ঢাকা     শনিবার   ১৩ আগস্ট ২০২২ ||  শ্রাবণ ২৯ ১৪২৯ ||  ১৪ মহরম ১৪৪৪

২০২৩ বিশ্বকাপ বাংলাদেশ জিততেও পারে: ম্যাকেঞ্জি

ইয়াসিন হাসান || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ০৮:৫১, ৩০ আগস্ট ২০২০   আপডেট: ০৬:৪১, ৩১ আগস্ট ২০২০
২০২৩ বিশ্বকাপ বাংলাদেশ জিততেও পারে: ম্যাকেঞ্জি

পারিবারিক কারণে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাটিং কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন নিল ম্যাকেঞ্জি। ২০১৮ সাল থেকে সীমিত ওভারের ক্রিকেটে বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচের দায়িত্বে ছিলেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার। গত বছর ভারত সফরে টেস্ট দলের দায়িত্বও নিয়েছিলেন।

দায়িত্বে থাকাকালীন ড্রেসিংরুমের প্রিয় মুখ ছিলেন হাস্যোজ্জ্বল এ কোচ। তার হঠাৎ বিদায়ে বিমূঢ় ক্রিকেটাররাও। দুই বছর লাল-সবুজের ড্রেসিংরুমে কেমন সময় কাটিয়েছেন ম্যাকেঞ্জি? স্বল্প সময়ের কাজের অভিজ্ঞতা, স্মরণীয় মুহূর্ত ও বাংলাদেশ ক্রিকেট নিয়ে ভবিষ্যৎ মূল্যায়ন করে ম্যাকেঞ্জি কথার ঝাপি খুলেছেন রাইজিংবিডির সাক্ষাৎকারে। তার কথা শুনেছেন ইয়াসিন হাসান। দীর্ঘ সাক্ষাৎকারের দ্বিতীয় পর্ব পড়ুন আজ।

প্রথম পর্ব: ‘২০২৩ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের ৮-৯ জন ম্যাচ উইনার থাকবে’

রাইজিংবিডি: ২০১৯ বিশ্বকাপে সাকিব ছিলেন দুর্দান্ত। ব্যাটিং কোচ হিসেবে তাকে কোন টোটকা দিয়েছিলেন?

নিল ম্যাকেঞ্জি: সাকিব বিশ্ব ক্রিকেটেরই সেরা অলরাউন্ডদের একজন। প্রতিটা ক্রিকেটারের স্বকীয়তা থাকে। সাকিবও সম্পূর্ণ আলাদা। সে বুদ্ধিমান একজন ক্রিকেটার। সে প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি রাখে না এবং ম্যাচে সেটির প্রতিফলন ঘটাতে পারে, আপনারাও এর সাক্ষী। সাকিবের সবচেয়ে ভালো দিক হলো, যেকোন পিচেই হোক বা যেকোন কন্ডিশন এবং ম্যাচের যেকোন অবস্থায় নিজের মতো করে ভালো করার উপায় খুঁজে বের করে।

যে কোন একটা সিরিজের আগে কোচিং স্টাফের কাজ হচ্ছে, ক্রিকেটারদের আসন্ন সিরিজে কী কী প্রতিকূলতা মোকাবিলা করতে হবে, সেটি সম্পর্কে প্রস্তুত করা। বিশ্বকাপের আগে আমরা ক্রিকেটারদের যথাসম্ভব প্রস্তুত করার চেষ্টা করেছি। সাকিব দারুণ একটা বিশ্বকাপ কাটিয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে এখন ক্রিকেটের বাইরে। এটা বাংলাদেশের জন্যও অনেক দুর্ভাগ্যের। কিন্তু সে আবার ক্রিকেটে ফিরবে এবং নিজের সেরাটা দিয়ে ক্রিকেটে নিজের জায়গা দখল করে নেবে।

রাইজিংবিডি: ২০১৯ বিশ্বকাপে তামিমের থেকে যে প্রত্যাশা ছিল তা মেটাতে পারেননি। এর পেছনে কারণ কি ছিল?

