ঢাকা, মঙ্গলবার, ১১ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

‘প্যারাসিটামল খেলেও ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করি নিষিদ্ধ কিছু আছে কি না’

ক্রীড়া ডেস্ক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৪-১০ ৩:৪১:৪১ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৪-১০ ৩:৪১:৪১ পিএম

পৃথ্বী শ ১৭ ছুঁয়েই অভিষেকে দিলীপ ট্রফিতে সেঞ্চুরি করেন। ১৮ ছোঁয়ার আগ মুহূর্তে অভিষেক রঞ্জি ট্রফিতে। তিন অঙ্কের দেখা পেয়ে যান অভিষেকেই।

এরপর ইরানি কাপ। সেখানে অভিষেকে সেঞ্চুরি না পেলেও ছড়ান মুগ্ধতা। বসয়ভিত্তিক দলের সাফল্য ছিল বরাবরই ঈর্ষণীয়। ২০১৮ যুব বিশ্বকাপের ট্রফি উঠে তাঁর হাতেই। সাফল্য ভান্ডার যখন এতোকিছু দিয়ে ভরপুর তখন বড়দের ক্রিকেটে কেন সুযোগ হবে না পৃথ্বীর!

বিরাট কোহলি ঝুঁকি নিলেন। ঘরের মাঠে ওয়েস্ট ইন্ডিজের দাপুটে বোলিংয়ের সামনে অভিষেক করালেন। সেখানের ২২ গজ হয়ে উঠল স্বর্গ। ভারতের ১৫তম ক্রিকেটার হিসেবে অভিষেকে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়েন পৃথ্বী। পাশাপাশি টেস্ট অভিষেকে তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরির কীর্তি তাঁর নামের পাশে যুক্ত হল। সেই ছোট্ট পৃথ্বী এখন বিরাট ব্রিগেডের প্রধানতম সৈনিক। টেস্ট অভিষেকের পর ওয়ানডেও খেলা হয়ে গেছে ডানহাতি ওপেনারের।

মহামারী করোনায় অন্যদের মতো পৃথ্বী এখন গৃহবন্দী। চারদেয়ালে কাটাচ্ছেন যন্ত্রনার অধ্যায়। কিভাবে কাটছে সময়? হতাশ হয়ে পৃথ্বী বলেন, ‘নির্দিষ্ট সূচি তৈরি করে কাজ করছি। প্রোপার ডায়েট অনুসরণ করছি। নিজের পুরোনো ব্যাটিংয়ের ভিডিও দেখছি। ভুলগুলো শুধরে নিচ্ছি। ক্রীড়াঙ্গনের তারকাদের অটোবায়োগ্রাফি পড়ছি। তাদের জীবন জানার চেষ্টা করছি। এছাড়া রান্না করা শিখছি। ক্যারাম খেলছি। সবথেকে বেশি সময় দিচ্ছি প্লে-স্টেশনে। ওটাতেই সময় নষ্ট করছি বেশি।’

পৃথ্বীর জীবনে এমন কঠিন সময়ে আরও একবার এসেছিল। ডোপিংয়ের দায়ে ৮ মাস নিষিদ্ধ হয়েছিলেন পৃথ্বী। অজান্তেই পাকস্থলীতে এক এমন নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করিয়েছেন যা সাধারণত কাশির সিরাপে পাওয়া যায়। আত্মপক্ষ সমর্থন করে ভারতীয় ব্যাটসম্যান জানিয়েছিলেন, কাশির জন্য তিনি ওষুধ খেয়েছিলেন।

অনাকাঙ্খিত  ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করেছেন পৃথ্বী, ‘ঠান্ডার সিরাপ হিসেবে ওই ওষুধ খেয়েছিলাম। জানতাম না যে ওটা নিষিদ্ধ ছিল। কিছু করার ছিল না। সময়টা খুবই কঠিন ছিল। ক্রিকেট ছেড়ে দূরে থাকা কঠিন ও যন্ত্রণাদায়ক। সত্যিই নিজের ওপর বিরক্ত হয়েছিলাম। এটা কারো সাথে হওয়া উচিত নয়।’

এখন কিভাবে নিজেকে সতর্ক রাখছেন পৃথ্বী? জানতে চাইলে বলেন, ‘কি খাচ্ছি তা আগের থেকে জেনে নিচ্ছি। সেটা সামান্য প্যারাসিটামল হোক না কেন। নিজের ভুল থেকে অনেক কিছু শিখেছি। এখন সামান্য প্যারাসিটামল খেলেও বিসিসিআইয়ের ডাক্তারের কাছে ছুটে যাই। নতুন কোনো ঝামেলায় পড়তে চাই না। প্রত্যেক তরুণের এ দিকটি মাথায় রাখা উচিত। ’

মুম্বাইয়ের ছেলে পৃথ্বী। অলি-গলিতে ক্রিকেট খেলে বড় হয়েছেন। এখনও থাকেন মুম্বাইয়ে। সুযোগ পেলে সব সময় দেখা করেন ভারতের ব্যাটিং ঈশ্বর শচীন টেন্ডুলকারের সঙ্গে। টেন্ডুলকার ফ্রি থাকলে নেটেও নেমে যান ব্যাটিং টিপস নিতে। টেন্ডুলকারের সঙ্গে কাটানো সময়গুলোকে নিজের জীবনের সেরা সময় হিসেবে মনে করেন পৃথ্বী।

পৃথ্বী বলেছেন, ‘শচীন স্যার যখন মুম্বাইয়ে থাকেন আমি চেষ্টা করি উনার সঙ্গে দেখার করার। যদি স্যার ফ্রি থাকেন তাহলে নেটে চলে যাই। উনার পরামর্শ নেওয়ার চেষ্টা করি। দারুণ সময় কাটে দুজনের। আমি উনার সঙ্গ খুব উপভোগ করি। এরকম কিংবদন্তির সংস্পর্শ পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।’

তথ্যসূত্র: ক্রিকবাজ

 

ঢাকা/ইয়াসিন