ঢাকা, শুক্রবার, ৭ ফাল্গুন ১৪২৬, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

মুখে হাসি, ভাবনায় ক্রিকেট; শুরু পাকিস্তান মিশন

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০১-২২ ৯:১০:৪০ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০১-২২ ১১:০২:১৬ পিএম

ইমিগ্রেশন পার হওয়ার অপেক্ষায় বাংলাদেশ দল। ক্রিকেটাররা সবাই চলে এসেছেন। অপেক্ষা তখন কোচিং স্টাফদের জন্য। সদ্য নিযুক্ত বোলিং কোচ ওটিস গিবসন পাননি ট্রাভেল জার্সি। সাদা গেঞ্জিতে তাকে চিনতে কষ্ট হচ্ছিল অনেকেরই!

প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গোও চলে এলেন ততক্ষণে। সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলে বিদায় নিলেন। এরপর একে একে সবাই ইমিগ্রেশন পার হলেন। সবার লক্ষ্য ২১ নম্বর গেট। সেখানে টিম বাংলাদেশের জন্য দাঁড়িয়ে বিমান বাংলাদেশের বোয়িং ৭৩৭-৮০০ মডেলের উড়োজাহাজ।

বিশেষ এই বিমানে বুধবার রাত আটটায় পাকিস্তানে যাত্রা শুরু করেছে বাংলাদেশ দল। শুরু হলো বাংলাদেশের পাকিস্তান মিশন। তিন দফায় তিনবার পাকিস্তান সফর করবে বাংলাদেশ। প্রথম দফায় খেলে আসবে তিনটি টি-টোয়েন্টি। এরপর ফেব্রুয়ারিতে একটি টেস্ট এবং শেষ দফায় এপ্রিলে আরেকটি টেস্ট ও একমাত্র ওয়ানডে খেলবে দুই দল।

পাকিস্তানের লাহোরে যাওয়ার সরাসরি ফ্লাইট না থাকায় বিমান ভাড়া করে বিসিবি। এজন্য বিসিবিকে গুনতে হচ্ছে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা। দীর্ঘ ভ্রমণ এড়াতে বিসিবি বিশেষ বিমানে লাহোর পৌঁছার ব্যবস্থা করেছে। ২৮ জানুয়ারি সিরিজ শেষে একইভাবে চার্টার্ড ফ্লাইটে দেশে ফিরবে বাংলাদেশ দল।

দলের সবাই দেশ ছেড়েছেন মুখে হাসি নিয়ে। বিমানবন্দরে গোটা দলকেই দেখা গেছে হাসিমুখে। বিমানবন্দরের বেশ কিছু ছবি বিসিবি পোস্ট করেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও তামিম ইকবাল বসেছেন বিজনেস ক্লাসে। বাকিরা সবাই ইকোনমিতে।

দলের সঙ্গে সফরসঙ্গী হয়েছেন পরিচালক আকরাম খান, নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। বিদেশি কোচদের মধ্যে আছেন রাসেল ডমিঙ্গো, ওটিস গিবসন ও ফিজিও জুলিয়ান ক্যালেফাতো। সেই সঙ্গে আছেন জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এনএসআই) দুই সদস্য ও একাধিক গণমাধ্যমকর্মী।

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে অনেক কথা হলেও শেষ পর্যন্ত পাকিস্তান সফর ঠিকই হচ্ছে। তাই নিরাপত্তার বিষয়টিকে আর মাথায় রাখতে চাইছেন না ক্রিকেটাররা। দলের প্রতিনিধি হয়ে বিমানবন্দরে কথা বলেছিলেন সৌম্য সরকার। তার কন্ঠে পাওয়া গেল আত্মবিশ্বাসের সুর, ‘এখন সফরটা হচ্ছে। নিরাপত্তা নিয়ে ওই ভাবনা নেই। চিন্তা করলে তো করবই। যতটুকু পারি চিন্তা কম করার চেষ্টা করব।’

কয়েকজন সিনিয়র ক্রিকেটার না থাকায় দায়িত্ব বাড়ানোর কথাও বললেন সৌম্য, ‘অনেক সিনিয়র ক্রিকেটার নেই। থাকলে তো অবশ্যই ভালো হতো। অবশ্যই দায়িত্ব বেড়েছে। সেভাবেই খেলার চেষ্টা করব।’

‘অবশ্যই দল হিসেবে প্রত্যাশা ভালো। যারা আমরা যাচ্ছি এবার সবাই বিপিএলে ভালো পারফর্ম করেছে। সবাই যদি বিপিএলের পারফরম্যান্সটা ধরে রাখতে পারে তাহলে দলের রেজাল্টটা ভালো আসবে’- বলেছেন সৌম্য।

পেসার শফিউল ইসলাম বলেছেন, ‘কোনো চিন্তা নেই। বোর্ড সবকিছু চেক করেই পাঠাচ্ছে, তাই কোনো চিন্তা নেই। ভালো করে দেশে যেন ফিরতে পারি, ভালো কিছু নিয়ে আসতে পারি; এটাই প্রত্যাশা। আমিও সবশেষ ইমার্জিং কাপে গিয়েছি। নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ইস্যু ছিল না। ঐ কারণেই সাহসটা আরও বেশি পেয়েছি। আমার ব্যক্তিগত দিক থেকে কোনো আপত্তি নেই, বোর্ড নিরাপদ ভেবেছে বলেই পাঠাচ্ছে।’

রাত সাড়ে দশটার মধ্যেই লাহোরে পৌঁছার কথা রয়েছে বাংলাদেশ দলের।


ঢাকা/ইয়াসিন/পরাগ