ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

একনজরে মুশফিকের ক্রিকেটে ১৫ বছরের পথচলা

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৬ ২:০২:০৪ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৬ ৩:১৮:৫৯ পিএম

২৬ মে ২০০৫, ‘ক্রিকেটের মক্কা’ খ্যাত লর্ডসে টেস্ট ম্যাচ দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক মুশফিকুর রহিমের। সে থেকে দেখতে দেখতে আজ পূর্ণ হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটাঙ্গণে মুশফিকের ১৫ বছর।

এই সুদীর্ঘ সময়ে মুশফিক হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় আস্থার নাম। নির্ভরতার প্রতীক। টিনেজার অবস্থায় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আসা মুশফিক এখন হয়ে উঠেছেন শক্তিশালী, প্রতিপক্ষের ত্রাস। একা হাতেই ঘুরিয়ে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপ্রকৃতি। বিশ্বের যেকোন দলের বাঘা বাঘা বোলারের বিপক্ষে এখন মূর্তিমান আতঙ্কও তিনি। সেই ছোট মুশফিক থেকে দলের ব্যাটিং স্তম্ভ হয়ে ওঠা, সবচেয়ে বড় ভরসার নাম হওয়া মুশফিকের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের এই পথচলায় একনজর চোখ বুলিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মুশফিকের পথচলার শুরুটা ছিল ভীষণ বিবর্ণ। লর্ডসে নিজের প্রথম টেস্টে করতে পেরেছেন ১৯ ও ৩ রান। পরের সিরিজ শ্রীলঙ্কায় এসে প্রথমবারের মতো প্রতিভার এক ঝলক দেখিয়েছিলেন মুশফিক। নিজের তৃতীয় টেস্টের ষষ্ঠ ইনিংসে পেয়েছেন ফিফটির দেখা। করেছেন ৮০ রান। এরপরে অবশ্য আবারও দীর্ঘ সময় হাসেনি মুশফিকের ব্যাট।
 


আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন বছর কাটানোর পর অবশেষে মাঝারি মানের ইনিংস ধারাবাহিকভাবে খেলতে থাকেন মুশফিক। আর পাঁচ বছরের মাথায় ৩৩ ইনিংসে এসে পান টেস্টে প্রথম সেঞ্চুরি, ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রামে। সে থেকে ধীরে ধীরে টেস্টে পরিণত ব্যাটসম্যান হতে শুরু করেন মুশফিক। দুই বছর পর শ্রীলঙ্কার গলেতে নিজের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরিতে করেন ঐতিহাসিক ডাবল সেঞ্চুরি। যা বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসেও প্রথম দ্বিশতক।

মুশফিক বাংলাদেশের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে করেছেন একের অধিক ডাবল সেঞ্চুরি। ক্রিকেট বিশ্বের একমাত্র উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান হিসেবে দুটি দ্বিশতকের মালিকও মুশফিক। নিজের সর্বশেষ টেস্ট ইনিংসে অপরাজিত ২০৩ রান করার মাধ্যমে সংখ্যাটা বর্তমানে তিনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি ২১টা ফিফটি আছে মুশফিকের নামের পাশে। সবমিলিয়ে ৭০ টেস্টে প্রায় ৩৭ গড়ে করেছেন ৪৪১৩ রান। ক্রিকেটের সবচেয়ে প্রাচীন ফরম্যাটে মুশফিক সবচেয়ে বেশি সফল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে। দুই দেশের বিপক্ষে ৫৩ গড়ে রান করে গেছেন মুশফিক।

টেস্ট অভিষেকের এক বছর তিন মাস পর ২০০৬ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের মাঠে স্বাগতিকদের বিপক্ষে ওয়ানডে অভিষেক হয় মুশফিকের। তবে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাননি সে ম্যাচে। এরপর নিয়মিত মাঝারি মানের ইনিংস খেলে ২০০৭ বিশ্বকাপের দলে নিজের জায়গা পাকা করে নেন মুশফিক। এই পথে সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি (৫৭ রানের ইনিংস)।
 