নিল ম্যাকেঞ্জি: আমার মনে হয়, ক্রিকেট ভক্তরা তামিমের উপর চাপ তৈরি করে। তারা চায় তামিম সবসময় পারফর্ম করুক। তামিম লম্বা সময় ধরে বাংলাদেশ ক্রিকেটের ব্যাটিং স্তম্ভ। সে দলের ব্যাটিংয়ের সুর বেঁধে দেয়। আর এটার উপর দলের ভালো করাও নির্ভর করে। আমি মনে করি, সব ক্রিকেটারের ভালো এবং খারাপ সময় আসে। আমি তামিমকে বলবো, সে যাতে মিডিয়া বা কোথাও না বলে যে, বিশ্বকাপে তার আরও কিছু রান করা দরকার ছিল বা এই সেই। সে জানে তার কী করা উচিত এবং সে কোন মানের।

তামিম দলের সেরা ক্রিকেটারদের মধ্যে একজন। আপনি বাংলাদেশ দলের ভালো কোনো ম্যাচ দেখলেই দেখবেন, তামিম সে ম্যাচে অসাধারণ খেলেছে, রান করেছে। আর এটাই আমার দরকার। সে হয়ত খারাপ সময় কাটায়। তবে তার ওয়ার্ক এথিকস দারুণ এবং সে খেলাটি সম্পর্কে ভাবে এবং নিজেকে আবার ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়। আমার মনে হয়, তামিমকে কেবল বিশ্বকাপ কিংবা একটা টুর্নামেন্ট দিয়ে বিবেচনা না করে বরং তার ক্যারিয়ারের পরিসংখ্যানের দিকে নজর দেওয়া উচিত। তাহলে বোঝা যাবে, সে কত ভালো ক্রিকেটার।

সে এখনো নিজের আরও উন্নতি করতে ইচ্ছুক। তার এখনো রানের ক্ষুধা রয়ে গেছে। যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ভালো বিষয়। সে জানে সে কী চায়, নিজেকে কোথায় দেখতে চায়, কী অর্জন করতে চায়? সুতরাং, তামিমকে নিয়ে ভাবার কোনো কারণই নেই। সে আরও রান করবে এবং বাংলাদেশকে আরও অনেক ম্যাচ জেতাবে।

রাইজিংবিডি: এমন একজন ব্যাটসম্যানের নাম বলা যাবে যে কি না বাংলাদেশের পরবর্তী ব্যাটিং স্তম্ভ হবে?

নিল ম্যাকেঞ্জি: তামিম, মুশফিক, সাকিব, রিয়াদ এই সিনিয়র ক্রিকেটাররা বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য যা করেছে বা করছে, এই অবস্থানে যেতে তরুণদের এখনো অনেক সময় লাগবে। আর আমি এখন নির্দিষ্ট কারো নাম বলতে চাই না। তবে উঠতি তরুণরা দারুণ প্রতিভাবান। আমি মনে করে সিনিয়র-জুনিয়রদের মধ্যে ব্যবধান ধীরে ধীরে চলে যাবে।

এছাড়াও দলে এমন অনেক ক্রিকেটার আছেন, যারা দীর্ঘদিন দলে সুযোগ পায়নি। তবে সুযোগ পেয়ে দলে ফিরে আবার পারফর্ম করেছে। নিজেদের বার্তা দিয়ে রাখছে। সবার এমন এগিয়ে আসা দলের জন্য ভালো।

সিনিয়র ক্রিকেটাররা প্রতিদিন আরও উন্নতি করে যাচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে লম্বা সময় ধরে সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছে। তাদের ওয়ার্ক এথিকস অসাধারণ এবং তারা অনুশীলনেও অনেক পরিশ্রমী। তারা এখন নিজেদের পরিসংখ্যানকে আরও সমৃদ্ধশালী করতে চায়, আপনারা দেখছেন গত এক-দুই বছরে ওরা নিজেদের কী অবস্থানে নিয়েছে।

