ঢাকা, বুধবার, ৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২০ নভেম্বর ২০১৯
Risingbd
সর্বশেষ:

‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ পেল ১০ স্টার্টআপ

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১০-১৭ ৬:৫৮:১৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১০-১৭ ৬:৫৮:১৪ পিএম

আইসিটি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন একাডেমী প্রতিষ্ঠাকরণ প্রকল্প’ বা ‘আইডিয়া ‘প্রকল্প’ এর মাধ্যমে সেরা ১০ স্টার্টআপ পেল ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’।

ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯ এর সমাপনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে বুধবার ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট বিজয়ী স্টার্টআপদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম রহমত উল্লাহ, আইসিটি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম এবং গেস্ট অব অনার হিসেবে ছিলেন ডব্লিউআইটিএস-এর মহাসচিব ড. জামেস এইচ পিসান্ট। এছাড়াও ছিলেন বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক হোসনে আরা বেগম, আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক (যুগ্ম-সচিব) সৈয়দ মজিবুল হক, বাংলাদেশ কম্পিউটার সমিতির সভাপতি মো. শাহিদ-উল-মুনীর, সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশনের সমন্বয়ক তন্ময় আহমেদ সহ আরো অনেকে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বলেন, দেশ এখন অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বঙ্গবন্ধু একটি স্বপ্ন দেখেছিলেন সোনার বাংলার। ভেবেছিলেন একটি বাংলাদেশ হবে সোনার বাংলাদেশ। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে সেই স্বপ্ন ধারণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দিনরাত পরিশ্রম করে এই দেশকে আজকের এই উন্নয়নের অবস্থায় নিয়ে এসেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন বাংলাদেশ পথ হারাবে না কখনও, এগিয়ে যাবেই যাবে।

বিশেষ অতিথি হিসেবে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব এ কে এম রহমত উল্লাহ বলেন, তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নয়নের জন্য বাংলাদেশ বিশ্বের কাছে এখন আইকন স্বরূপ এবং উন্নয়নের মহাসড়কে আছে। তথ্যপ্রযুক্তির কল্যাণে দুর্যোগ প্রশমন এর ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন একটি রোল মডেল হিসেবেও চিহ্নিত। দেশের উদ্ভাবনী প্রযুক্তি নিয়ে এ ধরনের মেলা আয়োজনের জন্য তিনি আনন্দ প্রকাশ করেন এবং আয়োজকদের ধন্যবাদ জানান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম বলেন, এই আয়োজনটি একটি স্বার্থক আয়োজন। আমরা যা চেয়েছিলাম তার থেকে অনেক বেশি অর্জন করতে পেরেছি এই মেলা থেকে। আমাদের তরুণদের ইনোভেশন এই মেলাতে আশা দর্শকদের পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদেরও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পেরেছে। এই মেলায় সেমিনার বা অন্যান্য আয়োজনের মাধ্যমে বেশকিছু তথ্য, উপদেশ ও পরামর্শ এসেছে যা আমাদের আগামী দিনের পথচলতে সাহায্য করবে বলে জানান।

সভাপতির বক্তব্যে আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ২০২০ ও ২০২১ মুজিব বর্ষ উপলক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তি পরিবার নিয়েছে হান্ড্রেড প্লাস স্ট্র্যাটেজি। ২০২০ সালে আইসিটি বিভাগের সকল কর্মকর্তা স্বাভাবিকের চেয়ে অন্তত ১০০ ঘণ্টা বেশি কাজ করবে। একই সাথে সবাই মিলে ১০০ এর বেশি সার্ভিস নিয়ে আসা হবে। দেশে প্রথমবারের মতো ১০টি স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানকে ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ দেওয়া হলেও ভবিষ্যতে আরো ১০০ স্টার্টআপদের ইনোভেশন অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হবে। যারা পায়নি তারাও ভবিষ্যতে আইডিয়া প্রকল্পে সরাসরি আবেদন করতে পারবেন। তিনি বিশ্বাস করেন যে, এই স্টার্টআপরাই আগামীতে নেতৃত্ব দিতে পারবে। এই উদ্দেশ্য নিয়েই স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু করা হয়েছিল।

