ঢাকা     রোববার   ২৩ জানুয়ারি ২০২২ ||  মাঘ ৯ ১৪২৮ ||  ১৯ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, তবু বাড়ছে না সচেতনতা

মেসবাহ য়াযাদ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২০:৪৪, ১৩ জানুয়ারি ২০২২   আপডেট: ২১:৩৩, ১৩ জানুয়ারি ২০২২
করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী, তবু বাড়ছে না সচেতনতা

ফাইল ফটো

প্রতিদিনই করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এবং মৃত্যু বাড়ছে। নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রনের বিস্তার ঠেকাতে মাস্ক পরার পাশাপাশি সবাইকে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। টিকা কার্যক্রম জোরদারের পাশাপাশি সরকারকে আরও কঠোর ভূমিকা নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তারা।

করোনা মোকাবিলায় সরকারের জারি করা ১১ দফা বিধি-নিষেধ বৃহস্পতিবার (১৩ জানুয়ারি) থেকে কার্যকর হয়েছে। বিধি-নিষেধ পরিপালন নিশ্চিত করতে সকাল থেকে মাঠে আছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় মৃত্যু হয়েছে ১২ জনের। দীর্ঘদিন পর আজ মৃত্যুর সংখ্যা ডাবল ডিজিটে উঠেছে। এ নিয়ে করোনায় মারা গেলেন ২৮ হাজার ১২৩ জন। ১২ জানুয়ারি সকাল ৮টা থেকে ১৩ জানুয়ারি সকাল ৮টা পর্যন্ত ৩ হাজার ৩৫৯ জনের দেহে করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ১২.০৩ শতাংশ।

এদিকে, বৃহস্পতিবার থেকে ১১ দফা বিধি-নিষেধ চালু হলেও রাস্তা-ঘাট, হোটেল, মার্কেটে মানুষের মধ্যে তেমন সচেতনতা দেখা যায়নি। প্রায় সবার মধ্যে উদাসীনতা লক্ষ করা গেছে। যাত্রী থেকে শুরু করে বাসচালক বা সহকারী,বেশিরভাগেরই মুখে মাস্ক ছিল না। যাদের কাছে ছিল, তারা সঠিকভাবে মাস্ক ব্যবহার না করে নাক-মুখ খোলা রেখেছেন।

বিধি-নিষেধ আরোপের প্রথম দিন দুপুর ১২টায় রাজধানীর শাহবাগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সঞ্জীব দাস। ওই রাস্তায় দেখা যায়, বেশিরভাগ মানুষ সঠিকভাবে মাস্ক পরিধান করেননি। কেউ থুতনিতে মাস্ক পরেছেন, কেউ ম্যাজিস্ট্রেট দেখে পকেট থেকে মাস্ক বের করেছেন। অনেকের কাছেই ছিল না মাস্ক। কারো কারো মাস্ক ছিল পকেটে। মাস্ক না পরার জন্য নানা অজুহাত দেখিয়েছেন তারা। তাদের কয়েকজনের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। কিছু মানুষকে অর্থদণ্ড দিয়েছেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট।

তবে, মামলা বা অর্থদণ্ড দিয়ে লাভ হবে না বলে মনে করেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, বেশি বেশি প্রচারের মাধ্যমে মানুষদের সচেতন করতে হবে। নিজ থেকে সবাই সচেতন না হলে করোনার সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।

গতকাল স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ‘যে হারে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে অন্তত আরও ২০ হাজার শয্যা করোনা রোগীদের জন্য প্রস্তুত রাখতে হবে।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ডা. রোবেদ আমিন বলেছেন, ‘আমাদের সবাইকে সতর্ক হতে হবে। মাস্ক পরার পাশাপাশি অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। সরকার চেষ্টা করছে, দ্রুততম সময়ের মধ্যে সবাইকে করোনার টিকা দিতে।’

অধ্যাপক ডা. ফরহাদ মনজুর বলেন, ‘মাস্ক পরার বিকল্প নেই। প্রয়োজন ছাড়া বাসার বাইরে যাওয়ার দরকার নেই। ভিড় এড়িয়ে চলতে হবে সবাইকে। সংক্রমণ ঠেকাতে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। আমাদের হতে হবে সচেতন।’

মেয়া/রফিক

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