ঢাকা, রবিবার, ২৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৭ জুন ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

ফুটবল বিশ্বে ঘুষের ছড়াছড়ি

ক্রীড়া ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-০৭ ৭:১৪:০৫ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-০৭ ৭:১৪:০৫ পিএম

ফুটবল বিশ্বকাপের ভেন্যু নির্বাচন করা হয় ফিফার সদস্যদের ভোটে। আর সে ভোট কেনা-বেচা নিয়ে ঘুষের মহোৎসব চলে ফিফার অভ্যন্তরে।

ফিফা’র অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি চলে আসছে গত বহু দশক ধরে। কিছু শীর্ষ সাবেক কর্মকর্তারা এর সূচনা করেন। এ বিষয়ে তদন্ত করার জন্য নিউইয়র্কের গোয়েন্দা ভিত্তিক সংস্থা এফবিআইকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তারা তদন্ত করে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থের ঘুষের আদান-প্রদান হয়ে থাকে। এছাড়াও টিভিস্বত্ত পাইয়ে দেওয়ার জন্যও দুর্নীতি হয়ে থাকে।

ব্রাজিলিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের সাবেক সভাপতি রিকার্ডো ট্যাক্সেইরা, কনমেবলের সভাপতি পদ থেকে চ্যুত নিকোলাস লিওজকে ২০২২ বিশ্বকাপে কাতারকে ভোট দেওয়ার জন্য বিপুল অর্থ ঘুষ প্রস্তাব করা হয়। তারা ঘুষ নিয়ে কাতারকে ভোট দেয় বলে তথ্য পেয়েছে এফবিআইয়।

এদিকের ফিফার সাবেক সহ সভাপতি ও কনকাকাফের সাবেক সভাপতি জ্যাক ওয়ার্নার ৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার নেওয়ার বিনিময়ে ২০১৮ বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার দৌঁড়ে রাশিয়াকে ভোট দিয়েছিলেন। একই কাজ করেছিলেন গুয়েতমালার ফুটবল প্রধান রাফায়েল সালগুয়েরো। তবে তিনি নিয়েছেন ১ মিলিয়ন ডলার।

শুধু ফুটবল বিশ্বকাপের আয়োজক হওয়ার জন্য নয়, টিভিস্বত্ত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ঘুষ নিতো ফিফার কর্মকর্তারা। ২১ ফক্স সেঞ্চুরিকে ২০১৮ ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপে দক্ষিণ আমেরিকার পক্ষ থেকে টিভিস্বত্ত নিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঘুষ নিয়েছিল ফিফা’র কিছু কর্মকর্তারা। আর এই কাজটা তারা এতটাই গোপনে করেছে যে ফিফা’র অধিকাংশ কর্মকর্তারা বিষয়টি সম্পর্কে জানতোই না।

এদিকে ২০১৮ ও ২০২২ বিশ্বকাপের বাছাইপর্বের ম্যাচ ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে আয়োজন করার জন্য ফিফাকে ৩ মিলিয়ন ডলার দিয়েছিলো দেশটির ফুটবল প্রধান রোমি। আর তাকে এই কাজে সহযোগিতা করেছে কনকাকাফের সাবেক সভাপতি জেফরি ওয়েব। এর আগেও ওয়েবের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালে দুর্নীতির মামলা হয়েছিল। শুধু ফিফা নয়, কনমেবলও কোপা লিবার্তাদোরেয়াসের টিভিস্বত্ত পাইয়ে দেওয়ার জন্য ইমাজিনা মিডিয়া গ্রুপ থেকে ঘুষ নিয়েছে বলে প্রমাণ পেয়েছে এফবিআই।

এফবিআই কর্মকর্তা উইলিয়ান ফুটবল বিশ্বের এমন দুর্নীতি নিয়ে বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ফুটবলে লাভজনক এবং ঘুষের ঘটনা বহু দশক ধরে চলে আসছে। তাদের কাছে বর্তমানে বিষয়টি সাধারণ কাজে রুপ নিয়েছে। তারা এসব কাজ করতে বিভিন্ন এজেন্সি, কোম্পানি ব্যবহার করতো। যারা দু’পক্ষের মধ্যে এমন সব চুক্তি দেখাতো যাতে এটাকে ঘুষ বা দুর্নীতি বলে মনে না হয়। তবে এরফলে ফুটবলের ব্যাপক ক্ষতিসাধন হয়ে গেছে।’


ঢাকা/কামরুল