RisingBD Online Bangla News Portal

ঢাকা     শনিবার   ২৩ জানুয়ারি ২০২১ ||  মাঘ ৯ ১৪২৭ ||  ০৭ জমাদিউস সানি ১৪৪২

খুলনাকে হারিয়ে রাজশাহীর দুইয়ে দুই

ক্রীড়া প্রতিবেদক || রাইজিংবিডি.কম

প্রকাশিত: ১৭:১২, ২৬ নভেম্বর ২০২০   আপডেট: ১৮:০০, ২৬ নভেম্বর ২০২০
খুলনাকে হারিয়ে রাজশাহীর দুইয়ে দুই

শামীম পাটোয়ারির জোরের ওপর বলটা লেট কাট করলেন মোহাম্মদ আশরাফুল। বল সীমানা পার হওয়ার আগেই মিনিস্টার গ্রুপ রাজশাহী শিবিরে উল্লাস।

‘বঙ্গবন্ধু টি-টোয়েন্টি কাপ স্পন্সরড বাই ওয়ালটন’- এ টানা দুই জয় তুলে রাজশাহী এখন উড়ছে। বৃহস্পতিবার তারা ৬ উইকেটে হারিয়েছে টুর্নামেন্টের হট ফেভারিট জেমকন খুলনাকে। মিরপুর শের-ই-বাংলায় আগে ব্যাটিং করে খুলনা ৬ উইকেটে ১৪৬ রান তুলে। জবাবে রাজশাহী ১৬ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে নোঙর ফেলে। ব্যাট বলের দাপটে খুলনাকে স্রেফ উড়িয়ে দিয়েছে রাজশাহী।

খুলনার শক্তিশালী টপ অর্ডার আবারও ব্যর্থ। প্রথম ম্যাচের মতো ইমরুল এ ম্যাচেও রানের খাতা খুলতে পারেননি। স্পিনার মেহেদী হাসানকে স্লগ করতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন। মুগ্ধকে পরপর দুই বাউন্ডারি মেরে সাকিব ভালো শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। কিন্তু ডানহাতি পেসারের শর্ট বল মিড উইকেট দিয়ে উড়াতে গিয়ে ১২ রানে ক্যাচ দেন। এনামুল হক বিজয় ২৪ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান তুলে মেহেদীর সরাসরি থ্রোতে রান আউট হন। জহুরুল ইসলাম অমি (১) মুগ্ধর বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ (৭) আরাফাত সানির বলে ফিরতি ক্যাচ দেন।

৫১ রান তুলতেই ৫ উইকেট নেই খুলনার। শেষ ম্যাচে ৭৮ রানে তারা হারিয়েছিল ৫ ব্যাটসম্যান। এবারও তাদের ত্রাণকর্তা আরিফুল। সঙ্গে ছিলেন শামীম হোসেন। উইকেটে এসে প্রতি আক্রমণ করা শুরু করেন বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। আরিফুল মন্থর শুরু করে পরে আগ্রাসন বাড়ান।
দূর্বার শামীম ৩ চার ও ২ ছক্কায় দ্রুত ৩৫ রান তুলে নেন। তার ইনিংসটি শেষ হয় ইবাদত হোসেনের শর্ট বলে। ডানহাতি পেসারের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দেন। আরিফুল টিকে ছিলেন শেষ পর্যন্ত। পেসার মুগ্ধকে ১৯তম ওভারে লং অন ও অফ দিয়ে দুইটি ছক্কা হাঁকান। শেষ ওভারে শহীদুল উইকেটের পেছনে দুইটি বাউন্ডারি মেরে দলকে এনে দেন লড়াকু পুঁজি। সপ্তম উইকেটে আরিফুল-শহীদুল ৪৬ রানের জুটি গড়েন। শহীদুল ১২ বলে ১৭ ও আরিফুল ৩১ বলে ৪১ রান করে অপরাজিত থাকেন।

লক্ষ্য তাড়ায় দলকে ভালো শুরু এনে দেন অধিনায়ক শান্ত। দ্বিতীয় ওভারে শফিউলকে মিড উইকেট দিয়ে উড়ানোর পর কভার ড্রাইভে হাঁকান বাউন্ডারি। আল-আমিনকেও পরের ওভারে লং অন দিয়ে বিশাল ছক্কা হাঁকান। একই ওভারে ইনসাইড আউট শটে পেয়ে যান বাউন্ডারি।
প্রথম ম্যাচে দ্যুতি ছড়ানো ইমন এবার ভালো করতে পারেননি। ৫ বলে ২ রান করে আল-আমিনের বলে মাহমুদউল্লাহর হাতে ক্যাচ দেন। দ্বিতীয় উইকেটে রনি তালুকদার ও ম্যাচ সেরা নির্বাচিত হওয়া শান্ত ৪৭ রানের জুটি গড়েন। শান্ত (৩৪ বলে ৫৫) ও রনি (২০ বলে ২৬) আগ্রাসন দেখাতে গিয়ে সাজঘরে ফিরলেও তাদের জয় পেতে সমস্যা হয়নি।

পাঁচে নেমে আশরাফুলের ওপর চাপ কমান ফজলে রাব্বী। শফিউলকে মাথার উপর দিয়ে চার মারার পর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান লেগ স্পিনার রিশাদকে দুইটি ছক্কা মারেন। ম্যাচ জিতিয়ে আসতে না পারলে ফজলে রাব্বীর ব্যাট থেকে আসে ২৪ রান।

আশরাফুল প্রথম ম্যাচে ভালো করতে না পারলে আজ দ্যুতি ছড়িয়েছেন। সাকিবকে কভার দিয়ে দারুণ একটি বাউন্ডারি হাঁকান। একই ওভারে পয়েন্ট ও শর্ট থার্ড ম্যান অঞ্চল দিয়ে আরেকটি বাউন্ডারি পান। ২২ বলে ৩ বাউন্ডারিতে ২৫ রান আসে তার ব্যাট থেকে। কাজী নুরুল হাসান সোহান ৭ বলে ১১ রান করে আশরাফুলের সঙ্গে অপরাজিত থাকেন।

ঢাকা/ইয়াসিন/কামরুল

সর্বশেষ

পাঠকপ্রিয়