সবচেয়ে ভালো বিষয় হচ্ছে, ওরা তরুণদের সামনে একটা বেঞ্চমার্ক দাঁড় করিয়ে দিচ্ছে। সবার মধ্যে একটা অলিখিত প্রতিযোগিতা চলে এসেছে ভালো করার। এখন এই বেঞ্চমার্ক যত উপরে যাবে ততই ভালো। বর্তমানে দলের ব্যাটিং ইউনিটের শক্তিমত্তা, অবশ্য তার একটা প্রমাণ। আর এটাই আমাকে আরও ভালো কাজ করার জন্য অনুপ্রাণিত করেছে।

রাইজিংবিডি: ২০২৩ বিশ্বকাপ জিততে হলে কি করতে হবে?

নিল ম্যাকেঞ্জি: বিশ্বকাপ কিন্তু অনেক চাপের। তবে সিনিয়র ক্রিকেটারদের হারানোর কিছু নেই। তারা ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলবে। যেমনটা ভয়ডরহীন ক্রিকেটই খেলেছে অনূর্ধ্ব-১৯ দল, যারা বিশ্বকাপ জিতেছিল। তারা নক আউট স্টেজে নিউ জিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ফাইনালে তো ভারতকেই হারিয়েছে। এটা এসেছে তাদের বিশ্বাস এবং জয়ের ক্ষুধা থেকে।

আমি মনে করি, এখনকার জাতীয় দলও অনেক উন্নতি করবে। আসছে বিশ্বকাপে বাংলাদেশ অনেক ম্যাচ উইনারের পাশাপাশি, সিরিয়াস ক্রিকেটারদের নিয়ে পাড়ি জমাবে। আমি মনে করি, বাংলাদেশের দারুণ সুযোগ আছে। কন্ডিশনও অনেকটা বাংলাদেশের মতো। তিন বছর এখনো অনেক দূর। তবে এই দলের প্রতিভা, আত্মবিশ্বাস এবং এই দলের ক্রিকেটারদের মানসিকতা অনেক উঁচুতে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস। কে জানে, ২০২৩ বিশ্বকাপের শিরোপা বাংলাদেশেও তো আসতে পারে?

রাইজিংবিডি: ঘরে বসে বাংলাদেশের সাফল্য উদযাপন করবেন?

নিল ম্যাকেঞ্জি: অবশ্যই, আমি সেই সাফল্য উদযাপন করবো। আমার হৃদয়ে বাংলাদেশের জন্য একটা ছবি আঁকা হয়ে আছে; সুতরাং অবশ্যই আমি এই সাফল্য অনুভব করবো। আমি টাইগারদের সঙ্গে কাজ করতে পেরে কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ সবসময় আমার মধ্যে থাকবে এবং বিশ্বাস করি টাইগার ক্রিকেটও আমায় স্মরণ করবে। আমি অবশ্যই তাদের প্রত্যেকটি ম্যাচ দেখার চেষ্টা করবো। না পারলে তাদের খেলার স্কোর দেখার।

সুতরাং, আমি যেখানেই থাকি না কেন, বাংলাদেশের সঙ্গেও থাকতে পারি অথবা অন্য কোন দল কিংবা গলফ কোর্সে। যেখানেই থাকি না কেন, আমি অবশ্যই বাংলাদেশ দলকেই সমর্থন দিবো। আমি জানিয়ে রাখছি, বাংলাদেশ আমার কাছে সবসময় দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে থাকবে। অবশ্যই, বিশ্বকাপের ফাইনালে আমি বাংলাদেশের বিপরীতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে সমর্থন দিবো।

ঢাকা/ইয়াসিন

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়