Risingbd Online Bangla News Portal

ঢাকা     সোমবার   ০৬ ডিসেম্বর ২০২১ ||  অগ্রহায়ণ ২২ ১৪২৮ ||  ২৯ রবিউস সানি ১৪৪৩

‘মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাদের বুক থেকে হৃদয় ছিনিয়ে নিচ্ছে’

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৫:০৩, ১৪ মে ২০২০   আপডেট: ১০:৩৯, ২৫ আগস্ট ২০২০
‘মনে হচ্ছিল কেউ যেন আমাদের বুক থেকে হৃদয় ছিনিয়ে নিচ্ছে’

ক্রিকেট বিশ্বকাপের ইতিহাসে দুর্দান্ত দল নিয়েও নক আউট স্টেজে এসে হারার দুর্নাম রয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের। এর জন্য ‘চোকার্স’ খ্যাতিও জুটেছে তাদের কপালে। ২০১৫ ক্রিকেট বিশ্বকাপের সেমিফাইনালেও প্রায় জেতা ম্যাচ হেরে যায় দক্ষিণ আফ্রিকা। সে ম্যাচে প্রোটিয়াদের প্রতিপক্ষ ছিল নিউ জিল্যান্ড। প্রোটিয়াদের দেওয়া ২৯৮ রানের লক্ষ্য ১ বল বাকী থাকতে টপকে যায় নিউ জিল্যান্ড।

এবার সে ম্যাচ নিয়ে তামিমের সঙ্গে লাইভ আড্ডায় কথা বলেছেন ফাফ ডু প্লেসি। সে ম্যাচে দলের পক্ষে সর্বোচ্চ রান করা ডু প্লেসি জানালেন, সে ম্যাচ হারে ভেঙে পড়েছিল প্রোটিয়াদের মতো শক্ত মানসিকতার দলও। এই হার মানতে পারেনি দলের খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ কেউই। ওই ম্যাচ থেকে বেরিয়ে নিজেদের আবার স্বাভাবিক করতে তাদের সময় লেগেছিল ২ সপ্তাহের মতো।

তামিম বিশ্বকাপের সেই সেমিফাইনালের কথা উল্লেখ করে ডু প্লেসির মন্তব্য জানতে চাইলে সাবেক এই প্রোটিয়া অধিনায়ক বলেন,

‘আমার সে ম্যাচ খুব ভালো করেই মনে আছে। কারণ আজ পর্যন্ত কোনো ক্রিকেট ম্যাচ হেরে আমি এতটা ভেঙে পড়িনি।’

‘হ্যাঁ, এটা সত্য যে আমরা অনেকগুলো ক্রিকেট ম্যাচই হারি। এমনকি হতাশায় ভেঙেও পড়ি। তবে সে ম্যাচের মতো কিছুই নেই। সে ম্যাচ শেষে আমি দেখেছি দলের সবাই, এমনকি কোচিং স্টাফসহ সবাই একদম ভেঙে পড়েছিল।’

দক্ষিণ আফ্রিকানরা শক্ত মানসিকতার হলেও সে ম্যাচে আবেগ ধরে রাখতে পারেনি কেউ জানিয়ে ৩৫ বছর বয়সী ডু প্লেসি আরও বলেন, ‘আসলে দক্ষিণ আফ্রিকানরা শক্ত মানসিকতার হয়ে থাকে। এমনভাবে চলে যেন তাদের মধ্যে আবেগ কম। কিন্তু সে ম্যাচ শেষে সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। আসলে ড্রেসিং রুমের সবাইও মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিল সেদিন।’
 


সে ম্যাচ হারের শোক প্রোটিয়ানদের মধ্যে কেমন ছিল, সেটি পরিষ্কার হয় ডু প্লেসিসের ভাষ্যে, ‘সেমিফাইনাল শেষে আমাদের ফ্লাইট জটিলতায় দুই দিন বাড়তি থাকতে হয় সেখানে। আর সে সময়টা আমাদের অনেক খারাপ গেছিলো। আমরা খেলোয়াড়রা নিজেদের মধ্যেও কথা বলতে পারতাম না। খাওয়ার টেবিল বা অন্য কোথাও দেখা হলে আমারা মাথা নামিয়ে রাখতাম।’

আরও যোগ করেন, ‘আসলে এই ঘটনার পর দুই সপ্তাহ কেটে গেছে এই শোক কাটিয়ে উঠতে। কারণ, আমাদের সেই দলটা ছিল শক্তিশালী। আমরা সে ম্যাচে ভালোও খেলছি। কিন্তু জয় নিয়ে শেষ পর্যন্ত মাঠ ছাড়তে পারিনি।’

সে ম্যাচে এবিডি ভিলিয়ার্স, মর্নে মর্কেল থেকে শুরু করে দলের তারকা ক্রিকেটারদের কান্নায় ভেঙে পড়ার বিষয়টি টেনে আনেন তামিম। তখন সেটি নিয়ে ডু প্লেসি বলেন, ‘আসলে দক্ষিণ আফ্রিকানরা কখনো কান্না করে না। একজনও না। কিন্তু সে ম্যাচ শেষে সবাই কান্নায় ভেঙে পড়েছিল। আসলে তখন আমাদের মনে হচ্ছিল কেউ আমাদের বুক থেকে হৃদয় টেনে ছিড়ে নিয়ে গেছে।’


ঢাকা/কামরুল

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়