এরপর বিশ্বকাপের অভিষেকে ভারতের বিপক্ষে সে স্মরণীয় ম্যাচে অপরাজিত ৫৬ রান। তবে এরপরে রান খরায় ভুগতে শুরু করেন মুশফিক। টানা তিন ম্যাচে ও পাঁচ ম্যাচের মধ্যে চারটিতে শূন্য রানে আউট হওয়ার কীর্তিও গড়েন তখন। পরবর্তী অর্ধশতক ছুঁতে অপেক্ষা করতে হয় আরও ৪২ ইনিংস। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৯৮ রান করে ফেরেন রানে। পরের ম্যাচেও দেখেন পঞ্চাশের মুখ। সে থেকে আর ক্যারিয়ারে এত লম্বা সময় রান খরায় ভুগেননি মুশফিক। নিজের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরির মুখ দেখতে মুশফিককে অবশ্য অপেক্ষা করতে হয়েছে ৯৬ ম্যাচ।

সবমিলিয়ে ২১৮টি ওয়ানডেতে ৩৬ গড়ে ৬১৭৪ রান করে ফেলেছেন মুশফিক। যেখানে আছে ৭টি শতক ও ৩৮টি অর্ধশতকের ছোঁয়া। ওয়ানডেতে এখন পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সবচেয়ে সফল মুশফিক। অজিদের বিপক্ষে ৬ ওয়ানডের চারটিতে অপরাজিত তিনি। এছাড়াও ১ টি করে শতক ও অর্ধশতকে ১১৯ গড়ে করেছেন ২৩৯ রান।

টেস্ট ও ওয়ানডেতে আলো ছড়ালেও টি-টোয়েন্টিতে এখনো সফল নন মুশফিক। ৮৬ টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত ২০ গড়ে করেছেন ১২৮২ রান। তবে শেষ দুই বছরে এই ফরম্যাটেও নিজেকে প্রমাণ করছেন মুশফিক। টি-টোয়েন্টির ৫ অর্ধশতকের ৪টি পেয়েছেন শেষ দুই বছরে।
 


বাংলাদেশের সেরা সব জুটিতেই আছে মুশফিকের নাম। টেস্টে বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ রানের জুটি ৩৫৯ রান, নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। আর তা এসেছে মুশফিক ও সাকিবের কল্যাণে। এছাড়াও বাংলাদেশের সেরা পাঁচ টেস্ট জুটির চারটিতে মুশফিকের অবদান আছে। এমনকি ওয়ানডেতেও মুশফিক চারটি দেড়শর অধিক রানের জুটিতে মাঠে ছিলেন।

যদিও অধিনায়ক হিসেবে মুশফিকের বেশ সমালোচনা করা হয় তবে নেতৃত্বে বেশ সফল মুশফিক। বাংলাদেশের অধিনায়কদের মধ্যে সর্বোচ্চ ৭টি টেস্ট জয়ে মুশফিকের দখলে। এছাড়াও ৯টি ড্রও আছে অধিনায়ক মুশফিকের নামের পাশে। ওয়ানডে ফরম্যাটেও আছে ১১ জয় ও টি-টোয়েন্টিতে জয় আছে ৮টি। এছাড়াও মুশফিক বাংলাদেশের প্রথম ও একমাত্র উইকেটরক্ষক হিসেবে ১০০টি ডিসমিসাল করেছেন।

বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে জয়ে অবদান রাখা থেকে শুরু করে, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বের প্রথম ম্যাচে ব্যাট হাতে দলকে যথাক্রমে ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে জয় এনে দেওয়া। এছাড়াও দেশের পক্ষে প্রথম দ্বিশতক হাঁকানো কিংবা তিনটা ডাবল সেঞ্চুরি। ২০১৮ এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইনজুরি নিয়ে অসাধারণ ১৪৪ রানের ম্যাচজয়ী ইনিংস। ১৫ বছরের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ক্যারিয়ারে অসংখ্য অসাধারণ মুহূর্ত উপহার দেওয়া মুশফিক এখন আগের চেয়ে আরও পরিণত, অভিজ্ঞ। তাঁর হাত ধরে ভবিষ্যতে আরও অনেক আনন্দের মুহূর্ত পাবে বাংলাদেশ এটাই বিশ্বাস ভক্ত-সমর্থকদের।


ঢাকা/কামরুল