ঢাকা     মঙ্গলবার   ১১ আগস্ট ২০২০ ||  শ্রাবণ ২৭ ১৪২৭ ||  ২১ জ্বিলহজ্জ ১৪৪১

জিদান-হামেসের মধুর সম্পর্ক বিবর্ণ হওয়ার গল্প

ক্রীড়া ডেস্ক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৫:৪০, ১০ জুলাই ২০২০  
জিদান-হামেসের মধুর সম্পর্ক বিবর্ণ হওয়ার গল্প

২০১৪ ফুটবল বিশ্বকাপে অসাধারণ পারফরম্যান্সে মুগ্ধ করেছেন পুরো ফুটবল বিশ্বকে। আর এরপরে কলম্বিয়ান ফুটবলার হামেস রদ্রিগেজকে মোনাকো থেকে ৬৩ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে দলে টানে রিয়াল মাদ্রিদ। কিন্তু কেন রিয়ালে যোগ দিলেন এই কলম্বিয়ান? এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘জিদান আমার আইডল। তিনি রিয়াল মাদ্রিদে খেলেছেন বলে আমি লস ব্লাঙ্কোসদের সমর্থন করি।’

জিদানের প্রতি এই অনুরাগ, দুজনের মধ্যকার এই মধুর সম্পর্ক সময়ের সাথে সাথে দূরে সরে যেতে থাকে। সেই সম্পর্ক এখন এতটাই বিবর্ণ যে, হামেস রিয়াল শিবিরে বেঞ্চ গরম করার কাজটাই এখন নিয়মিত করছেন। অথচ কোচ জিদানের তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। কিন্তু কীভাবে এই দূরত্ব তৈরি।

২০১৬ সালে রাফা বেনিতেজের কাছ থেকে সর্বপ্রথম লস ব্লাঙ্কোসদের দায়িত্ব পুরোপুরিভাবে বুঝে নেন জিদান। হামেস তখন সেই দলে রোনালদো, বেনজেমার সঙ্গে নিয়মিত পাল্লা দিয়ে খেলে যাচ্ছেন। জিদান যদিও ২০১৪ সালে হামেসের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেছেন। কিন্তু রিয়াল শিবিরে আসার পর চিত্রটা বদলাতে শুরু করে।

জিদান তার মূল একাদশে হামেসকে না রেখে মিডফিল্ডার হিসেবে ক্যাসেমিরো, টনি ক্রুস এবং লুকা মদ্রিচকে নিয়মিত করে তোলেন। হামেস সে সময় থেকে মাঠের চেয়েও বেঞ্চে বেশি সময় কাটাতে শুরু করেন। কেউ চোটে পড়লেও জিদান হামেস নয় সুযোগ দিতেন স্প্যানিয়ার্ড ইসকোকে। আর এই সুযোগ দারুণভাবে লুফেও নিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। সেই মৌসুমে হামেস চ্যাম্পিয়নস লিগের সেমি ফাইনালে ২৩ মিনিটের মতো খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন কেবল।

এরপরের মৌসুমে দলের হয়ে নিয়মিত নামতে থাকেন হামেস। ৩৩ টি ম্যাচে খেলার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কোনো ম্যাচেই মূল একাদশে ছিলেন না তিনি। ব্যাকআপ খেলোয়াড় হিসেবে দলকে সার্ভিস দিতে থাকেন। নিজের সেরা সময় হারিয়ে নিজেকে খুঁজতে থাকেন। কিন্তু দারুণ কিছু না করতে পারায় দলে একপ্রকার ব্রাত্য হয়ে পড়েন।

শেষে ২০১৭-১৯ পর্যন্ত দুই বছর বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ধারে খেলেন এই কলম্বিয়ান। এই সময় বাভারিয়ানদের হয়ে করেন ১৪ গোল। আবার ফিরে আসেন রিয়ালে। তখন তাকে দলে টানতে অ্যাথলেটিকো চেষ্টা চালাচ্ছিল। তবে জিদান না থাকায় নিয়মিত সুযোগ পাবেন বলে রয়ে গেলেন এই ফুটবলার। কিন্তু ভাগ্যের শিকে আর খুললো না। অ্যাথলেটিকোতেও যাওয়া হয়নি এমনকি রিয়ালের হয়েও মাঠে নামা হয় না এই প্রতিভাবান ফুটবলারের।

রিয়ালের হয়ে এই মৌসুমে মাত্র ৭৮ মিনিট খেলা হামেস দলের স্কোয়াড থেকেই এখন বাদ থাকেন নিয়মিত। নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে মুখে কুলুপ লাগিয়ে রাখা হামেস শেষ পর্যন্ত কি করেন মৌসুম শেষে তাঁর ভক্তরা সেটির অপেক্ষায় আছেন।


ঢাকা/কামরুল

রাইজিংবিডি.কম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়