RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     বৃহস্পতিবার   ২৯ অক্টোবর ২০২০ ||  কার্তিক ১৪ ১৪২৭ ||  ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪২

আকবরদের উত্তরসূরিদের নিয়েও বড় প্রত্যাশা

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৯:৪৩, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৯:৪৫, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০
আকবরদের উত্তরসূরিদের নিয়েও বড় প্রত্যাশা

বিকেএসপির ইনডোরে চলছে নিবিড় ট্রেনিং।

বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশকে প্রথম শিরোপা এনে দিয়েছিলেন আকবর আলীরা। যুবাদের শিরোপা জয় কোনো রূপকথা ছিল না, সোনার কাঠি, রূপার কাঠির পরশেও আসেনি। গত ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ আফ্রিকার পচেফস্ট্রুমে ভারতকে হারিয়ে বিজয়ের ঝাণ্ডা উড়ায় যুব দল। এ সাফল্য এসেছে নিখুঁত প্রক্রিয়ায় চার বছর ধরে চলা দীর্ঘ পরিকল্পনা ও তা বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

নবগঠিত যুব দল নিয়েও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড এগিয়ে যাচ্ছে একই পরিকল্পনায়। দেশজুড়ে বয়সভিত্তিক টুর্নামেন্ট থেকে বাছাই করা ৪৬ ক্রিকেটার নিয়ে তৈরি করা হয়েছিল অনূর্ধ্ব-১৯ দলের স্কোয়াড। একমাসেরও বেশি সময় তাদের ট্রেনিং, ম্যাচের পারফরম্যান্সের ওপর ভিত্তি করে ২৮ জনের প্রাথমিক স্কোয়াড চূড়ান্ত করেছে বিসিবি। ১ অক্টোবর শুরু হবে তাদের চার সপ্তাহের চূড়ান্ত ট্রেনিং।

স্থানীয় দুই কোচ মেহরাব হোসেন অপি ও তালহা জুবায়েরের তত্ত্বাবধানে প্রাথমিক ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। পরবর্তী ট্রেনিংয়ে যোগ দিচ্ছেন যুব বিশ্বকাপজয়ী দলের কোচ নাভেদ নাওয়াজ। পাশাপাশি ফিটনেস ট্রেনার রিচার্ড স্টনিয়ারও যোগ দেবেন। একমাসের ট্রেনিং সেশনে পাঁচটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবেন ক্রিকেটাররা ১৭, ১৮, ২২, ২৪ ও ২৫ অক্টোবর।যুব দলের প্রধান নির্বাচক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাজ্জাদুর রহমান শিপন। নতুন দল নিয়েও শিপন বেশ আশাবাদী, ‘আমাদের নতুন স্কোয়াড বেশ ভারসাম্যপূর্ণ। স্কোয়াডে ভালোমানের ও বৈচিত্র্যপূর্ণ খেলোয়াড় রয়েছে। এখনই তাদের নিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা এবং বড় কিছুর প্রত্যাশা করা ভুল। আমাদেরকে তাদের তৈরি করতে হবে। তাদের প্রস্তুতিতে শতভাগ সুযোগ-সুবিধা দিতে হবে। তাহলেই তারা প্রতিপক্ষের সঙ্গে ভালো করতে পারবে।’

দুই বছর পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজে আছে আরেকটি যুব বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়নের মর্যাদা নিয়েই এই আসরে খেলতে নামবে বাংলাদেশ। এটা বাড়তি চাপ অবশ্যই। তবে ছেলেদের এসব থেকে দূরে রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। তাদের খেলার উন্নতির দিকেই সবার মনোযোগ।

  ট্রায়াল ম্যাচে সেঞ্চুরি করা রবিন।

যুব দলের নির্বাচক বলেন, ‘শিরোপা যেন আমাদের থাকে সেটাই আমাদের প্রত্যাশা। তবে এখন আমরা ছেলেদের মাথায় এটা ঢুকিয়ে দিচ্ছি না যে প্রত্যাশা এখন চ্যাম্পিয়ন হওয়া। আকবররা একটা ল্যান্ডমার্ক তৈরি করে দিয়েছে। শিরোপা অর্জন করা সম্ভব। তবে এখন তাদের খেলার উন্নতি করতে হবে সবার আগ।’

তবে যুব দলের খেলোয়াড়দের শুধুমাত্র ৫০ ওভারের ক্যারিয়ারের জন্যই তৈরি করা হচ্ছে না। দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেটের মানসিকতায় তাদের তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করলেন শিপন, ‘তারা ৫০ ওভারের বিশ্বকাপে খেলবে বলে শুধু এখানেই চর্চা করবে, এমনটা নয়। তাদেরকে দীর্ঘমেয়াদী ক্রিকেটের জন্যও প্রস্তুত করা হবে। তাদের মানসিকতায় থাকতে হবে সব ধরনের ক্রিকেট।’

২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বকাপের আগে পর্যন্ত সব মিলিয়ে ৩৬ ম্যাচ খেলেছিলেন আকবর-শরীফুলরা। ওয়েস্ট ইন্ডিজে পরবর্তী বিশ্বকাপ পর্যন্ত যুব দলকে ৩০টির বেশি ম্যাচ খেলানোর পরিকল্পনা বিসিবির গেম ডেভেলপমেন্ট বিভাগের। এজন্য কয়েকটি দেশের সঙ্গে আলোচনাও হয়েছে। প্রধান নির্বাচকও জানালেন, ম্যাচ খেলার বিকল্প নেই। শিপন বললেন, ‘ছেলেরা যত খেলবে তত উন্নতি করবে। আমাদেরকে সেই মঞ্চ তাদের প্রস্তুত করে দিতে হবে। এখানে ভালোমানের খেলোয়াড় আছে। তাদের বড় মঞ্চের জন্য তৈরি করতে হবে। তাহলে ভবিষ্যতে দেশের ক্রিকেট লাভবান হবে।’

নভেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে আছে যুব দলের এশিয়া কাপ। সেখানেই প্রথম প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেট খেলবে নতুন গড়া দলটি।

ঢাকা/ ইয়াসিন/ফাহিম

সম্পর্কিত বিষয়:

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়