ঢাকা, মঙ্গলবার, ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ২৬ মে ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

বিশ্বকাপ-২০১১: হতাশা ও আনন্দের গল্প শোনালেন মাশরাফি

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৪ ১:৩৯:৫৫ এএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৪ ৯:০১:৩০ পিএম

২০১১ সালের ১৯ জানুয়ারি। চোটের কারণে ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত বাংলাদেশ দলে জায়গা হলো না মাশরাফি বিন মুর্তজার। ডানহাতি পেসারের বিশ্বকাপ স্বপ্ন নিষ্ঠুরভাবে চূর্ণ হওয়ার দুঃখগাঁথা মোটামুটি সবারই জানা।

বিশ্বকাপ শুরুর মাস দেড়েক আগে বিকেএসপিতে প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচে হাঁটুতে চোট পেয়েছিলেন। চোট থেকে ফিরে বিশ্বকাপ দলে জায়গা পেতে ভীষণ চেষ্টাও করেছিলেন। কিন্তু ফিটনেস সমস্যার জন্য ‘বিতর্কিতভাবে’ তাকে বাদ দেওয়া হয় বিশ্বকাপ দল থেকে। বিশ্বকাপের দল ঘোষণার দিন মাশরাফির কান্নায় ভিজেছিল মিরপুরের সবুজ ঘাস।

কিন্তু হতাশার গল্পের পেছনে ছিল তখনকার ফিজিওর খামখেয়ালি ভুল। কিন্তু সেই ভুলের কারণে মাশরাফির যে প্রাপ্তির গল্প আছে তা জানা ছিল না অনেকেরই। সেই দুঃস্বপ্নের আর প্রাপ্তির গল্প শনিবার তামিমের লাইভ অনুষ্ঠানে এসে শোনালেন মাশরাফি।

‘বিশ্বকাপ যেকোনো খেলোয়াড়ের একটা স্বপ্ন। যেদিন শুনলাম যে, বাংলাদেশে বিশ্বকাপ হবে সেদিন থেকেই স্বপ্ন দেখছিলাম দেশের মাটিতে বিশ্বকাপ খেলব। কিন্তু ইনজুরি থেকে ফিরে এসে আবার ঢাকা লিগ খেলতে গিয়ে ইনজুরিতে পড়লাম। তখন লিগামেন্ট ছিঁড়েনি।’

‘শ্রীলঙ্কায় ডেভিড ইয়ং আমাকে দেখল। উনি আমাকে বলল খেলতে সমস্যা নেই। কিন্তু ঝুঁকি থাকবে যে, খেলতে গেলে লিগামেন্ট ছিঁড়ে যেতে পারে। যদি সহ্য করে খেলতে পারি তাহলে সমস্যা নেই। আমি রাজী হয়েছিলাম। ডাক্তার সেভাবেই রিপোর্ট পাঠালো।’

‘দল ঘোষণার পর...আমার আফসোস অবশ্যই আছে। কিন্তু আমাকে নেয়নি সেই কষ্ট নেই। কাউকে দোষারোপ করবোও না। দেখ, ডেভিড ইয়াং যখন রিপোর্ট দিয়েছিল তখন আমাদের ফিজিও ছিল মাইকেল হেনরি। ইয়াং-এর পুরো রিপোর্টটা ও পড়েনি। মেইল বড় হলে লিখা আসে রিড মোর। সেটা হেনরি আর ক্লিক করেনি। উপরেরটুকু পড়ে ওটা কপি করে নির্বাচকদের আমার ফিটনেস রিপোর্ট দিয়ে দেয়। আমি অবাক হয়ে আবার ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করি। কিন্তু ও জানায় ও পুরোটাই লিখে দিয়েছিল। পরে আমি হেনরিকে জিজ্ঞেস করি, তুমি এমন রিপোর্ট দিলে কেন? ও আমাকে মোবাইল চেক করতে দেয়। ওর মোবাইল নিয়ে চেক করে দেখি ও রিড মোর আর দেখেই-নি। নিচের কোনও রিপোর্ট ও পড়েনি। পরবর্তীতে ও আমাকে সরি বলেছিল।’ 

তবে ওই ভুলের কারণে মাশরাফি পেয়েছেন তাঁর পরিবারকে। বিশ্বকাপ চলাকালীন মাশরাফির অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। মাশরাফি যদি বিশ্বকাপ দলে থাকতেন তাহলে স্ত্রীর পাশে থাকা হতো না। যেদিন বাংলাদেশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মিরপুরে খেলেছিল, সেদিন মাশরাফির স্ত্রীকে ক্লিনিক্যালই ডেড ঘোষণা করা হয়েছিল। কিন্তু স্রষ্টার কৃপায় মাশরাফি সংসার পূর্ণ হয়। আসে নতুন অতিথি। মাশরাফির স্ত্রীও সুস্থ হয়ে উঠেন। তাইতো বিশ্বকাপ দল থেকে বাদ পড়ার হতাশা ছাপিয়ে নিজের পরিবার পাওয়ার আনন্দই মাশরাফিকে উল্লাসে ভাসিয়েছিল।

‘যদি সেদিন দলে থাকতাম ও মাঠে খেলতাম...সেদিন আমার স্ত্রীকে ক্লিনিক্যালই ডেড বলা হয়েছিল। আমি বাসায় থাকায় নিজে নিয়ে গিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করতে পারলাম। স্ত্রীর জন্ডিস ধরা পড়ল। বিলোরবিন ১১ ছিল, ভর্তির পরপরই ১২ হয়ে গেল...স্যালাইন দেওয়া হয়েছিল। ডাক্তার আমাকে এসে বলেছিল যে, ৯৯ শতাংশ রোগী এরকম পরিস্থিতিতে বাঁচে না! মেয়ের তখন মাত্র সাত মাস। সাত মাসেও আসা বাচ্চার জন্য ঝুঁকি। সেদিন রাত পার করে পরের দিন অপারেশন করতে হলো। আমার মেয়ে হলো।’

‘এখন মনে করি, যদি বাসায় না থাকতাম তাহলে কি হতো! এখন আর এজন্য খারাপ লাগে না, ভালো লাগে। কারণ, বিশ্বকাপ দলে সুযোগ না পেয়ে আমি আমার পরিবারকে পেয়েছি। বিশ্বকাপের উছিলায় পরিবার পেয়েছি। এজন্য আল্লাহর কাছে শুকরিয়া। আল্লাহ যা করেন এ ‍দুনিয়ায় সব কিছু ভালোর জন্য করেন।’

 

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল