Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০২ মার্চ ২০২১ ||  ফাল্গুন ১৭ ১৪২৭ ||  ১৭ রজব ১৪৪২

সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার শীর্ষে ‘হুয়াওয়ে রাজকন্যা’

বিজ্ঞান-প্রযুক্তি ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৮:৪৮, ২১ জানুয়ারি ২০২১   আপডেট: ১৯:০৮, ২১ জানুয়ারি ২০২১
সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার শীর্ষে ‘হুয়াওয়ে রাজকন্যা’

চীনা টেকজায়ান্ট হুয়াওয়ের প্রতিষ্ঠাতা রেন ঝেংফেইয়ের কনিষ্ঠ কন্যা অ্যানাবেল ইয়াও তার স্বপ্নের ক্যারিয়ার শুরু করেছেন, যা তার ধনকুবের পিতার তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন।

ডেইলি মেইলের খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে ডিগ্রিধারী ২৩ বছর বয়সি ইয়াও পপ গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সম্প্রতি নিজের ২৩তম জন্মদিনে ইংরেজি ও চাইনিজ ভাষার মিশেলে তৈরি ‘ব্যাক ফায়ার’ মিউজিক ভিডিও প্রকাশের মধ্য দিয়ে গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। যা মেগা পপ তারকা হওয়ার লক্ষ্যে ইয়াওয়ের প্রথম পদক্ষেপ। মানুষজনের কাছে হুয়াওয়ে উত্তরাধিকারীর পাশাপাশি ‘হুয়াওয়ে রাজকন্যা’ হিসেবেও পরিচিত তিনি। 

বিনোদন ইন্ডাস্ট্রিতে পা রাখা উপলক্ষে ‘ব্রেকার’ নামে ১৭ মিনিটের একটি ভিডিও ডকুমেন্টারিও তৈরি করা হয়েছে। সেখানে নিজের জীবনের নানান তথ্য সামনে এনেছেন ইয়াও। কথা বলেছেন পরিবার ও শিল্পী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে। সেখানে বলা হয়েছে, তিনি একজন নিয়ম ভাঙা রাজকন্যা। 

ভিডিওতে ইয়াও বলেন, ‘আমি কখনও নিজেকে তথাকথিত ‘রাজকন্যা’ হিসেবে বিবেচনা করিনি। আমার বয়সি বেশিরভাগ মানুষের মতো আমাকেও ভালো স্কুলে যাওয়ার আগে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়েছিল। আমিও মাঝে মাঝে বিভ্রান্ত হয়ে পড়ি এবং জীবনে আমার আসল পথটি খুঁজতে অনেকগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিষয়ে চেষ্টা করতে হয়েছিল।’

পপ গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকে সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনার শীর্ষে রয়েছেন হুয়াওয়ে রাজকন্যা। চীনা সোশ্যাল মিডিয়া উইবো, ডুইয়িনসহ অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়াতেও তার মিউজিক ভিডিও ভাইরাল। কারো মতে, অভিষেক গানে ইয়াওয়ের ব্যক্তিত্বের প্রতিচ্ছ্ববি ফুটে উঠেছে- গানটির লিরিক্স হলো, ‘আমি তথাকথিত প্রথা ভেঙে ফেলব এবং আমার নিজস্ব রাজকন্যা গল্প সৃষ্টি করব। নিয়ম অনুসরণ না করাই আমার স্টাইল।’ 

তবে তার ডকুমেন্টারি ভিডিওর কমেন্ট সেকশন যেখানে ইতিবাচক মন্তব্যে ভরপুর, সেখানে মিউজিক ভিডিওর কমেন্ট সেকশন নেটিজেনদের সমালোচনায় ভরপুর। কেউ কেউ তাকে ধনকুবের পরিবারের সদস্য হওয়া সত্ত্বেও সংগীতে ক্যারিয়ার গড়ার চেষ্টাকে স্বাগত জানালেও, অনেকে সমালোচনাই বেশি করছেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় একজন লিখেছেন, ‘গানটি কেমন অস্বস্তিদায়ক’। আরেকজন লিখেছেন, ‘গাইতে জানে না, নাচতেও জানে না। তবে যদি আপনার টাকা থাকে…।’ কারো মতে, ‘এটি গান নয়, হুয়াওয়ে ফোনের নতুন রিংটোন।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘যদি সে পরিচয় গোপন রেখে শ্রোতাদের সম্মান অর্জন করতে পারে তা ব্যাপারটি প্রশংসনীয়। কিন্তু দুঃখের বিষয়, তার ব্যক্তিত্ব এবং প্রতিভা আবিষ্কারের আগেই তার পিতা কে, তা পুরো বিশ্ব জানে।’

এ ব্যাপারে উইবোতে এক পোস্টে ইয়াও বলেন, ‘নতুন (শিল্পী) হিসেবে আমি ভালোভাবেই জানি যে, অনেক কিছু রয়েছে যা আমাকে শিখতে হবে। আপনাদের উৎসাহ এবং সমালোচনা আমার সামনে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়ক হবে। আমি আরো বেশি কিছু দিব ও ভালো কাজ করবো।’

পপ গায়িকা হিসেবে আত্মপ্রকাশের আগে ব্যালে ড্যান্সার হিসেবে বিশ্বের নজর কেড়েছিলেন ইয়াও। ১৫ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যের খ্যাতনামা রয়্যাল একাডেমি অব ড্যান্স থেকে ব্যালে নৃত্যর দীক্ষা সম্পন্ন করেন তিনি। ১৭ বছর বয়সে সুযোগ পান যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সে। ২০১৮ সালে ২০ বছর বয়সে ফ্রান্সের ইয়াও লে বাল ডেস ডাবুতান্তেসে ব্যালে ড্যান্স পরিবেশন করে পুরো বিশ্বের নজর কাড়েন।

ঢাকা/ফিরোজ

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়