আইডিয়া প্রকল্পের পরিচালক সৈয়দ মজিবুল হক ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯ এর মাধ্যমে স্টার্টআপদেরকে তাদের পন্য এবং সেবা সকলের নিকট তুলে ধরার সুযোগ প্রদানের জন্য বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি স্টার্টআপদের এই অনুদান গ্রহণ করে তাদের পণ্য বা সেবার উন্নয়নের জন্য অনুপ্রাণিত করেন এবং সীড ও গ্রোথ স্টেজেও স্টার্টআপদের আইডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ভবিষ্যৎ ফান্ডিং এর ক্ষেত্রে পাশে থাকবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন।

‘আমার উদ্ভাবন, আমার স্বপ্ন’- এই স্লোগানকে সামনে রেখে শুরু হয়েছিল শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতা ‘স্টুডেন্ট টু স্টার্টআপ’ এর দ্বিতীয় অধ্যায়। গত ১৬ অক্টোবর, এই প্রতিযোগিতার জাতীয় স্টার্টআপ ক্যাম্প থেকে প্রাপ্ত সেরা ৩০ স্টার্টআপকে নিয়ে শুরু হয় এই প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত সেরা ১০ স্টার্টআপ নির্বাচনের পিচিং সেশন। গতকাল ‘ডিজিটাল ডিভাইস অ্যান্ড ইনোভেশন এক্সপো ২০১৯’ মেলার শেষ দিন বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রের হল অব ফেম-এ এই চূড়ান্ত পিচিং সেশন অনুষ্ঠিত হয়। দেশের অভিজ্ঞ বিচারক ও আইডিয়া প্রকল্পের বাছাই কমিটি চূড়ান্ত বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

এবারই প্রথমবারের মতো ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ প্রদান করা হলো শীর্ষ ১০ স্টার্টআপকে। প্রত্যেকে ১০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা অনুদান প্রদান করা হয়। সেই সঙ্গে শীর্ষ ৩০-এ থাকা অপর ২০ স্টার্টআপ রানারআপ হিসেবে আইডিয়া প্রকল্প থেকে গ্রুমিং ও বিশেষ প্রশিক্ষণ নেয়ার সুযোগ পাবে। প্রশিক্ষণ শেষে স্টার্টআপগুলো প্রস্তুত হলে তাদের জন্যও অনুদান প্রদান করবে আইডিয়া প্রকল্প। প্রায় ২৫০০ স্টার্টআপ তাদের উদ্ভাবনী আইডিয়া নিয়ে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছিল।

যে ১০টি স্টার্টআপ ‘বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ট’ পেল: ঝুপরি ডটকম, ভিশন আইটি, ওয়ার্ল্ড এক্সজাম্পল, ইলেকট্রিক স্কেটেবল অ্যান্ড ওয়াকেবল সু, এডুবট, অবসর, ডিজিটং, ক্রস রোড ইনিশিয়েটিভ, ব্ল্যাকবোর্ড এবং কগনিশন ডট এআই।

আইসিটি বিভাগের আওতায় বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের অধীনে আইডিয়া প্রকল্প দেশে দ্বিতীয় বারের মতো আয়োজন করে প্রতিযোগিতাটি। উদ্ভাবনী ভাবনা ও উদ্যোক্তা খোঁজার এই আয়োজনের সহোযোগিতায় আছে সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) এর ‘ইয়াং বাংলা’ প্ল্যাটফর্ম। আইডিয়া প্রকল্প সংক্রান্ত বিস্তারিত স্টার্টআপ বাংলাদেশ এর ওয়েবসাইটে www.startupbangladesh.gov.bd পাওয়া যাবে।

 

ঢাকা/ফিরোজ

ইউটিউব সাবস্ক্রাইব করুন