ঢাকা, শুক্রবার, ২০ চৈত্র ১৪২৬, ০৩ এপ্রিল ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

করোনাভাইরাস শনাক্তে অনলাইন ট্র্যাকিংয়ে ঝুঁকছে দক্ষিণ কোরিয়ানরা

মোখলেছুর রহমান : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২৬ ১১:৫৬:৩১ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২৬ ৮:০৭:২১ পিএম

দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন করোনাভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে বেসরকারি সফটওয়্যার নির্মাতারা ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস এর মাধ্যমে হালনাগাদ তথ্য সরবরাহ করছে। মূলত দেশটিতে দ্রুত এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতেই তারা এই উদ্যোগ নিয়েছে।

ওয়েবসাইট এবং অ্যাপস এর এই হালনাগাদ তথ্য সাধারণ মানুষকে করোনাভাইরাস আক্রান্তের ঘটনা শনাক্ত করতে এবং সেই স্থানগুলো থেকে দূরে থাকতে সাহায্য করছে।

অতীতে এ ধরনের ভাইরাস মোকাবেলায় কোরীয় সরকারের নেয়া পদক্ষেপগুলো নিয়ে অনেক সমালোচনা হয়েছে। আর সে অভিজ্ঞতা থেকেই দেশটির সরকার এবার প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া ঘটনাগুলোর বিষয়ে খুব বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করছে। যার মধ্যে রয়েছে বয়স, লিঙ্গ এবং সংক্রামিত ব্যক্তিটির সংক্রমিত হওয়ার আগের প্রতিদিনের যাতায়তের পথের যাবতীয় তথ্য।

যদিও এতে কারো পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি তবে এই তথ্যগুলো ওয়েবসাইট নির্মাতাদের রোগীদের গতিবিধি অনুসরণ করে বিশদ মানচিত্র তৈরি করতে সাহায্য করেছে।

দেশটির একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, যিনি বিষয়টি সংবেদনশীলতার কারণে নিজের পরিচয় দিতে অস্বীকার করেছেন, তিনি রয়টার্সকে জানান, ‘আমরা পাঁচ বছর আগে মার্স প্রাদুর্ভাবের সময় ব্যাপক সংক্রমণ হওয়ার পরে জনসাধারণের প্রতিক্রিয়া অনুভব করেছিলাম। কারণ আমরা তখন সংক্রামিত ব্যক্তিদের কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে সে বিষয়ে জনসাধারণকে অবহিত করিনি।’

ওয়েবসাইট নির্মাতাদের তৈরি করা একটি সাইট করোনাম্যাপ ডট লাইভ-এ  ‘আমি নিরাপদ কিনা তা দেখুন’ লেবেলযুক্ত একটি বোতাম রয়েছে। ফলে এক ক্লিকেই ব্যবহারকারীরা দেখতে পারে যে তাদের আশেপাশে কোনো করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী রয়েছে কিনা।

অনেক দক্ষিণ কোরিয়ান এই সাইটগুলোতে লগইন করছে। কেউ কেউ বলছেন যে, সংক্রামিত হতে পারেন এই ধরনের ভয় নিয়ে একটি অনলাইন ম্যাপস দেখে চলাচল করা খুবই মর্মান্তিক। তবে এই তথ্যগুলোই তাদের বাইরে যেতে বাধা দেয়।

২১ বছর বয়সি শিক্ষার্থী সু-সাঙ্গ করোনাম্যাপ ডটলাইভকে এসময়ে সবচেয়ে দরকারি বলে মনে করেন। তিনি মনে করেন, এতে যত বেশি তথ্য দেয়া হবে সবার জন্য তত বেশি ভালো হবে।

করোনাম্যাপ ডটলাইভ সাইটটি তৈরি করেছেন কম্পিউটার সায়েন্সের শিক্ষার্থী রায়ান জুন-সিও হংক। তিনি জানান, প্রতিদিন ৩০০,০০০ এরও বেশি লোক সাইটটি দেখছে। এই মানচিত্রে কোরিয়ান, চীনা এবং ইংরেজি ভাষা যুক্ত হওয়ায় তা একটি ইন্টারেক্টিভ মানচিত্রে পরিণত হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে ৭ জনের মৃত্যুর পাশাপাশি নিশ্চিত সংক্রমণের পরিমাণ ৩১ থেকে বেড়ে ৭৬৩ এরও বেশি হয়ে যাওয়ায় হালনাগানাদ তথ্য দেয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে।


ঢাকা/ফিরোজ