ঢাকা, সোমবার, ১৬ চৈত্র ১৪২৬, ৩০ মার্চ ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কতজন পেসার নিয়ে খেলবে বাংলাদেশ?

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০২-২১ ৮:৪০:১৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০২-২২ ৯:৩৭:১৫ এএম

চূড়ান্ত স্কোয়াডে আছে চার পেসার। ঢাকা টেস্টে কতজনের সুযোগ হবে বোলিং করার?

ঘরের মাঠে শেষ দুই টেস্টে কতজন পেসার নিয়ে খেলেছিল বাংলাদেশ? আফগানিস্তানের বিপক্ষে হেরে যাওয়া ম্যাচে একজন পেসারকেও দলে রাখেননি সাকিব আল হাসান। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টেও ছিল না কোনো পেসার। সেবারই প্রথম কোনো পেসার ছাড়া টেস্ট খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ক্যারিবীয়ানদের বিপক্ষে ফলাফল নিজেদের পক্ষে আসলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে উল্টো হেরে গিয়েছিল বাংলাদেশ।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে কোনো পেসার না থাকলেও মুস্তাফিজুর রহমান খেলেছিলেন প্রথম টেস্ট। অবশ্য তার থাকা না থাকা প্রায় সমানই ছিল! প্রথম ইনিংসে মাত্র দুই ওভার হাত ঘুরিয়েছেন। দ্বিতীয় ইনিংসে বল করার সুযোগ হয়নি।

২০১৬ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে বাংলাদেশ বুঝতে শুরু করে ঘরের মাঠে পেসার না খেলালেও চলে! ইংলিশদের বিপক্ষে ১-১ এ ড্র হওয়া সিরিজে শফিউল ইসলাম ও কামরুল ইসলাম রাব্বী বোলিং করেছেন ২৮ ওভার, উইকেট নিয়েছেন ১টি।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও ১-১ এ ড্র হওয়া সিরিজে শফিউল ও মুস্তাফিজ ৪০.৫ ওভার বোলিং করে উইকেট পেয়েছেন ৫টি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ১-০ ব্যবধানে হেরে যাওয়া সিরিজে মুস্তাফিজ একা ৬০ ওভারে ৬ উইকেট পেয়েছেন। এরপর জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ১-১ এ ড্র করা সিরিজে সিলেটে আবু জায়েদ ২৮ ওভারে ১ উইকেট, ঢাকায় মুস্তাফিজ ও খালেদ মিলে ৬১ ওভারে ১ উইকেট পেয়েছেন।

নিজেদের ভাবনা পরিবর্তনের কারণে ঘরের মাঠে স্পিন শক্তি বাড়িয়ে খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। স্পিন স্বর্গ বানিয়ে প্রতিপক্ষকে ওলটপালট করার চিন্তাতেই পেসারদের ওপর আস্থা হারায় টিম ম্যানেজমেন্ট। এতে সাফল্য এসেছে। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়েছে বাংলাদেশ।  কিন্তু ধারাবাহিক ম্যাচ না খেলায় পেসাররা দেশের ছিলেন বিবর্ণ।দলও ভুগেছে। 

তাইতো নিজেদের ভাবনা পাল্টে পেসারদের ওপর আস্থা রাখতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শনিবার থেকে শুরু হতে যাওয়া টেস্টেই দুজন পেসার রাখার কথা বলেছেন কোচ রাসেল ডমিঙ্গো।

‘আমরা দুজন পেসার নিয়ে নামতে যাচ্ছি। আমার মনে হয় না একজন পেসার নিয়ে নামলে কোনো উপকার হবে। তিনজন নিয়ে নামলে ভালো হতো। কিন্তু ৭ নম্বরে ব্যাটিং করতে পারবে আমাদের এমন একজনকে প্রয়োজন। সাইফউদ্দিন ফিট না হওয়া পর্যন্ত আমাদেরকে সেভাবেই এগুতে হবে। সে সাত নম্বরে ব্যাটিং করে ১০-১৫ ওভার করবে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা।’

মূল স্কোয়াডে ছিল পাঁচ পেসার। হাসান মাহমুদকে ছেড়ে দিয়েছে দল। তাকে দেখা যাবে বিসিএল ফাইনালে। বাকি চার পেসারের মধ্যে মুস্তাফিজ খেলবেন না তা নিশ্চিত করেছেন ডমিঙ্গো। তাসকিন, ইবাদত, রাহীর মধ্যে দুজন খেলবেন ঢাকা টেস্টে। এদের মধ্যে রাহীর খেলাও নিশ্চিত। তাসকিন ও ইবাদতের মধ্যে খেলবেন একজন।

কোচ সাফ জানিয়েছেন, টেস্টে উন্নতি করতে হলে পেসারদের রাখতেই হবে।

‘দেখুন আজকের অনুশীলন উইকেটে শিশির ছিল। এখনও কিছুটা শীত আছে। সকাল ১০টায় পেসারদের জন্য অবশ্যই কিছু থাকবে। ১০-১২ ওভার কঠিন হবে তাদেরকে সামলানো। আমরা যদি আগামীকাল বোলিং করি তাদেরকে অবশ্যই বড় ভূমিকা রাখতে হবে। উইকেটে কিছু না থাকলেও তাদেরকে উইকেট এনে দিতে হবে।’

‘বাংলাদেশকে টেস্টে উন্নতি করতে হলে আমাদের পেসারদেরকে সহায়তা করতে হবে। আপনি যদি এখানে এক পেসার নিয়ে খেলেন…ধরুন আপনি ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা বা অস্ট্রেলিয়া সফর করলেন। সেখানে আপনি তিন পেসার নামিয়ে দিলেন। কিন্তু সেখানে তাদের ভালো খেলার সম্ভাবনা থাকবে না। কারণ আপনার পেসাররা তো নিয়মিত ম্যাচই খেলছে না। এজন্য ভারসাম্যের প্রয়োজন। আমরা জানি আমাদের স্পিন শক্তিশালী। কিন্তু আমাদের বিশ্বাস রাখতে হবে পেসারদের ওপর। এটা ভাবতে হবে তারা ম্যাচে ফল এনে দিতে পারে।’ – বলেছেন ডমিঙ্গো।

কোচের কথায় সুর মিলিয়েছেন অধিনায়ক মুমিনুল হকও, ‘আমার কাছে মনে হয়, কোচের পরিকল্পনাই সঠিক। সবসময় যদি একই পরিকল্পনায় থাকেন তাহলে অন্য দলগুলো আমাদের ধরে ফেলার সুযোগ থাকবে। পেসার যদি না খেলান, তখন বাইরে গেলে ভুগতে হয়। খুঁজতে হয়, যে কাকে খেলাব! ওকে খেলাব নাকি অন্য কাউকে। জিনিসগুলি থেকে ধীরে ধীরে বের হয়ে আসতে হবে মনে হয়। ও (ডমিঙ্গো) যেটা বললো সেটাই ঠিক।’

নতুন টেস্ট অধিনায়ক ও কোচের আত্মবিশ্বাস এবং প্রেরণা পাচ্ছেন পেসাররা। এবার কাজটা তাদের। জিম্বাবুয়ে সিরিজ থেকেই তাদের নতুন পথ চলা শুরু হোক না।

 

 

ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল

     
 

ট্যাগ :