Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ০৮ মে ২০২১ ||  বৈশাখ ২৫ ১৪২৮ ||  ২৫ রমজান ১৪৪২

খাদ্য সংগ্রহের জরুরি প্রয়োজনে দরপত্রের সময় কমানো হচ্ছে

কেএমএ হাসনাত || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২১:৪৬, ৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১  
খাদ্য সংগ্রহের জরুরি প্রয়োজনে দরপত্রের সময় কমানো হচ্ছে

রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে চাল ও গম কেনার ক্ষেত্রে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কমানো হচ্ছে। সরকার চলতি বছর ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ধান সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করে মাত্র ৫৯ হাজার ৮৪৩ মেট্রিক টন সংগ্রহ করতে পেরেছে। এ অবস্থায় খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার সময় কামনোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। 

উন্নততর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনসাধারণের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে খাদ্য মন্ত্রণালয় কাজ করছে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কৃষকের উৎসাহ দাম দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার প্রতি বোরো ও আমন মৌসুমে ধান-চাল কিনে থাকে। কিন্তু গত বছরের বোরো মৌসুমে সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার মাত্র ৫৪.৪৯ শতাংশ অর্জিত হয়েছে। অন্যদিকে, চলতি আমন সংগ্রহ মৌসুমে ২ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ৬ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে গত ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মাত্র ৫২ হাজার ২৭৬ মেট্টিক টন চাল ও ৭ হাজার ৫৬৭ মেট্রিক টন ধান সংগৃহীত হয়েছে। ঘন ঘন বন্যা, অতি বৃষ্টি, ঘূর্ণিঝড় আম্পানসহ করোনা মহামারির কারণে উৎপাদন কিছুটা ব্যাহত হওয়ায় বাজারে ধান ও চালের দামে ঊর্ধ্বগতি দেখা যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে সরকারি বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখাসহ নিরাপত্তা মজুত সুসংসহত করার স্বার্থে চাল ও গম আমদানি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে খাদ্য মন্ত্রণালয় জরুরিভাবে খাদ্যশস্য আমদানির ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করে বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে দরপত্র দাখিলের জন্য ১০ দিন সময় দেওয়া হতো। এরই ধারাবাহিকতায় একই পদ্ধতিতে আন্তর্জাতিক কোটেশন আহ্বান করে চাল ও গম কেনা হচ্ছিল। কিন্তু পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ২০০৬ এর ৩৪ (২)(খ) ধারা ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর ৮৫(৩)(ক) বিধি অনুসরণের ক্ষেত্রে ব্যত্যয় হওয়ায় ওই পদ্ধতিতে ক্রয় কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। উল্লিখিত ধারা/বিধি অনুসরণ করে আন্তর্জাতিক ক্রয়ে কোটেশন দেওয়ার অনুরোধ জানানোর পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হলে একটি নির্দিষ্ট মেয়াদের জন্য সম্ভাব্য সরবরাহকারীদের তালিকা করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। অন্যদিকে, আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতিতে কেনার জন্য বিধি ৮৩ (১)(ক) অনুযায়ী পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশের তারিখ থেকে দরপত্র দাখিলের জন্য কমপক্ষে ৪২ দিন সময় দেওয়া বাধ্যতামূলক।

সূত্র জানায়, বিগত বোরো ও চলতি আমন ক্রয় মৌসুমে ধান ও চালের সরকার ঘোষিত মূল্য বাজার দর থেকে কম হওয়ায় সরকারি ক্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। গত ৩ ফেব্রুয়ারি সরকারি সংরক্ষাণাগারে ৫ লাখ ২১ হাজার মেট্রিক টন চাল ও ১ লাখ ৪৫ হাজার মেট্রিক টন গম মজুদ আছে। বর্তমান অর্থবছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ১০ লাখ ৩৮ হাজার ৯১০ মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৭৩৫ মেট্রিক টন গম বিতরণ করা হয়েছে। আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত আরও আনুমানিক ৮ লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ মেট্রিক টন চাল এবং ২ লাখ ৮৯ হাজার ৪৪৩ মেট্রিক টন গম বিতরণের প্রয়োজন হবে। আগামী ৩০ জুন সমাপ্তি মজুদ (নিরাপত্তা মজুদ) কম/বেশি ৮ লাখ মেট্রিক টন চাল ও ২ লাখ মেট্রিক টন গম রাখা আবশ্যক। তাই এ অর্থবছরে আরও কম/বেশি ১১ লাখ ৬ হাজার ৮৫৮ মেট্রিক টন চাল ও ৩ লাখ ৪২ হাজার ৬৭১ মেট্রিক টন গম প্রয়োজন হবে।

এ বিষয়ে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘ইতোমধ্যে জি টু জি চুক্তির আওতায় ভারত থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন, মিয়ানমার থেকে ১ লাখ মেট্রিক টন এবং আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল কেনার প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। এ অর্থবছরে আরও ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল কিনতে হবে। অন্যদিকে, ইতোমধ্যে দরপত্রের মাধ্যমে ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টন গম কেনার প্রস্তাব সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি অনুমোদন দিয়েছে। চলতি অর্থবছরে আরও কম/বেশি ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন গম সংগ্রহ করতে হবে।’

সূত্র জানায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮ এর ৬১(৫) বিধি অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ ক্রয়ের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে কেনার জন্য সরকার অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কমাতে পারবে বলে বিধান রয়েছে। বর্তমানে সরকারি সংরক্ষণাগারে খাদ্যের মজুদ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুততম সময়ে চাল ও গম আমদানির স্বার্থে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র পদ্ধতি প্রয়োগের ক্ষেত্রেও একইভাবে ক্রয় প্রক্রিয়ার সময় কামনো প্রয়োজন। এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাব অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির নীতিগত অনুমোদনের জন্য কমিটির পরবর্তী সভায় উপস্থাপন করা হবে বলে খাদ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

ঢাকা/হাসনাত/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়