RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ১৮ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৪ ১৪২৭ ||  ০৩ জমাদিউস সানি ১৪৪২

‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি’

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৬:১১, ৯ এপ্রিল ২০২০   আপডেট: ০৫:২২, ৩১ আগস্ট ২০২০
‘আমার জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছি’

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০০৭, জোহানেসবার্গে আর ৬ বলেই নিষ্পত্তি ঘটবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম শিরোপা উঠতে যাচ্ছে কার হাতে, পাকিস্তান নাকি ভারত?

পাকিস্তানের প্রয়োজন ১৩ রান আর ভারতের ১ উইকেট। পাকিস্তানের হয়ে নির্ভরতার প্রতীক হয়ে মাঠে ছিলেন মিসবাহ উল হক। আর এদিকে ভারতীয় অধিনায়ক মাহেন্দ্র সিং ধোনি বল তুলে দিলেন যোগিন্দার শর্মার হাতে। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে ওই ম্যাচ ছিল সব ফরম্যাট মিলিয়ে যোগিন্দরের ৮ম ম্যাচ।

প্রথম দুই বলে ৭ রান দিয়ে সমীকরণ ফিফটি ফিফটি করে নিলেন মিসবাহ। তবে মিসবাহর সামনে নির্বিকারই ছিলেন যোগিন্দর। সে চ্যালেঞ্জ জয় করেছেন সহজে। পরের বলে মিসবাহকে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতের জয়ের নায়ক হয়ে গেলেন যোগিন্দর শর্মা।

এরপর আর কখনো ভারতীয় দলে জায়গা হয়নি তার। তবে সেই বিখ্যাত হওয়ার সুবাদে দেশে এসে পেয়েছেন পুলিশের চাকরি। এখন হরিয়ানার হিসার জেলার ডেপুটি সুপারিন্টিন্ডেন্ট হিসেবে আছেন। করোনার এই সঙ্কটকালে নিজ দায়িত্ব পালন করছেন নিরলসভাবে।

ভারতে করোনা ভয়ানক আকার ধারণ করেছে। ফলে দেশটির সরকার সারাদেশে লকডাউন ঘোষণা করেছেন। তা সত্ত্বেও ঘরে থাকতে চাইছে না মানুষ। বুঝছে না করোনার ভয়াবহতা। ফলে পুলিশের দায়িত্ব বেড়ে গেছে। নিজেদের চরম বিপদের মুখে ঠেলে দিয়েও কাজ করে যাচ্ছেন নিরলসভাবে। যোগিন্দর শর্মাও আছেন সেই দলে।

নিজেই জানালেন এই সময় এসে সবচেয়ে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখেও দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন, ‘আমি ২০০৭ সালে ক্রিকেট ছাড়ার পর থেকে পুলিশের দায়িত্বে আছি। তবে এখনকার চেয়ে বেশি কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে এর আগে পড়িনি। সবচেয়ে বড় বিষয় করোনার এখনো কোনো ভ্যাক্সিন বের হয়নি। এই অবস্থায়ও আমরা প্রতিদিন নিজেদের কাজ করে যাচ্ছি। তবে আমার অঞ্চলে একজন মাত্র করোনা রোগী পাওয়া গেছে। আর তাকে আলাদাও করা হয়েছে।’

করোনার এই সময় সকাল ৬টায় কাজ শুরু হয় যোগিন্দরের। ঘরে ফেরেন রাত ৯টায়। কিন্তু তাই বলে বাকি সময় বিশ্রাম নেওয়ার জো নেই। যেকোন সময় আসতে পারে ইমার্জেন্সি কল। প্রস্তুত থাকতে হয় তাঁর জন্য, ‘আমার সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ডিউটি। কিন্তু বাকি সময়ও নিজেকে ইমার্জেন্সি কলের জন্য প্রস্তুত রাখতে হয়।’

নিজেদের কাজের জায়গা থেকে সর্বোচ্চটা দিচ্ছেন যোগিন্দর ও বাকি পুলিশরা। জনগণের কাছে আহবানটা তাই ঘরে থাকার, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখার। যোগিন্দর বলেন, ‘আমি ২০০৭ সালে বিশ্বকাপজয়ী দলের অংশ হওয়ায় অনেকে আমাকে চেনেন। এই সময় এসেও ছবি, অটোগ্রাফ নিতে চান। আমি আগে দিতে খুশি হলেও, এখন নই। এখন সবাইকে না করি। কারণ, সময় এখন নিয়ম মেনে চলার। আপনারা ঘরে থাকুন, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলুন। নিজেদের স্বার্থে, জাতির স্বার্থে।’


ঢাকা/কামরুল

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়