, ‘শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে সুস্পষ্ট নির্দেশনা আছে, যেন অ্যাসাইনমেন্ট জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ফি না নেন। এরপরও যদি কোনো শিক্ষক ফি কিংবা টাকা নিয়ে অ্যাসাইনমেন্ট করে দেন, তার বিরুদ্ধে অবশ্যই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা হার্ডলাইনে আছি।’ 

‘কেমন ব্যবস্থা নেওয়া হবে’, জানতে চাইলে মাউশির মহাপরিচালক বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শাস্তির ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এক্ষেত্রে শোকজ-এমপিও বাতিলের সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলেও তিনি জানান।

ইয়ামিন/এনই

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়