ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৪ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

কোচ শাস্ত্রীর চোখে ভারতীয় দলের ‘বস’ কোহলি

ক্রীড়া ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৩-২৯ ৯:৩৩:২৮ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৩-২৯ ৯:৩৩:২৮ পিএম

ক্রিকেটার হিসেবে ভারতীয় দলে বিরাট কোহলির প্রভাব আলাদা করে জানান দেওয়ার কিছু নেই। অধিনায়ক হিসেবেও দারুণ সফল তিনি।

তবে ভারতীয় ক্রিকেট সংস্কৃতিতে ক্রিকেটার বা অধিনায়ক হিসেবে যতই দুর্দান্ত হোক না কেন, কোচের কাছে এসে ধরা তাকে দিতেই হয়। অনেকে তো সৌরভ গাঙ্গুলির ক্যারিয়ার শেষের জন্য আড়ালে কোচ গ্রেগ চ্যাপেলকে দোষী মেনে থাকে। তবে সে সংস্কৃতি বদলে দিয়েছেন কোহলি-রবি শাস্ত্রী।

ভারতীর কোচ শাস্ত্রীর চোখে কোহলি হচ্ছে ভারতীয় দলের বস। তিনি বা তার সঙ্গের যে কোচিং স্টাফ রয়েছেন, তারা কোহলির চাপ কমাতে সহায়তা করেন কেবল। অবশ্য কোহলিকে বস না মেনে উপায় বা কি! দলের সেরা ব্যাটসম্যান তো বটেই, সবচেয়ে ফিট খেলোয়াড়ও তিনি। আর মাঠে নেমে জয়ের জন্য আগ্রাসি কোহলি তো সবার চেয়ে আলাদা।

অধিনায়ক কোহলির নেতৃত্বে ভারত ঘরের মাঠে টানা ১২ টেস্ট জয়ের রেকর্ড গড়েছে। টেস্ট র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষে আছে। আর সবকটিতে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন কোহলি। কোচ শাস্ত্রীর কথায় ফুটে উঠলো একই কথা, ‘অধিনায়ক সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে থাকেন। খেলার মাঠে সম্পূর্ণ কর্তৃত্ব তার। আমরা কোচিং স্টাফ কেবল তার চাপ কমাতে সহায়তা করি।’

নিজের কথার সঙ্গে শাস্ত্রী আরও যোগ করেন, ‘অধিনায়কই হলো বস, আমি এটিই বিশ্বাস করি। আমার মতে ভারতীয় দলের কোচিং স্টাফের কাজ হলো, ছেলেরা যাতে সাহসী, ইতিবাচক ও ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলতে পারে তার জন্য তাদের তৈরি করে দেওয়া।’

২০১৭ সালে ভারতীয় দলের কোচিংয়ের দায়িত্ব নেন শাস্ত্রী। সে থেকে দেখছেন কোহলি নিজেকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার জন্য কতটা পরিশ্রম করেছেন। নিজেই তুলে ধরলেন সেসব কথা।

‘ভারতীয় দলের ফিটনেসের কথা বললে শুরুতে চলে আসবে কোহলির নাম। এলোমেলো কিছু করার সুযোগ তার সঙ্গে নেই। যেমন একদিন তার মনে হলো, ‘আমি যদি ক্রিকেট খেলতে চাই, তাহলে বিশ্বের সবচেয়ে ফিট খেলোয়াড় হতে হবে ও সব ধরনের পরিস্থিতিতে সেরা খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে লড়াই করতে হবে।’ আর তাই সে অনেক পরিশ্রম করে নিজেকে প্রস্তুত করে।’

আর এই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে নিজের খাদ্যাভাসেও পরিবর্তন আনেন কোহলি। নিজের সে পরিবর্তনের কথা কোচ শাস্ত্রীকে গিয়েও বলেন কোহলি, ‘শুধু অনুশীলন নয়, খাওয়া-দাওয়ার ক্ষেত্রেও সে ত্যাগ স্বীকার করেছে। একদিন হুট করেই সে বলল, ‘রবি, আজ থেকে আমি নিরামিষভোজী।’ সে যখন এমন মানদণ্ড বেঁধে দিয়েছে, অন্যদেরও তা প্রভাবিত করেছে।’

ক্রিকেটের জন্য দুই হাত ভরে ত্যাগ শিকার করেছেন কোহলি। ক্রিকেটও তাকে দিচ্ছে দু’হাত ভরে। নিজেকে সেরা ক্রিকেটার করার জন্য কোহলির যে রুটিন, এটা যেকোন উঠতি ক্রিকেটারের জীবনে পাথেয় হতে পারে।


ঢাকা/কামরুল