Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ১৩ এপ্রিল ২০২১ ||  চৈত্র ৩০ ১৪২৭ ||  ২৮ শা'বান ১৪৪২

৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের চেষ্টা করছে জাপা

মোহাম্মদ নঈমুদ্দীন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪৭, ৮ মার্চ ২০২১   আপডেট: ১৯:৫৪, ৮ মার্চ ২০২১
৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব পূরণের চেষ্টা করছে জাপা

নিবন্ধনের ১২ বছরেও দলের সব কমিটিতে শতকরা ৩৩ ভাগ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার শর্তপূরণ করতে পারেনি প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টি।

দলের কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে জেলা-উপজেলাসহ সব কমিটিতে কাগজে কলমে নারী নেতৃত্ব ১০ থেকে ১২ শতাংশ। কাগজে কলমে দলের নারী নেতৃত্ব ১২ শতাংশ দেখানো হলেও বাস্তবে কিন্তু আরও কম। দলটির সব স্তরে বেশির ভাগ পদই আগলে রেখেছে পুরুষরাই।

তবে জাতীয় পার্টির দায়িত্বভার গ্রহণের পর থেকে নির্বাচন কমিশনের বেধে দেওয়া শর্ত দলের সব কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন জাপা চেয়ারম্যান ও বিরোধীদলীয়  উপনেতা গোলাম মোহাম্মদ কাদের এমপি।

২০২০ সালের মধ্যে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণ করার করার শর্তে ২০০৮ সালে রাজনৈতিক দল হিসেবে জাতীয় পার্টিকে নিবন্ধন দেয় নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

১২ বছরেও নির্বাচন কমিশনের শর্তপূরণ করা যায়নি কেন জানতে চাইলে সোমবার (৮ মার্চ) সকালে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের বলেন, আসলে আমরা কেন, জানা মতে কোনো দলই এই কোটা পূরণ করতে পারেনি।  তারপরও আমরা বসে নেই। শুধুমাত্র ইসির কোটা পূরণ নয় বরং জাতীয় পার্টিতে পুরুষের সমান নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

কমিটিতে ৩৩ শতাংশ কোটা পূরণে নারীদের অনীহা বড় কারণ উল্লেখ করে জিএম কাদের বলেন, কেন্দ্র থেকে জেলা-উপজেলায় নারীদের অনীহা একটা বড় কারণ।  গ্রামে গঞ্জের নারীরা রাজনীতিতে আসতেই চান না।  তাছাড়া পারিবারিক ও সামাজিক বাধা তো আছেই।  এসব বাধা বিপত্তি মোকাবিলা করে আমরা চেষ্টা করছি নারীদের বিশেষ করে শিক্ষিত নারীদের জাতীয় পার্টিতে নিয়ে আসতে।  আমরা কিছু কিছু ক্ষেত্রে সফলও হচ্ছি।  ইতিমধ্যে দলের সব স্তরের কমিটিতে নারী নেতৃত্ব বেড়েছে।  নিজ জেলা লালমনিরহাট জেলা কমিটিতে স্কুল শিক্ষিকাসহ বিভিন্ন পেশাজীবী নারীদের উল্লেখযোগ্য হারে পদে রাখা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্বাচন কমিশনের শর্তপূরণ বড় কথা নয় বরং নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করার জন্য জাতীয় পার্টিতে কেন্দ্রীয় কমিটিসহ সব স্তরে নারীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে গোলাম মোহাম্মদ কাদের বলেন, রাজনীতিতে নারীদের প্রতিষ্ঠা ছাড়া নারীর ক্ষমতায়ন অসম্ভব।  আমরা চেষ্টা করছি পুরুষদের পাশাপাশি জাতীয় পার্টিতে নারী নেতৃত্বের সমতা আনতে।  নারী সদস্যদের মধ্যে যারা কমিটিতে আছেন তাদের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে।  প্রত্যেক কমিটিতে নারীদের যাকে যেখানে রাখা দরকার তাকে সেই পদ দেওয়া হচ্ছে।  নারীরা দলীয় কমিটিতে ভালো কাজও করছেন।

‘দলের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই কমিটিতে নারীদের বিশেষ করে শিক্ষিত তরুণীদের প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে। একজন তরুণ এর বিপরীতে দুজন তরুণীকে দলে নেওয়া হচ্ছে,’ বলেও জানান জিএম কাদের।

