RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     মঙ্গলবার   ০১ ডিসেম্বর ২০২০ ||  অগ্রাহায়ণ ১৭ ১৪২৭ ||  ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২

তামিমদের হারিয়ে মাহমুদউল্লাহদের নিয়ে ফাইনালে নাজমুলরা

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ২৩:৪৪, ২১ অক্টোবর ২০২০   আপডেট: ১১:৩২, ২২ অক্টোবর ২০২০
তামিমদের হারিয়ে মাহমুদউল্লাহদের নিয়ে ফাইনালে নাজমুলরা

আবু জায়েদ রাহীর লেন্থ বল ড্রাইভ করেছিলেন তামিম ইকবাল। ব্যাট-বলের রসায়ন জমেনি। ব্যাটের আলতো ছোঁয়া পেয়ে বল যায় ইরফান শুক্কুরের হাতে। ফাইনালের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে জয়ের জন্য তখনও বাকি ৮৪ বলে ৬৩ রান।

ব্যক্তিগত ৫৭ রানে তামিমের ফিরে আসার পর সব ওলটপালট হয়ে গেল। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচ হেরে শেষ হলো তামিম ইকবালদের বিসিবি প্রেসিডেন্টস কাপের যাত্রা। বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে নাজমুল একাদশ হারিয়েছে তামিম একাদশকে। ফাইনালে যেতে হলে এ ম্যাচ জিততেই হতো। কিন্তু শেষ হাসি হেসেছে নাজমুলরা। তামিমদের পরাজয়ে মাহমুদউল্লাহ একাদশকে নিয়ে ফাইনালে গেল নাজমুল একাদশ।

মিরপুর শের-ই-বাংলায় আগে ব্যাট করে ৪১ ওভারে নাজমুল একাদশ করে ১৬৫ রান। বৃষ্টি আইনে জয়ের জন্য ১৬৪ রানের টার্গেট পায় তামিমরা। সবকটি উইকেট হারিয়ে তারা করতে পারে ১৫৯ রান।

তামিম আউট হওয়ার পর ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায়। চরম মন্থর গতিতে ব্যাটিং করা ইয়াসির আলী রাব্বী সাজঘরের পথ ধরেন। স্পিনার নাসুমের হাওয়ায় ভাসানো বল জায়গায় দাঁড়িয়ে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন ৩৩ বলে ৬ রান করা রাব্বী। মোসাদ্দেককে (৬) উইকেটের পেছনে তালুবন্দি করান তাসকিন।  

একটা পর্যায়ে বল রানের ব্যবধান দাঁড়ায় ৩০ বলে ৩১। তাসকিনের সপ্তম ওভারে পরপর তিন বলে ডট হওয়ার পর চতুর্থ বলে মেহেদী আউট হন। ডানহাতি পেসারের বাউন্সার থার্ড ম্যান দিয়ে উড়াতে গিয়ে ইমনের হাতে ক্যাচ দেন। ১৮ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে আরো চাপে পড়ে তামিমরা।

কিন্তু মিথুনের এক ছক্কায় তামিমরা আবার ছন্দে ফেরেন। তাসকিনের শর্ট বল মিড উইকেট দিয়ে উড়িয়ে গ্যালারিতে পাঠান এ ব্যাটসম্যান। ১৭ বলে এবার দরকার ২১ রান। সেখান থেকে আকবর আলী ১ রানে তাসকিনের চতুর্থ শিকারে পরিণত হন।

আল-আমিনের পরের ওভারে মিথুন (২৯) ক্যাচ দেন মিড উইকেটে। এরপর আর পেরে উঠেনি তামিমরা। শেষ ওভারে ১৫ রান দরকার ছিল তামিমদের। সৌম্যর প্রথম বলে রান নিতে পারেননি সাইফ উদ্দিন। দ্বিতীয় বলে দুই রান নিতে গিয়ে রান আউট হন মোস্তাফিজ। তৃতীয় বল লং অফ দিয়ে সীমানা পার করেন সৌম্য। চতুর্থ বলে একই চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু ওয়াইড স্লোয়ার বলে বেশিদূর নিতে পারেননি। রিশাদের হাতে বল জমা হতেই উল্লাস শুরু হয়ে যায় নাজমুলদের ড্রেসিংরুমে।

