ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ০৬ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২২ ১৪২৭ ||  ১৬ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

বাবার পথ ধরে ক্রিকেটের মাঠে নামির

ইয়াসিন || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:০৮, ১৬ জুলাই ২০২০  
বামে নাফিস ইকবাল খান, ডানে নামির ইকবাল খান || (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বামে নাফিস ইকবাল খান, ডানে নামির ইকবাল খান || (ফেসবুক থেকে সংগৃহীত)

বাবা মানেই এমন এক শক্ত খুঁটি, যার ওপর পাহাড়সম দায়িত্ব। আর তিনি সন্তানদের পরম নির্ভরতার ছাউনি। বাবা শুধু তার নিজের স্বপ্নের বাহক-ই নন, তাকে পরম মমতা ও যত্নের সঙ্গে লালন করতে হয় পরিবারের প্রতিটি স্বপ্নকে।

আর বাবার স্বপ্ন? হ্যাঁ সন্তান যদি বাবার স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন তাহলে তো কথাই নেই, গর্বে বুক ফুলে যায় বাবাদের। সেই দলের সদস্য হওয়ার পথে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার নাফিস ইকবাল। তার ছেলে নামির ইকবাল খান হাঁটছেন বাবার দেখানো পথে। বাবা যেমন ব্যাট-বল নিয়ে দেশের পতাকা উড়িয়েছেন, নামিরও একই স্বপ্ন লালন-পালন করে বড় হচ্ছে।

রাইজিংবিডি’র ‘যেমন বাবা তেমনি ছেলে’– আয়োজনের প্রথম পর্বে আজ নাফিস ইকবাল ও নামির ইকবালের গল্প জানাবো।

চট্টগ্রামের বিখ্যাত ইকবাল পরিবারের সবচেয়ে ছোট ক্রিকেটার নামির ইকবাল খান। বাবা নাফিস ইকবাল জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন ১১ টেস্ট ও ১৬ ওয়ানডে। চাচা তামিম ইকবাল খান বিশ্ব ক্রিকেটের বড় সুপারস্টার এবং বর্তমানে জাতীয় দলের ওয়ানডে অধিনায়ক। দাদা ইকবাল খান ছিলেন চট্টগ্রামের বিখ্যাত খেলোয়াড় ও ক্রীড়া সংগঠক। তার ব্যাট থেকে আসে স্বাধীনতা-পরবর্তী সময়ে চট্টগ্রামের ক্রিকেটে প্রথম সেঞ্চুরি।

তাইতো নামিরের ক্রিকেটারের প্রতি আগ্রহ তৈরি হওয়া বিস্ময়কর কোনো ঘটনা নয়। বরং নাফিস উছ্ছ্বাস নিয়ে বললেন, ‘যদি ও ক্রিকেটার না হয়ে অন্য কিছু হতে আগ্রহ প্রকাশ করতো তাহলে বিস্ময়কর ঘটনা হতো।’ পারিবারিক ঐতিহ্যর কথা মনে করিয়ে নাফিস বলেন, ‘আমার আব্বা থেকে শুরু করে চাচারা প্রায় সবাই কিন্তু কম-বেশি ক্রিকেট খেলতেন। প্রত্যেকেই ক্রিকেটের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমাদের বাসার পরিবেশ এমন...ছোট একটু জায়গা সেটা ড্রয়িং রুম হোক বা বারান্দা, আমরা সবাই সেখানে খেলা শুরু করে দেই। জাতীয় পর্যায়ে আমি খেলেছি। ওর চাচা তামিমকে দেখছে। এ জন্য ওর উৎসাহ থাকাটা একেবারেই স্বাভাবিক।’

রক্তে ক্রিকেট থাকলেও ক্রিকেটার হতেই হবে এমন কোনো চাপ আসেনি নামিরের ওপর,‘আমি কোনো দিন ওকে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করিনি। ওর ক্যারিয়ার ও নিজে পছন্দ করেছে। এজন্য আমি কখনো বাঁধা দেব না। শুধু এখানেই না ও যদি ক্রিকেটার না হয়ে চাকরি বা ব্যবসা করার আগ্রহ দেখায় আমি ওকে আমার পূর্ণ সহযোগিতা করবো। যেহেতু ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহ আছে সেজন্য আমি তাকে নিয়ে ট্রেনিং করাচ্ছি।’

বাবার মতোই নামির ব্যাটিং করেন ডানহাতে। আক্রমণ বা রক্ষণ দুটোই প্রায় নাফিসের মতো। বলের ওপর শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত চোখ রেখে শট খেলা, নিখুঁত টাইমিং, ব্যাট-প্যাডের ধ্রুপদী রসায়ন এবং দ্রুত শেখার নিবেদনে নামির এরই মধ্যে নজর কেড়েছেন। ব্যাটিং কোচ হিসেবে পাশে পেয়েছেন অভিজ্ঞ বাবাকে। ছেলের জন্য বাবার একটাই পরামর্শ, ‘ও এখনো ১১ বছরের বাচ্চা। আমি চাই ও ক্রিকেট যেটুকুই খেলছে সেটা উপভোগ করুক।’

তবে কোচ হিসেবে নাফিসের পরামর্শ ভিন্ন, ‘ক্রিকেট মানসিক খেলা নিশ্চিতভাবেই। তবে এখন ফিটনেস এবং স্কিল অত্যাবশ্যকীয় হয়ে পড়েছে। আপনি মানসিকভাবে যতই শক্তিশালী থাকেন না কেন আপনার মধ্যে সেই স্কিল যদি না থাকে তাহলে একটা পর্যায়ের পর কিন্তু বেশিদূর যাওয়া সম্ভব হবে না। এজন্য সবকিছুর মিশ্রণ দরকার। যেমন, ইচ্ছা শক্তি, মানসিক শক্তি, স্কিল এবং ফিটনেস।’

দর্শক হিসেবে নাফিস ছেলের ব্যাটিং উপভোগ করেন। কিন্তু বাবা নাফিসের মনে ক্ষণে ক্ষণে আসে দুশ্চিন্তা! সেটা কেন? জানালেন নাফিস নিজেই, ‘নিজে খেলার থেকে যখন ওকে খেলতে দেখি একটু দুশ্চিন্তা কাজ করে। এটা তামিমের সময়ও কাজ করে। আগেও করতো এখনও করে। নামিরের ক্ষেত্রেও তাই। আমার নিয়ন্ত্রণে না থাকায় টেনশন আসে চলে আসে। ওর ব্যাটিং তো আর আমি করে দিচ্ছি না। এজন্যই চিন্তা আসে।’


 

ঢাকা/ইয়াসিন

 

রাইজিংবিডি.কম

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়