RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শুক্রবার   ০৪ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ২০ ১৪২৭ ||  ১৭ রবিউস সানি ১৪৪২

বিশ্বের প্রথম পরিপূর্ণ সাইবর্গ!

আহমেদ শরীফ || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৪:২৬, ১৬ অক্টোবর ২০১৯   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
বিশ্বের প্রথম পরিপূর্ণ সাইবর্গ!

সাইবর্গ হচ্ছে প্রাকৃতিক এবং যন্ত্রের সমন্বয়ের মানুষ। সহজে চেনাতে হলে ‘রোবোকপ’কে সামনে আনতে হবে। আমরা জানি রোবোকপের চরিত্রটি একজন সাহসী পুলিশ অফিসারের। যার দুর্ঘটনার পর তাকে বাঁচিয়ে রাখতে শরীরের অনেকগুলো অঙ্গ কৃত্রিম বা যান্ত্রিক লাগানো হয়। ফলে এমন এক সমন্বয় সৃষ্টি হয়, যা মানুষ আর রোবটের মিশ্রণ বলা চলে।

এখন পর্যন্ত এ ধরনের মানুষ কেবল সায়েন্স ফিকশন সিনেমায় দেখা গেলেও, এবার বাস্তবেই এক বিজ্ঞানী নিজেকে পরিপূর্ণ সাইবর্গে রূপান্তর করেছেন। ড. পিটার স্কট মরগান নামের ৬১ বছর বয়সী এক বৃটিশ বিজ্ঞানী মাংসপেশী ক্ষয়ে যাওয়া রোগে মৃত্যু পথযাত্রী। এই অবস্থায় পৃথিবীর প্রথম ‘সাইবর্গ’ হওয়ার পদক্ষেপও নিয়েছেন তিনি।

দু’ বছর আগে ড. পিটারের মোটর নিউরন রোগ ধরা পড়ে। তবে এই রোগে তিলে তিলে মরে যেতে চান না তিনি। রোবটিক জীবনযাপন করতেই নিজেকে সাইবর্গে রূপান্তর করেছেন ড. পিটার। এক্ষেত্রে নিজের নাম ‘পিটার ২.০’ রেখেছেন তিনি।

সাইবর্গে পরিণত হওয়ার শেষ পদক্ষেপ হিসেবে ল্যারিনজেকটোমি অপারেশন করিয়েছেন এই বিজ্ঞানী। এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ‘পিটার ১.০’ হিসেবে নিজের শেষ টুইটটি করেন টুইটারে। সেখানে লেখেন- ‘পিটার ১.০ হিসেবে এটি আমার শেষ পোস্ট। আগামীকাল থেকে কয়েক দশক ধরে পুরো সাইবর্গ হিসেবে বেঁচে থাকতে নতুন কন্ঠে কথা বলবো। এ মাসে আমি মারা যাবো বলেছেন ডাক্তাররা। তবে আমি মরছি না, রূপান্তর হচ্ছি। ওহ, এই কারণেই বিজ্ঞানকে ভালোবাসি আমি।’ এই ভাবেই বিশ্বের প্রথম পরিপূর্ণ সাইবর্গ হিসেবে নিজেকে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এই বিজ্ঞানী।

 

 

তার ভাষায়- ‘পৃথিবীর সাথে আমার সব ধরনের শারীরিক যোগাযোগ রোবটিক হয়ে উঠবে। আমার বর্তমানের ৫ ধরনের অনুভূতি আরো তীক্ষ্ণ হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো আমার মস্তিষ্কের একটি অংশ আর বাহ্যিক অবয়ব ইলেকট্রিক, পুরোপুরি সিনথেটিক হবে।’

আই ট্রেকিং টেকনোলজিও নিজের ওপর প্রয়োগ করেছেন এই বিজ্ঞানী। এর ফলে চোখের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের কম্পিউটার নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন তিনি। সেজন্য চোখে লেজার সার্জারির মাধ্যমে তার কম্পিউটার স্ক্রিনের দূরত্বে ৭০ সেন্টিমিটারের মধ্যে সব কিছু স্পষ্ট দেখতে পাবেন। এছাড়া বিশেষ একটি হুইল চেয়ার ব্যবহার করছেন এই বিজ্ঞানী, যা তাকে দাঁড়াতে, সোজা হয়ে শুয়ে পড়তে ও দ্রুত এগিয়ে যেতে সাহায্য করছে। এছাড়া নজিরবিহীন একটি সার্জারি করিয়েছেন তিনি। এর ফলে তার পাকস্থলীতে একটি খাবারের টিউব বসানো হয়েছে, তার ব্লাডারে একটি ক্যাথেটার ও কোলনে একটি কোলোস্টোমি ব্যাগ বসানো হয়েছে। এর ফলে যদি খাবার ও টয়লেটের কাজ সারতে হয়, তা করতে পারবেন।

আগামী বছর চ্যানেল ফোর এ এই বিজ্ঞানীকে নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি অন এয়ার হতে চলেছে।


ঢাকা/ফিরোজ

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়