এর আগে লক্ষ্য তাড়ায় তামিমদের শুরুটাও ছিল বাজে। তাসকিনকে পুল করে মিড উইকেটে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফিরেন ৭ রান করা বিজয়। দ্বিতীয় উইকেটে তরুণ অঙ্কনকে নিয়ে তামিম জুটি গড়েছিলেন। তবে ধীর গতিতে এগিয়েছে তাদের ইনিংস। বোলারদের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ে রানের চাকা সচল রাখতে বেগ পেতে হচ্ছিল দুই ব্যাটসম্যানের।

তাদের ৯৪ বলে ৬৮ রানের জুটি ভাঙার নায়ক তাসকিন। তার সরাসরি থ্রোতে অঙ্কনের ৪৫ বলে ২২ রানের ইনিংসটি শেষ হয়। সঙ্গী হারানোর পর তামিম তুলে নেন এবারের আসরের প্রথম অর্ধশতক। সেটি পেতেও বাঁহাতি ওপেনারের খেলতে হয় ৭৭ বল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ইনিংস বড় করতে পারেননি। ম্যাচ শেষ করে আসার সুযোগ থাকলেও বাঁহাতি ওপেনার দায়িত্বশীল ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হন। তাতে আক্ষেপ থাকার কথা ওয়ানডে অধিনায়কেরও। একই সঙ্গে ফাইনালে তাকে দর্শক হয়েই থাকতে হচ্ছে।

এর আগে ব্যর্থতার বৃত্তে বন্দি সৌম্য আজও পারেননি নিজেকে মেলে ধরতে। সাইফ উদ্দিনের অফস্ট্যাম্পের বাইরের বলে আলগা শটে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন ৭ রানে। আরেক বাঁহাতি ওপেনার ইমন দুই অঙ্ক ছোঁয়ার পর মেহেদীকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে ক্যাচ দেন। অধিনায়ক নাজমুল হাসান শান্ত হতাশ করেন দৃষ্টিকটু শটে আউট হয়ে। মোস্তাফিজুর রহমানের প্রথম বলে বিজয়ের হাতে ক্যাচ দেন লং অনে। টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ২৫ রান তুলতেই নেই টপ অর্ডারের তিন ব্যাটসম্যান।

চতুর্থ উইকেটে দলের হাল ধরেন মুশফিকুর রহিম ও আফিফ হোসেন ধ্রুব। একদিন আগেই তারা গড়েছিলেন ১৪৭ রানের জুটি। বোঝাপাড়া ভালো হওয়ায় এবারও দলকে বিপদ থেকে বাঁচান দক্ষ হাতে। ১২৪ বলে এবার তারা করেন ৯০ রান। শুরুটা মন্থর গতিতে হলেও পরবর্তীতে আগ্রাসন দেখিয়ে ব্যাট-বলের ব্যবধান কমিয়ে আনেন। তাদের জুটির মাঝেই হানা দেয় বৃষ্টি। তাতে ওলটপালট হয় ছন্দ।

বৃষ্টির কারণে খেলা বন্ধ ছিল ২ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট। বৃষ্টির পর মুশফিক হাফসেঞ্চুরি তুলে নেন ৭৪ বলে। কিন্তু ইনিংস বড় করতে পারেননি। সাইফকে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ ফাইন লেগে ক্যাচ দেন ৫১ রানে। মেহেদী হাসানকে স্কুপ করতে গিয়ে আফিফ ৪০ রানে মুশফিকের পথ অনুসরণ করেন।

এরপর শুরু হয় সাইফ উদ্দিনের আগুনে বোলিং। মাত্র ১৫ বলে ৫ রান দিয়ে ডানহাতি পেসার তুলে নেন ৩ উইকেট। সব মিলিয়ে ২৬ রানে ৫ উইকেট নিয়ে নাজমুল একাদশকে ১৬৫ রানে গুটিয়ে দেওয়ার কৃতিত্বটা তার।

বল হাতে ৫ উইকেট নিয়ে সাইফ উদ্দিন পেয়েছেন সেরা বোলারের পুরস্কার। লো স্কোরিং ম্যাচে ৩৬ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হন তাসকিন আহমেদ। সেরা ব্যাটসম্যান হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। সেরা ফিল্ডার তামিম ইকবাল।

শুক্রবার দুপুর দুইটায় নাজমুল একাদশ ও মাহমুদউল্লাহ একাদশ টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলবে মিরপুরেই।

ঢাকা/ইয়াসিন/আমিনুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়