ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২৫ আষাঢ় ১৪২৭, ০৯ জুলাই ২০২০
Risingbd
সর্বশেষ:

এখনই ক্রিকেট ফেরানোর পরিকল্পনা নেই

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রাইজিংবিডি ডট কম
     
প্রকাশ: ২০২০-০৫-২৮ ৯:২৭:৪৬ পিএম     ||     আপডেট: ২০২০-০৫-২৯ ১২:১৪:০০ এএম

স্থবির হয়ে থাকা ক্রিকেটাঙ্গনে কবে ফিরবে প্রাণ? ২২ গজে কবে শোনা যাবে ব্যাট-বলের ঠুকঠাক শব্দ। কবে গ্যালারিতে হই-হুল্লোড় হবে? প্রশ্নগুলো ক্রিকেটপ্রেমিদের। আর ক্রিকেটারদের প্রশ্ন,‘কবে আমরা মাঠে ফিরতে পারব।’

আপাতত তাদের জন্য কোনও সুখবর নেই। এখনই ক্রিকেট ফেরানোর পরিকল্পনা নেই বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। করোনা পরিস্থিতি আরও পর্যবেক্ষণ করতে চায় দেশের ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ৩০ মের পর সাধারণ ছুটি বাড়ছে না। তবে ১৫ জুন পর্যন্ত জনসাধারণের চলাচল হবে সীমিত। এজন্য মাঠে ক্রিকেট ফেরাতে একটু অপেক্ষা করতে চায় বিসিবি। পাশাপাশি সরকারের সবুজ সংকেতের অপেক্ষায় আছে বিসিবি। 

বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দীন চৌধুরী সুজন বলেছেন,‘আমাদের লকডাউন শেষ হচ্ছে। তারপরও ১৫ জুন পর্যন্ত একটা বিধিনিষেধ আছে। আমরা আর সময় পর্যবেক্ষণ করতে চাই। ক্রিকেটারদের মতো আমরাও খুব করে চাই মাঠে খেলা ফিরুক। কিন্তু পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে হবে। সরকারের নিদেশর্নার অপেক্ষায় আছি। এরপর সবকিছু। তবে ১৫ তারিখে আগে শুরুর কোনও সম্ভাবনা নেই।’

অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত হয়ে থাকা ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই ক্রিকেট শুরু করতে চায় বিসিবি। গত মার্চে ঢাকা লিগের পর্দা উঠেছিল। প্রথম রাউন্ডের পরই লিগ বন্ধ করেছিল আয়োজক সিসিডিএম। তবে হুট করে লিগ শুরু করা যাবে না। ক্লাবগুলোকে, খেলোয়াড়দের এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের সময় দিতে হবে।

সিসিডিএমের সমন্বয়ক আমিন খান বলেছেন,‘দুই মাসের ওপরে লিগ বন্ধ। হুট করে খেলোয়াড়দের বলতেও পারবো না পরশু খেলা। খেলোয়াড়দের এক সপ্তাহ থেকে দশ দিনের সময় দিতে হবে প্রস্তুতির জন্য। খেলার আগে ফিটনেস জরুরি। ওই দশদিন আমাদের খেলোয়াড়ের ভালোভাবে পরীক্ষার মধ্যে রাখতে হবে। দেখা যাবে অনুশীলনের মধ্যে কেউ আক্রান্ত হলও। তাকে নিরাপদ রাখতে হবে সেখানেও। এটা এমন এক পরিস্থিতি যে দুজন খেলোয়াড় ধরা পড়লে পুরো ক্লাবকে কোয়ারেন্টাইনে আনতে হবে।’

‘যখনই শুরু করি প্রিমিয়ার লিগ দিয়েই শুরুর ইচ্ছা আমাদের। সেভাবেই কথাবার্তা হচ্ছে। এখন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট নেই। এখন স্থানীয় ক্রিকেটারদের সাথে জাতীয় দলের সবাইকেও পাওয়া যাবে। সময়টা ভালো যাবে। এর মাধ্যমে জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের দারুণ অনুশীলন হয়ে যাবে।’ - যোগ করেন আমিন খান।

ঈদের পর লিগ শুরুর আবেদন করে ক্রিকেট বোর্ড ও সিসিডিএমের কাছে চিঠি পাঠিয়েছিল ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব। কিন্তু দেশে করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী। পরিস্থিতি বিবেচনায় কোয়াবও সরকার, ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার অপেক্ষা করতে চাচ্ছে। কোয়াবের সাধারণ সম্পাদক দেবব্রত পাল বলেছেন,‘মাত্রই আমাদের লকডাউন শেষ হচ্ছে। সরকার থেকে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে ক্রীড়াঙ্গন আবার চালুর কি নির্দেশনা দেওয়া হয় আমাদের সেটা অনুসরণ করা উচিত।’

ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরাতে হলে কি কি করতে হবে, সেটির একটি নির্দেশিকা বা গাইডলাইন দিয়েছে আইসিসি।মাঠে ক্রিকেট ফিরলে সেই নির্দেশিকা পুরোপুরি অনুসরণ করবে বিসিবি। আমিন খান আরও বলেছেন,‘আইসিসির গাইডলাইন আছে। সরকারের সুরক্ষার বিধি আছে। সেগুলো অনুসরণ করে আমাদের খেলা শুরু করতে হবে। এটা শুধু বললেই হবে না, করতে হবে। দ্বিতীয়ত এ বিষয়টা এখনও মহামারির পর্যায়ে আছে। স্বাভাবিকভাবেই ঝুঁকি থাকবে। এজন্য আমাদেরকে সব দিক বিবেচনা করে মাঠে নামতে হবে।’

 

ঢাকা/ইয়াসিন