Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১২ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ২৯ ১৪২৭ ||  ২৭ শা'বান ১৪৪২

শীতের তীব্রতা বাড়ার অপেক্ষায় কাপড় ব্যবসায়ীরা

শিহাবুল ইসলাম || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:০১, ৪ ডিসেম্বর ২০২০   আপডেট: ২২:০৩, ৪ ডিসেম্বর ২০২০
শীতের তীব্রতা বাড়ার অপেক্ষায় কাপড় ব্যবসায়ীরা

পঞ্জিকার হিসাব অনুযায়ী, শীতকাল এখনো আসেনি। তবে ইতোমধ‌্যে হিমেল হাওয়া বইতে শুরু করেছে। গ্রামের মানুষজন তো লেপ-কম্বলের নিচে নিজেকে সমর্পণ করছেন। ইট-কাঠের শহর ঢাকায় শীত আসতে একটু দেরি হলেও বসে নেই কাপড় ব্যবসায়ীরা। শীতবস্ত্র বিক্রি শুরু করেছেন তারা। তবে পাচ্ছেন না কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ক্রেতা। তাই তারা শীতের তীব্রতা বাড়ার অপেক্ষায় আছেন।

রাজধানীর গুলিস্তান, মৌচাক, নিউ মার্কেট ও ফার্মগেট এলাকা গিয়ে দেখা যায়, দোকাগুলোতে থরে থরে সাজানো লেপ, তোশক, কম্বল। সোয়েটার ও জ্যাকেটসহ বাহারি ডিজাইনের শীতবস্ত্রের বিকিকিনি কম।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে বেশিরভাগ মানুষের আর্থিক অবস্থা খারাপ। তবে শীত বেশি হলে বিকিকিনি বাড়বে।

অপরদিকে, আবহাওয়াবিদরা জানিয়েছেন, এ মাসের মাঝামাঝি সময়ে তাপমাত্রা কমে শীতের তীব্রতা বাড়তে পারে।

নিম্ন ও মধ্যবিত্ত মানুষদের কেনাকাটার প্রিয় জায়গা গুলিস্তানে হাফ-কোট বিক্রি হচ্ছে ৪০০ থেকে ৭৫০ টাকায়। ব্লেজারের দাম ৮০০ থেকে ২৫০০ টাকা।

বাইতুল মোকাররম মসজিদের পাশে বিক্রি হচ্ছে বিভিন্ন দামের কম্বল। এক রঙের কম্বল ১৫০-৩০০ টাকা, একাধিক রঙের কম্বল ৬০০-১৫০০ টাকা। ভালো কম্বল বিক্রি হচ্ছে ২২০০-৫০০০ টাকার মধ্যে। মেয়েদের দেশি লং কোট বিক্রি হচ্ছে ১০০০-১৫০০ টাকায়, সোয়েটার বিক্রি হচ্ছে ৬০০-২০০০ টাকার মধ্যে।

এখানকার মৌসুমি ব্যবসায়ী মো. আবু সায়েম। পাঁচ বছর ধরে কাপড়ের ব্যবসা করছেন। তিনি বলেন, ‘শীতও পড়েনি, কাস্টমারও আসছে না। বিক্রি খুবই কম। গতবছর এ সময়ে প্রতিদিন ১৫-২০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হতো। এবার তা হচ্ছে না। তাছাড়া, করোনার ভয়েও মানুষ বেশি আসছে না।’

একটু দূরেই ব্লেজার দেখছিলেন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী রাকিব আহমেদ। তিনি রাইজিংবিডিকে বলেন, ‘অফিস থেকে বেরিয়ে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম। দেখলাম, দাম কেমন। আরও কিছু দিন পর একটা ব্লেজার কিনব। এখনো তো শীত সেরকমভাবে পড়েনি।’

ফার্মগেটের হকার্স মার্কেটে ছেলেদের জ্যাকেট পাওয়া যাচ্ছে ৬০০-১৭০০ টাকার মধ্যে। এই মার্কেটের ব্যবসায়ী মেহেদি হাসান হতাশা প্রকাশ করে বলেন, ‘আপনি তো দেখতেই পাচ্ছেন, কেউ নাই। যে দু-একজন আসছেন, তারাও দেখে চলে যাচ্ছেন। গত ঈদের সময়ের মাল এখনও আটকে আছে। গতবার এ সময়ে প্রতিদিন ২৫-৩০ হাজার টাকার কাপড় বিক্রি হতো। এবার টেনে-টুনে ২-৩ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। শীত বাড়লে হয়তো বিক্রি বাড়বে।’

এদিকে, আর্থিকভাবে সচ্ছলদের কেনাকাটার স্থান হিসেবে পরিচিত নিউ মার্কেট, বসুন্ধরা শপিংমল, মৌচাক মার্কেট, যমুনা ফিউচার পার্কে ২ থেকে ১০ হাজার টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে সোয়েটার, ব্লেজার ও জ্যাকেট। বৈচিত্র্যময় পোশাকের জন্য পরিচিত শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে নতুন ডিজাইনের সোয়েটার পাওয়া যাচ্ছে ৬০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে।

ডিসেম্বরের শেষের দিকে শীত বাড়বে, জানিয়ে আবহাওয়াবিদ আরিফ হোসেন বলেন, ‘ঢাকায় এখনও মানুষ ফ্যান ব্যবহার করছেন। তবে দেশের অন্যান্য এলাকায় শীত পড়েছে। শহরে এখন যে তাপমাত্রা থাকার কথা, সেটাই আছে। শহরে বসতি অনেক বেশি। এখানের তাপমাত্রা অন্য এলাকার মতো না। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন নেই। ৭-৮ তারিখের পর থেকেই তাপমাত্রা কমতে শুরু করবে। ১৫ তারিখের পর আরও কমবে। আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি শীত হয় ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি পর্যন্ত।’ 

ঢাকা/এসআই/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়