ঢাকা, মঙ্গলবার, ৭ মাঘ ১৪২৬, ২১ জানুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

৪৪ হাজার বছর পুরোনো!

আহমেদ শরীফ : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০১৯-১২-১৪ ১:৪২:৪১ পিএম     ||     আপডেট: ২০১৯-১২-১৪ ১:৪৭:২১ পিএম

বিশ্বে এ যাবতকালের সবচেয়ে প্রাচীন গুহাচিত্রের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। ইন্দোনেশিয়ার একটি গুহায় মানুষের পশু শিকার করার যে গুহাচিত্রটি বিজ্ঞানীরা খুঁজে পেয়েছেন, তা ৪৪ হাজার বছর পুরোনো!

চুনাপাথরের গায়ে আঁকা এই গুহা চিত্রে দেখা যাচ্ছে অর্ধেক মানুষ ও অর্ধেক পশুর মতো দেখতে থেরিয়ানথ্রপরা বর্শা ও দড়ির মতো উপকরণ দিয়ে বিশাল পশু শিকার করছে। এই গুহাচিত্রটি প্লেইসটোসিন যুগের শেষ দিকে আঁকা হয়েছিল। আটটি মানুষের মতো অবয়ব, দুটি শূকর ও চারটি অ্যানোয়া অর্থাৎ ছোট আকারের মহিষ দেখা যাচ্ছে ওই চিত্রে।

ইউরেনিয়াম ডেটিংয়ের মাধ্যমে গুহার পাথরে ১৪ ফুট চওড়া গুহাচিত্রটি পর্যবেক্ষণ করে প্রাচীন মানুষের চিন্তাধারা জানার চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। এ যাবৎ আবিষ্কৃত সবচেয়ে প্রাচীন এই গুহাচিত্র মানুষের কল্পনা ও বিমূর্ত চিন্তার প্রথম উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়ার গ্রিফিথ ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ববিদরা এই গুহাচিত্রটি খুঁজে পেয়েছেন। এই গুহাচিত্রে মানুষ আঁকা যেতে পারতো, কিন্তু সেখানে থেরিয়ানথ্রপ কেন আঁকা হলো? সে প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গবেষকরা বলছেন  সে সময়ের মানুষের সুপার ন্যাচারাল চিন্তা ও কল্পনার পরিচয় বহন করছে এই থেরিয়ানথ্রপরা।

দুই বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের লিয়াংবুলু সিপোং ফোর গুহায় এই গুহাচিত্রটি খুঁজে পান বিজ্ঞানীরা। নতুন গবেষণার পর চিত্রটির বয়স সম্পর্কে জানতে পারলেন তারা।

তিন বছর আগে এই বিজ্ঞানীরাই প্রায় ৪০ হাজার বছর আগের মানুষের তৈরি একটি চিত্রের সন্ধান পেয়েছিলেন। এর আগে মানুষের পশু শিকার নিয়ে যে প্রাচীন চিত্রটি পাওয়া গিয়েছিল ইউরোপের প্যালেওলিথিক গুহায়, সেটি ছিল ২১ হাজার বছর পুরোনো। নতুন আবিষ্কৃত ৪৪ হাজার বছর পুরোনো গুহাচিত্রটিতে গাঢ় লাল রংয়ে যে মানুষ ও পশু আঁকা হয়, তা একই সময়ে ও একই শৈল্পিক শৈলীতে আঁকা হয় বলে ধারণা করছেন বিজ্ঞানীরা।

ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপে অন্তত ২৪২টি গুহা আছে, যেগুলোতে প্রাচীন সব গুহাচিত্র আঁকা আছে। প্রতি বছরই সেসব গুহা থেকে প্রাচীন সব ছবি আবিষ্কারের চেষ্টা করছেন বিজ্ঞানীরা। তবে আশঙ্কার বিষয় হলো চুনা পাথরের তৈরি সেসব গুহা এখন ক্ষয়ে যাচ্ছে, সে কারণে মানব ইতিহাসের প্রাচীন সব গুহাচিত্রও হারিয়ে যাওয়ার পথে।

 

ঢাকা/ফিরোজ