RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     রোববার   ২৪ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ১০ ১৪২৭ ||  ০৯ জমাদিউস সানি ১৪৪২

বিনিয়োগ পাচ্ছে সানোফি-গ্লাক্সোর করোনা ভ্যাকসিন

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২২:৪০, ৩১ জুলাই ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
বিনিয়োগ পাচ্ছে সানোফি-গ্লাক্সোর করোনা ভ্যাকসিন

করোনাভাইরাসের সফল একটি ভ্যাকসিন পাওয়ার প্রত্যাশায় যুক্তরাষ্ট্র সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলো নিয়ে বড় একটি বাহিনী গঠন করে চলেছে। তারই ধারাবাহিকতায় দেশটির সরকারি তহবিল এবার পেতে যাচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম দুটি ভ্যাকসিন প্রস্তুতকারক কোম্পানি সানোফি এবং গ্ল্যাক্সো স্মিথক্লাইন।

শুক্রবার (৩১ জুলাই) উভয় কোম্পানি বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের প্রোটিন-ভিত্তিক করোনা ভ্যাকসিন মার্কিন সরকারের অপারেশন ওয়ার্প স্পিড প্রকল্প থেকে তহবিল গ্রহণ করবে। ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসের মধ্যে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য করোনাভাইরাসের নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিনের ৩০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহের প্রচেষ্টা হিসেবে।

মার্কিন এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো, প্রতিশ্রুতিশীল ভ্যাকসিনগুলোর প্রচুর পরিমাণ ডোজ উৎপাদনে সহায়তা করা, যদিও ভ্যাকসিনগুলোর এখনো ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।

নতুন অংশীদারিত্বের আওতায় সানোফি এবং গ্লাক্সো মার্কিন সরকার থেকে ২.১ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত অনুদান পাবে। এই অর্থের অর্ধেকেরও বেশি ভ্যাকসিন তৈরি এবং ক্লিনিক্ল্যাল ট্রায়ালের দিকে যাবে। বাকি অর্থ ভ্যাকসিনের ১০০ মিলিয়ন প্রাথমিক ডোজ উৎপাদন ও সরবরাহের দিকে যাবে। পাশাপাশি মার্কিন সরকারের আরো ৫০০ মিলিয়ন ডোজ ভ্যাকসিন পাওয়ার সুযোগ থাকবে।

‘অপারেশন ওয়ার্প স্পিড প্রকল্পের মাধ্যমে করোনার সম্ভাব্য ভ্যাকসিনগুলোকে একত্রিত করা হচ্ছে, যেন বছর শেষ হওয়ার সাথে সাথে কমপক্ষে একটি নিরাপদ ও কার্যকর ভ্যাকসিন আমরা পেতে পারি।’ শুক্রবার মার্কিন স্বাস্থ্য ও মানবসেবা বিষয়ক সচিব আলেক্স আজার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছেন।

অপারেশন ওয়ার্প স্পিড এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগ করা অন্যান্য ভ্যাকসিন কোম্পানির মধ্যে অক্সফোর্ড এবং অ্যাস্ট্রোজেনেকা, জনসন অ্যান্ড জনসন, মার্ক, মর্ডানা, নোভাভ্যাক্স এবং ফাইজারের তৈরি করোনা ভ্যাকসিন রয়েছে।

শেষ রেখার দিকে দৌঁড় 
বিশ্বে বর্তমানে ২৫টি কার্যকর করোনা ভ্যাকসিনের ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৩টি কোম্পানির ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের হিউম্যান ট্রায়াল চলছে। কোম্পানিগুলো হচ্ছে অ্যাস্ট্রোজেনেকা, মর্ডানা ও ফাইজার। তাদের প্রত্যাশা- জরুরি চিকিৎসায় ব্যবহারের জন্য অন্তত ১টি ভ্যাকসিন সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রস্তুত করা যাবে। কোম্পানি ৩টি ইতিমধ্যে তাদের ভ্যাকসিনের প্রাথমিক ফল প্রকাশ করেছে। সেখানে দেখা গেছে, তাদের ভ্যাকসিনগুলো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সৃষ্টি না করেই করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরে প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি করেছে।

মর্ডানার তৈরি ‘এমআরএনএ’ নামক করোনা ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত পর্যায়ের ট্রায়াল গত সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। অক্টোবরের মধ্যে এই ট্রায়ালের ফল পাওয়া যাবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কোম্পানিটির সিইও স্টিফেন ব্যানসেল। কোম্পানিটির পরবর্তী পদক্ষেপ হবে করোনায় গুরুতর অসুস্থ রোগীদের ভ্যাকসিনটি দেওয়ার জন্য এফডিএ’র কাছ থেকে জরুরি অনুমোদনের ব্যবস্থা করা। অন্যদিকে তরুণ ও স্বাস্থ্যবান রোগীরা আগামী বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যে ভ্যাকসিনটি পেতে পারে।

এ বছরের অক্টোবরের মধ্যে মর্ডানার ভ্যাকসিন আনার বিষয়টি অভূতপূর্ব হবে। তবে অন্যান্য আরো অনেক কোম্পানি একই সময়ের মধ্যে ভ্যাকসিন নিয়ে আসার প্রতিযোগিতায় রয়েছে।

সানোফি এক বিবৃতি বলেছে, সেপ্টেম্বরে তারা প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু করবে, যার প্রাথমিক ফল ইতিবাচক হিসেবে ধরে নিয়ে বছরের শেষের দিকে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল পরিচালনা করবে। সে হিসেবে কোম্পানিটি ২০২১ সালের প্রথমার্ধে এফডিএ’র জরুরি অনুমোদন চাইতে পারে।

সানোফি তাদের ফ্লু ভ্যাকসিনের মতো একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে
করোনার ভ্যাকসিন নিয়ে কাজ করা বেশ কিছু কোম্পানির চেয়ে সানোফি এই খাতের মূল খোলোয়াড়। কোম্পানিটি প্রতি বছর প্রায় ২০০ মিলিয়ন ডোজ ফ্লু ভ্যাকসিন উৎপাদন করে থাকে। আর এখন, করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে শরীরের ইমিউনিটিকে প্রভাবিত করার জন্য একই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে। সানোফির ভ্যাকসিন এতদিন আলোচনায় পিছিয়ে থাকলেও বর্তমানে অন্যান্য অনেক ভ্যাকসিনের তুলনায় বেশি আশা দেখাচ্ছে।

এফডিএ এর আগে কখনোই কোনো ভ্যাকসিনকে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবহারের জন্য অনুমোদন দেয়নি। আর ওষুধ নির্মাতা কোম্পানিগুলো এখনো তাদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। তাদেরকে প্রমাণ করতে হবে যে, ভ্যাকসিনগুলো করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে মানব শরীরে দীর্ঘস্থায়ী ইমিউনিটি গঠন করতে পারে, সেগুলোর লাখ লাখ ডোজ উৎপাদন এবং বিশ্বব্যাপী তা সরবরাহ করতে হবে।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়