নারীর ক্ষমতায়নের জন্য রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী পদ পূরণ নিশ্চিত করা সংক্রান্ত নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন জিএম কাদের।

তিনি বলেন, এটি অবশ্যই ইতিবাচক। নারী নেতৃত্ব নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে ইসির এই টার্গেট বড় ভূমিকা রাখবে।  সব দলে নারী নেতৃত্ব বাড়ানো উচিত বলে মনে করেন জিএম কাদের।

জানা গেছে, প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা বেগম রওশন এরশাদ, দলের কো-চেয়ারম্যান হিসেবে সালমা ইসলাম এমপি, প্রেসিডিয়াম সদস্য হিসেবে প্রফেসর মাসুদা রশীদ চৌধুরী এমপি, নাজমা আখতার এমপি, উপদেষ্টা হিসেবে শেরিফা কাদের, ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে অধ্যক্ষ রওশন আরা মান্নান এমপি, সালমা হোসেন, হেনা খান পন্নীসহ জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটিতে প্রায় ৫০ জনের অধিক নারী সদস্য রয়েছেন। সর্বশেষ রীনা তুলি নামের একজন নারী সাংবাদিক জাতীয় পার্টির সদস্য হয়েছেন।

তবে কেন্দ্রীয় কমিটির বিপরীতে কেবলমাত্র মহিলা পার্টি ছাড়া অঙ্গ সহযোগী সংগঠনগুলোতে বর্তমানে নারীদের পদায়ন একেবারে কম বললেই চলে। একই অবস্থা জাতীয় পার্টির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর কমিটিতে। জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলোতেও একই অবস্থা বিরাজ করছে।

তবে দলের সব কমিটিতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন গোলাম মোহাম্মদ কাদের।

তিনি বলেন, সব কমিটিতে যাতে নারী সদস্য বাড়ানো যায় সেই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যে কমিটিগুলোতে সদস্য সংগ্রহ অভিযানের মাধ্যমে অধিকসংখ্যক নারী নেতৃত্ব পূরণের চেষ্টা চলছে।

জানা গেছে, নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় পার্টির দেওয়া সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে দলীয় কমিটিগুলোতে ১২ শতাংশ নারী পদায়নের কথা বলা হয়েছে।

এ সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনকারী জাতীয় পার্টির প্রেসিডিয়াম সদস্য অ্যাডভোকেট রেজাউল ইসলাম ভুইয়া বলেন, প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের যোগ্য উত্তরসূরি জিএম কাদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে জাতীয় পার্টিকে নারীবান্ধব দলে পরিণত করেছেন।  সব কমিটিতে তিনি নারীদের প্রাধান্য দিচ্ছেন। কারণ নারীদের নেতৃত্বে আনা না গেলে সবদিক থেকে নারীরা পিছিয়ে পড়বে।  এছাড়া পুরুষ ভোটারদের প্রায় সমান নারী ভোটার।  ইসির টার্গেট পূরণের বিষয়টিও রয়েছে।  সবকিছু চিন্তা করে পার্টির চেয়ারম্যান উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী সদস্য কমিটিতে অন্তর্ভুক্তির চেষ্টা করছেন

নঈমুদ্দীন/সাইফ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়

শিরোনাম

Bulletলকডাউন: ১৪-২১ এপ্রিল। যা যা চলবে: ১. বিমান, সমুদ্র, নৌ ও স্থল বন্দর এবং তৎসংশ্লিষ্ট অফিস। ২. পণ্য পরিবহন, উৎপাদন ব্যবস্থা ও জরুরি সেবাদানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না ৩. শিল্প-কারখানা ৪. আইনশৃঙ্খলা এবং জরুরি পরিসেবা, যেমন, কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস/জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বন্দরগুলোর (স্থল, নদী ও সমুদ্রবন্দর) কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি-বেসরকারি), গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাক সেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতা বর্হিভূত থাকবে। ৫. ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ৬. খাবারের দোকান ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ১২টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কেবল খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। ৭. কাঁচাবাজার এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সকাল ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত উন্মুক্ত স্থানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্রয়-বিক্রয় করা যাবে || যা যা বন্ধ থাকবে: ১. সব সরকারি, আধাসরকারি, সায়ত্ত্বশাসিত ও বেসরকারি অফিস, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে ২. সব ধরনের পরিবহন (সড়ক, নৌ, অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট) বন্ধ থাকবে ৩. শপিংমলসহ অন্যান্য দোকান বন্ধ থাকবে